Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

ভারতের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ এখন বন্দিশালা

গোলটেবিল বৈঠকে আনু মুহাম্মদ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

ভারত যখন যা ইচ্ছে করছে বাংলাদেশ তাই মেনে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহম্মদ। তিনি বলেন, ভারতের স্বার্থে দেখে ফেনী নদীর পানি চুক্তি করা হয়েছে বললেই প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন তথ্যপ্রমাণ ছাড়া অভিযোগ না করতে। সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কেন জাতীয় স্বার্থবিরোধী, তথ্য-প্রমাণসহ বহুদিন ধরে সেকথা আমরা বলে আসছি। তিনি কর্ণপাত করেননি। গতকাল শনিবার পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে বামজোটের এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ভারত যা ইচ্ছা প্রকাশ করছে, বাংলাদেশ তাই মেনে নিচ্ছে। সর্বোপরি বাংলাদেশ একটি বন্দিশালায় পরিণত হয়েছে ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে।

বামজোট আয়োজিত ‘শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদীর মধ্যকার চুক্তি ও সমঝোতা: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাডার স্থাপনে সমঝোতা স্বাক্ষরের সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, এতদিন তিনদিকে ছিল কাঁটাতার। এখন সমুদ্র উপকূল নিয়ন্ত্রিত হবে ভারতের রাডার দিয়ে। উপকূলীয় অঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। মার্কিন ‘ওয়ার অন টেরর’ বুলিকে অবলম্বন করে ভারত সারা দক্ষিণ এশিয়ায় যে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে, তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ একের পর এক সামরিক চুক্তি করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পেশাদারিত্ব, কূটনৈতিক দক্ষতা-অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করা যায়। কিন্তু সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই যদি হয় ভারতের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকা, তাহলে রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিবর্তন ছাড়া জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সম্ভব না।

দেশের বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারত সহযোগিতা করেছে তার জন্য আমরা ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ। তার মানে এই না ভারত যা চায় যুক্তি-চিন্তাহীনভাবে সব দিয়ে দিতে হবে। ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নামে রিলায়েন্স, আদানীর মত কর্পোরেটদের স্বার্থে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেয়া হচ্ছে।

বামজোটের সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতনের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন খালেকুজ্জামান, সাইফুল হক, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, মোশাররফ হোসেন নান্নু, মোশরেফা মিশু, ফয়জুল হাকিম প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ