Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

আশ্রয় কেন্দ্রে সাতক্ষীরা উপকূলের লাখো মানুষ, সেনা নিয়োগ

সাতক্ষীরা থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৫:৪৩ পিএম

সাতক্ষীরা উপকূলে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও জানমালের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌ বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সাথে সেনাবাহিনীও উপকূলীয় এলাকায় শনিবার রাত থেকেই কাজ শুরু করেছে।
এদিকে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা উপকূলের এক লাখ ২ হাজার মানুষকে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির মাধ্যমে দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা ও পদ্মপুকুরের মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে বহনের জন্য চারটি বাস ও অন্যান্য যানবাহন নিয়োজিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া সাতক্ষীরার স্থানীয় সরকারে উপপরিচালক হুসাইন শওকত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বদিউজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এমএম মাহমুদুর রহমান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাইদ জেলার সাতটি উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনসহ সাইক্লোন সেন্টারে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন ও সাধারণ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদারকি করছেন।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, দুর্যোগে সাতক্ষীরার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও জানমালের নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ডিডিএলজিসহ চারজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে সাধারণ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত এক লাখ ২ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যার পরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সম্ভাব্য আঘাত মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর ১০০ সদস্যের একটি টিম উপকূলীয় এলাকায় নিয়োজিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারির পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে সাইক্লোন শেল্টারে আনা হচ্ছে। যদিও দুর্যোগ সতর্কতা সংকেত জারি ও মাইকিং করে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার আহবান জানানো হলেও প্রথমে সাধারণ মানুষ ততটা সাড়া দেয়নি।
এদিকে, টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার, শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আতাউল হক দোলন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সীগঞ্জসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে সাইক্লোন সেল্টারে নেওয়ার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
উপকূলীয় এলাকায় অনবরত চলছে মাইকিং। প্রতিটি এলাকায়ই তোলা হয়েছে সতর্কতামূলক ফ্লাগ।
অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী শুক্রবার থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে উপকূলীয় শ্যামনগরে ও আশাশুনিতে বেশ দমকা বাতাসও বইছে।
তবে, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরার গাবুরা, হরিশখালী, নাপিতখালী, জেলেখালী, বুড়িগোয়ালীনির দুর্গাবটি পোড়াকাটলা, ভামিয়া ও দুর্গাবাটি এলাকার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া কৈখালীর বিভিন্ন অংশ এবং কাশিমাড়ী ও দাতিনাখালীসহ পদ্মপুকুরের কয়েকটি অংশের বাঁধের দুরাবস্থাও চরমে। বাঁধ ভেঙে জলোচ্ছ্বাসের আশংকায় রয়েছে এলবাবাসী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঘূর্ণিঝড় বুলবুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ