Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার , ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সাবেক ও বর্তমান মালিকের দ্বন্দ্ব জেলহাজতে ভাড়াটে মালিক

নরসিংদীতে মিলের নিরাপত্তা চেয়ে ডিসির নিকট আবেদন

সরকার আদম আলী, নরসিংদী থেকে : | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৩৪ এএম

নরসিংদীতে মোল্লা স্পিনিং মিল নামে বহুল আলোচিত একটি সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে সাবেক ও বর্তমান মালিকের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। দুই মিল মালিকের ব্যক্তিগত মালিকানার আইনি দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে গ্রেফতার হয়েছে ভাড়াটে মিল মালিক প্রবাসী আতাউর রহমান। আর এই সুযোগ নিয়ে সাবেক মালিক আব্দুল মতিন মোল্লা মিল দখলের পাঁয়তারা করছে। এই অবস্থায় মিলের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও শত শত শ্রমিক কর্মচারীর নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জানিয়েছে ভাড়াটে মালিক আতাউর রহমানের বড় ভাই মতিউর রহমান। আর এই ঘটনায় নরসিংদীর বিশাল শিল্পাঙ্গনের হাজার হাজার মালিক শ্রমিক জনতার মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, আব্দুল মতিন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি ২০০২ সালে ব্যাংক থেকে ৩০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুরি নিয়ে ২৪ কোটি টাকা উত্তোলন করে মোল্লা স্পিনিং মিল নামে হাতে সুতা তৈরি কারখানাটি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে মিলটি চালাতে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল মতিন মোল্লা ২০০৫ সালে ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তির নিকট মিলটি বিক্রি করে দেন। আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া দীর্ঘ আট বছর পরিচালনা করার পর ২০১৩ সালে রেজিস্ট্রি চুক্তিমূলে সুইডেন প্রবাসী আতাউর রহমানের নিকট ১০ বছরের জন্য ভাড়ায় দিয়ে দেন। প্রবাসী আতাউর রহমান চুক্তির শর্তানুযায়ী সুইডেন বাংলা স্পিনিং মিল নাম দিয়ে মিলটি চালনা করতে থাকে।

এরই মধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে সাবেক মালিক আব্দুল মতিন মোল্লাকে মিলের চেয়ারম্যান উল্লেখ করে বকেয়া ঋণ পরিশোধের চিঠি দেয়। এই চিঠি পেয়ে সাবেক মালিক আব্দুল মতিন মোল্লা পুনরায় মিলের মালিকানা দাবি করতে থাকে। এ নিয়ে মিলের মালিক আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া ও সাবেক মালিক আব্দুল মতিন মোল্লার মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এই দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্টি হয় বহুসংখ্যক মামলা হামলার ঘটনা। এরইমধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মিলের যন্ত্রাংশ বিক্রি করে দিয়েছে অভিযোগ এনে ভাড়াটে মালিক আবাসে আতাউর রহমানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

নরসিংদী থানা পুলিশের তদন্তে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় থানা কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুনরায় আপিল করলে আদালত মামলাটি পুন:তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করে সিআইডি পুলিশকে। তদন্তের প্রারম্ভেই ভারতের মালিক আতাউর রহমানকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনার পর আব্দুল মতিন মোল্লা তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মিলটি পুনরায় দখলে নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এই অবস্থায় মিলের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রক্ষাসহ মিলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে। যেকোনো সময়ে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে আবেদনকারী মতিউর রহমান।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন