Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

বুলবুল আতংকে দক্ষিণাঞ্চল আশ্রয় কেন্দ্রে ৩লক্ষাধীক মানুষ

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৬:১৬ পিএম

ভরা জোয়ারে ভড় করে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ প্রায় ১২৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার বেগে শনিবার মধ্য রাতের মধ্যেই সুন্দরবন উপকূল থেকে বলেশ্বর ও রাবনাবাদ চ্যানেল হয়ে তেতুলিয়া মোহনা পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানার লক্ষে ঘন্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে এগুচ্ছিল। কুয়াকাটা, পাথরঘাটা, পুরাকাটা, চরমোন্তাজ, ঢালচর, চর কুকরি-মুকরি, চর কচ্ছপিয়া, রাংগাবালি সহ দক্ষিণ উপক’ল যুড়েই দরুন উৎকন্ঠা-উদ্বেগ কাজ করছে। বিকেল ৫টায় গলাচিপা ও পায়রা বন্দর এলাকায় জোয়ার শুরু হয়েছে। যা রাত ১২টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বুরবুল যদি পূর্ণ জোয়ারে আঘাত হানে তবে তার তীব্রতা ও ক্ষতির পরিমান বাড়বে। তবে বঙ্গোপসাগরে সিবসা মোহনায় জোয়ার শুরু হয়েছে দুপুর ৩টায়। রাত ১১টার আগে ঐ পয়েন্টে জোয়ারের তীব্রতা শেষ হয়ে যাবে। তবে শণিবার বিকেল থেকে সন্ধায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপক’লে জোয়ার কবলিত এলাকায় নদ-নদীর পানির উচ্চতা অন্য দিনের তুলনায় এক থেকে দেড় ফুট বেশী ছিল।

বুলবুল-এর আশংকায় শণিবার আরেকটি আতংকিত রাত কাটছে উপকুলের কোটি মানুষের। এঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার দিনভর হালকা বৃষ্টিপাতের তীব্রতা শণিবার সকাল থেকে আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। দুপুরের পর থেকে গোটা উপকুলভাগেই ভারি বৃষ্টিপাতে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পরে । সাথে বেশীরভাগ এলাকাতেই বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ হয়ে যায়।

শুক্রবার সন্ধা থেকেই সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের নৌযোগাযোগও বিপর্যয়ের কবলে। শণিবার সব ধরনের নৌযোগাযোগ বন্ধ ছিল। শুক্রবার রাতে বরিশাল,পটুয়াখালী ও ভোলা থেকে কিছু যাত্রীবাহী নৌযান ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে গেলেও ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চল মুখি কোন নৌযান ছাড়েনি। বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ‘পিএস মাহসুদ’ জাহাজটি শুক্রবার সন্ধায় বরিশালে থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি ভোলা-লক্ষ্ণীপুর, বরিশালÑভোলা ও শরিয়তপুরÑচাঁদপুর ফেরি সার্ভিসও শুক্রবার সন্ধায় বন্ধ করে দেয়া হয়। শণিবার সকালের পূর্ববর্তি ২৪ঘন্টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়াতে প্রায় ৮০ মিলিমিটার ও বরিশালে ২৬ মিলি বৃষ্টি হয়। কিন্তু শণিবার সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত বরিশালে বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল ৩০ মিলিমিটার। সন্ধা ৬টা পর্যন্ত আরো ১৮ মিলিমিটিার বৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার একটি উৎকন্ঠার রাত কাটিয়ে শণিবার দিনভরই বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা ও পিরোজপুরের কোটি মানুষের মধ্যে বুলবুল-এর উদ্বেগ বাড়তে থাকে। সন্ধার পর থেকে আতংক অঅরো বেড়েছে। দুপুরের পর থেকে গোটা দক্ষিণাঞ্চলের আকাশ যুড়ে কালো মেঘ আর বৃষ্টির সাথে সন্ধার অন্ধকার নেমে আসে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘ঘূণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী’র প্রায় ৫৫ হাজার নারী-পুরুষ সেচ্ছাসেবক উপক’লের ১৩টি জেলার ৪১টি উপজেলায় সাড়ে ৩ শতাধীক ইউনিয়নে শুক্রবার দুপুর থেকেই বুলবুল-এর আগাম সতর্কবার্তা প্রচার শুরু করে। উপক’লের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ এলাকায় শুক্রবার দুটি ও শণিবার ৩টি লাল-কালো পতাকা উড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে বার্তা দেয়া হয়। সাথে মেগাফোন ও সাইরেন বাজান ছাড়াও মাইকযোগেও প্রচারনা চালান হয়। শণিবার সকাল থেকে উপকুলের প্রায় ৫ হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে ঝুকিপূর্ণ এলাকার লক্ষাধীক নারী-পুরুষ শিশুকে সরিয়ে নেয়া হয়। শণিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত পপ্রায় ৩লাখ নারীপুরষ ও শিশুকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে বলে দায়িত্বমীল সূত্রে বলা হয়েছে। সন্ধার মধ্যে আরো অন্তত ২লাখ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার লক্ষে কাজ করছে বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সহ সিপিপি’র সেচ্ছাসেবকগন।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় বরিশাল,পটুয়াখালী,ভোলা,বরগুনা,পিরোজপুর ও ঝালকাঠী দূর্যোগ মোকাবেলা কমিটি একাধীক সভা করে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নারী ও শিশু সহ অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের আশ্রয় দেয়া সহ তাদের খাবার সরবারহের বিষয়টি মনিটরিং করে। বিদ্যুৎ বিভাগ সহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোও নিয়ন্ত্রন কেন্দ্রে চালু করে পরিস্থিতি মনিটরিং করছে।

তবে শণিবার সন্ধায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সমগ্র উপক’লভাগ সহ দক্ষিণাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের ছোবল খুব একটা শুরু না হলেও আবহাওয়া ছিল যথেষ্ঠ দূর্যোগপূর্ণ। এঝড়ে কাঁচা ঘর সহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে মারাত্মক দুঃশ্চিন্তা কাজ করছে। এবার দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষে কৃষকগন ৭ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন-এর আবাদ করেছে। আবাদকৃত এসব ধানের বেশীরভাগেই এখন থোর এসেছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের ছোবলে বেশীরভাগ ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আশংকায় কৃষকগন। এতে উৎপাদিত ধানে চিটা সহ ফলন বিপর্যয়ের শংকায় কৃষকদের দুঃশ্চিšতা বাড়ছে। সাথে শীতকালীন আগাম শাক-সবজির ক্ষতিও মারাত্মক আকার ধারন করবে বলে শংকিত কৃষকগন ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঘূর্ণিঝড় বুলবুল


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ