Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার , ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১ পৌষ ১৪২৬, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

কুমিল্লায় ট্রাকের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৩ আহত ৫

চান্দিনা উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১০ নভেম্বর, ২০১৯, ১০:৫২ এএম | আপডেট : ১২:২০ পিএম, ১০ নভেম্বর, ২০১৯

কুমিল্লায় ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী মাইক্রেবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন ধরে শিশুসহ ৩ যাত্রী নিহত হয়েছেন। দগ্ধ হয়েছেন আরও ৫ জন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার দেবিদ্বার উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে শিশু রবজা নগরীর অশোকতলা এলাকার মকবুল হোসেনের মেয়ে এবং সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে ইউসুফ। আহতরা হলেন- নিহত শিশু রবজার মা হালিমা বেগম (৪৫), কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকার আবুল কাশেম (৫০), জসিম উদ্দিন (৪৮), সজিব (২০), সদর দক্ষিণ উপজেলার ধনপুর এলাকার দুলাল মিয়া (৪৫) ও বলরামপুর এলাকার মজনু মিয়া (৫০)।তবে নিহত অপর জনের নাম ও পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, চান্দিনা থেকে মাইক্রোবাসটি ময়নামতি আসছিল। পথিমধ্যে মহাসড়কের দেবিদ্বার উপজেলার গোবিন্দপুর স্টেশনে যাত্রী উঠানোর জন্য থামে। এসময় পেছেন থেকে একটি বাস ধাক্কা দিলে মাইক্রোবাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। সাথে সাথে অপর একটি ট্রাক মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিলে গাড়িটি মহাসড়কের উপরে উল্টে যায় এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণে মাইক্রোবাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ার হোসেন, কামরুল ইসলাম জানান, এই মহাসড়কে থ্রিহুইলার নিষিদ্ধ হওয়ার পর পুরাতন মাইক্রোবাস ও মারুতি গাড়ি লোকাল যাত্রী যাতায়াত করা হয়। ওই মাইক্রোবাসটি চান্দিনা বাস স্টেশন থেকে ময়নামতি রুটে চলাচল করতো। যাত্রীদের অধিকাংশই চান্দিনার একটি মাহফিল শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

চান্দিনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার সফিক উদ্দিন মুন্সি বলেন, আমরা ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই এবং শিশুসহ তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করি। এর আগে আরও ২জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন জানান, দগ্ধ হালিমা, আবুল কাশেম ও জসিম উদ্দিনকে এ হাসপাতালে আনার পর তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে হালিমার ৫০ শতাংশ, আবুল কাশেমের ৩৫ শতাংশ এবং জসিম উদ্দিনের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। এদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা জানান, সজিব ও মজনু নামের ২ জনকে এ হাসপাতালে আনার পর তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ ময়নামতি ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আলমগীর হোসেন জানান, দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি উদ্ধার করে ডাম্পিংয়ে নেওয়া হয়েছে, ট্রাক ও বাস চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় দেবিদ্বার থানায় মামলা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সড়ক দুর্ঘটনা


আরও
আরও পড়ুন