Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজন আসতে শুরু করেছে

পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৪২ পিএম

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে পটুয়াখালী জেলার সর্বত্র গুমোট আবহাওয়া সহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে।গতকাল দিনভর গুড়ি বৃষ্টির পর মধ্যরাত থেকে একটানা বর্ষণ শুরু হলেও আজ সকাল থেকে থেমে থেমে মাঝারী ভারী বৃষ্টি চলছে। 

এ দিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারী হওয়ার পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় চরাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোড় চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ লোকজনই আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে কিছুটা অনীহা প্রকাশ করছে। সাগর তীরবর্তী লোকজন প্রকৃতির সাথে লড়াই করতে করতে অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় অনেকেরই মধ্যে সাইক্লোন সেল্টারে একেবারে চরম পর্যায় না পৌছা পর্যন্ত যেতে অনীহার মূল কারণ।বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী থেকে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরহালিমের বসবাসকারী ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার মো: নুরুল আমীন জানান,তাদের এলাকার লোকজন পানি,ঝড়ের সাথেই বসবাস দিনের বেলায় তাদের ভয় কম,এই কারনে লোকজন এখন সাইক্লোন সেল্টারে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে। রাতের বেলায় লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসবে।তার এলাকায়১৬ টি সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুল রয়েছে,্এখন কিছু সংখ্যক লোক আশ্রয় নিয়েছে।

এ দিকে ঘূর্নিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সবচেয়ে বেশী ঝুকির মধ্যে থাকা কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো: শওকত হোসেন বিশ্বাস জানান,নেওয়াপাড়া থেকে পশরবুনিয়া পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার ভেড়ীবাধহীন এলাকার কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ হাজার লোকের ,দীর্ঘবছর পর্যন্ত ভেড়ীবাধহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে ঐ এলাকা। এলাকায় ৯ টি সাইক্লোন সেল্টার রয়েছে, এতে সর্বোচ্চ ৭ হাজার লোক আশ্রয় নিতে পারবেন।আজ দুপুর ১ টা পর্যন্ত সিমীত আকারে লোকজন আশ্রয় নিয়েছেন ,প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকজন কে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার জোড় চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তিনি আশা করেন সন্ধ্যার মধ্যে সব লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসতে পারবেন।

এ দিকে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মুনিবুর রহমান জানান,কলাপাড়ার ১৫৩ টি সাইক্লোন সেল্টারে ইতোমধ্যে ১০ হাজারে বেশী লোকজন আশ্রয় নিয়েছেন বাকীদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার জোড় চেষ্টা চলছে।

এদিকে বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসফাকুর রহমান জানিয়েছেন,তার এলাকার ৫৮ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রায় তিনহাজার লোক আশ্রয় নিয়েছেন,লোকজন ইতোমধ্যে জেনেছেন সন্ধ্যার পরে ঝড় আঘাত হানতে পারে তাই তারা বিকেলের দিকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসবে।তবে এখন মাত্র ভাটা শুরু হয়েছে সন্ধ্যার দিকে পুরো ভাটা থাকবে।জোয়ারের সময় থাকলে ঝড় শুরু হলে জলোচ্ছাসের পরিমান বৃদ্ধি পায়। তখন বেশী ক্ষতি হয়। তিনি জানান আজও আগুনমুখা নদীতে এ দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়া উপক্ষো করে মাছধরারত কমপক্ষে ৫০ টি মাছ ধরা নৌকার জেলেদেরকে নদী থেকে জোড় করে উঠিয়ে দিয়েছেন তারা।

এ দিকে পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা থেকে আজ দুপূর ১২ টা পর্যন্ত ৪০.৮ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঘূর্ণিঝড় বুলবুল


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ