Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

অন্ধকারের সাথে সাথে বাড়ছে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা

খুলনা ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৬:০৫ পিএম

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বেড়েছে বৃষ্টি। একই সঙ্গে বইছে ঝড়ো হাওয়া। চারপাশ অন্ধকার হয়ে এসেছে। বাতাসের কারণে নদীতে বড় বড় ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে। বেড়েছে পানির উচ্চতা। চারদিকে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা।

আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে বলা হচ্ছে খুলনার উপকূলের বাসিন্দাদের। চলছে মাইকিং। তবে ঝুঁকিপূর্ণ অনেক এলাকাবাসী শনিবার সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছে না। তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে চেষ্টা করছে স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় প্রশাসন।
মহাবিপদ সংকেত জারির পরও আশ্রয় কেন্দ্রে যায়নি উপকূলের স্থানীয় লোকজন। তাদের জোর করে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সিডর-আইলাসহ বিভিন্ন দুর্যোগের কবলে পড়া এসব এলাকার সাধারণ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধে দিন কাটিয়েছেন আতঙ্কে। ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হলে বাড়িঘর, ফসল, মাছের ঘের ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
দাকোপ উপজেলার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে আতঙ্কিত উপকূলীয় প্রায় সব মানুষ। কিন্তু আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছেন না উপকূলের বেশির ভাগ মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা উপজেলার বানিশান্তার আমতলা আশ্রয়কেন্দ্রে কিছু অসহায় পরিবারের সদস্যরা আশ্রয় নিয়েছেন। এ খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
যারা আশ্রয় কেন্দ্র যেতে চাচ্ছেন না তারা বলেন, আশ্রয় কেন্দ্র গেলে ঘর-বাড়িতে চুরি হতে পারে। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্র থাকতে ও খেতে অসুবিধা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি হওয়ার পরও আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছে না অনেকে। বিশেষ করে শহর এলাকার মানুষজন। তবে বিভিন্ন উপজেলার কিছু দুর্গম এলাকার মানুষজন সাইক্লোন শেল্টারে যেতে শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। আবার অনেকে সন্ধ্যার দিকে যাবেন বলে জানিয়েছেন। কেউ কেউ গবাদি পশু সাইক্লোন শেল্টারে রেখে যাচ্ছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন খুলনা সদা জাগ্রত ভূমিকায় রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় খুলনায় ৩৪৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও নয়টি উপজেলায় মোট ১০টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্থানীয় মানুষকে সচেতন করার জন্য দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় দুপুর থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সাইক্লোন পিপাডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি) এর কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন।
এদিকে, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খুলনা জেলা ও সিটি ইউনিটির আয়োজনে দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।
সভায় জেলা প্রশাসক হেলাল বলেন, মোংলা বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বালা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ রাত আটটায় খুলনা উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। খুলনা জেলার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা ও রূপসা উপজেলার কিছু এলাকা ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকায় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সব সাইক্লোন শেন্টার প্রস্তুত রয়েছে এবং সাধারণ জনগণ এ সেন্টারে আসতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হচ্ছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, নগদ অর্থ, ওষুধ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন দেশের এ দুর্যোগের সময় সরকারের পাশাপাশি সবাইকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
সভায় জানানো হয়, অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রায় ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কায় উদ্ধার ও ত্রাণ কাজের জন্য অন্যান্য জাহাজসহ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শনিবার বিকালে কোস্টগার্ড মোংলা স্টেশনের কন্ট্রোল রুম থেকে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ শনিবার সন্ধ্যায় খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে পারে-এমন সম্ভাবনায় খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও বরগুনাসহ উপকূলীয় জনপদে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য খুলনার নৌঘাঁটি তিতুমীরে পাঁচটি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে মোংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বলেন, মোংলা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষর পক্ষ থেকে এমটি সুন্দরবন, এমটি শিবসা ও এমটি অগ্নিপ্রহরী নামে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবলোয় ‘সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষর কেন্দ্রীয় একটি সহ দুইটি সাব কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।’
এছাড়া কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে-কামরুজ্জামান, মুনসুর আলী, স্বাধীন বাংলা, সোনার বাংলা ও অপারেজয় বাংলা নামে পাঁচটি উদ্ধারকারী জাহাজ বলে জানান তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঘূর্ণিঝড় বুলবুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ