Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

কলাপাড়ায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

নেছারাবাদে প্রায় পাঁচশত কোটি টাকার ক্ষতি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘূর্নিঝড় বুলবুলের প্রভাবে এক জেলে ও এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে পূর্বধানখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে গিয়ে মোসা.সুফিয়া বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মুত্যু হয়। এছাড়া গত শুক্রবার (০৮ নভেম্বর) সকাল সাতটায় গত গভীর সমুদ্র থেকে ট্রলার নিয়ে ফেরার পথে ঢেউয়ের তোরে পরে গিয়ে বেলাল (৪০) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দু থেকে তিন ফুট উচ্চতার জোয়ারে উপজেলার ১০টি গ্রাম ও চরাঞ্চল প্লাাবিত হয়েছে। এছাড়া পূর্বের বিধবস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে। ৫ হাজার ১২০ হেক্টর জমির আমন ও সবজির ক্ষতি হয়েছে। পৌরশহর সহ উপজেলায় চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে শনিবার রাত ১১ টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের ভাংগা বেড়ি বাঁধ থেকে জোয়ারের পানি ঢুকে পাঁচটি গ্রামের অন্ততঃ শতাধিক পরিবার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার আ. মান্নান জানান, এসব ফসলি জমির পানি দ্রæত নামালো হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কম হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্থ এসব কৃষকদের রবি মৌসুমে উচ্চ প্রনোদনাসহ কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হলে ঘুরে দাড়াতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. অলিউজ্জামান জানান, কলাপাড়ার ডাবলুগজ্ঞের রসুলপূররে দুই কিলামিটার বড়িবাধ ক্ষতিপ্রস্থ হয়েছে। অপরদিকে পূবের ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে কলাপাড়া লালুয়ায় ১৫টি এবং রাঙ্গাবালির চালিতাবুনিয়ায় চারটি গ্রামের বসতভিটাসহ কয়েকশ একর ফসলী জমি পানির নিচে তলিয়ে আছ।
এদিকে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া মানুষ বাড়ি ফিরে গেছেন।
কলাপাড়া পৌর শহরের সরকারী খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া সুমা (২৬), সবুরজান (৪৫), জান্নাতী (২৫), রিজিয়া বেগম (৩৮) এবং লালুয়ার নুর জাহান (৬৫) জানান, রাতে তাদের সামান্য মুড়ির সাথে বিস্কুট দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুব সামান্য। এছাড়াও সারারাতে তাদের কোন খোঁজ নেয়া হয়নি।
কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবাায়ন অফিসার তপন কুমার ঘোষ জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। পর্র্যাপ্ত খাবার সরবারহ করা হয়েছে। হয়ত দেরি করে যারা এসেছে তারা খাবার পাননি।
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা
ঘুর্নিঝড় বুলবুল’র তাÐবে নেছারাবাদে প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত ও নারী পুরুষসহ তিনজন আহত হয়েছে। রোববার বেলা ১২ টায় শুরু হয়ে আধাঘন্টাব্যাপি ঝড়ের তাÐবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক গাছপালা পড়ে পাচ শতাধিক আধাপাকা ও কাচা ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত হয়। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গোটা উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা।
ঘুর্নিঝড় বুলবুল এর প্রভাবে শুক্রবার সকাল থেকে উপজেলায় হালকা থেকে মাঝারী গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। পরদিন শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাতভর মুসলধারে বৃষ্টি শুরু হয়ে রোববার সকাল এগারটা পর্যন্ত হালকা থেকে মাজারি ধরনের বাতাস বয়ে যাচ্ছিল। এরপর ওই দিন দুপুর ১২ টায় মুষলধারে বৃষ্টিসহ জড়ো ধমকা হাওয়া দিয়ে শুরু হয় বুলবুলের তান্ডব। এতে আধাঘন্টার মধ্যে লন্ডবন্ড হয়ে যায় গোটা উপজেলা। প্রচুর গাছপালা উপড়ে, ভেঙে পড়ে। ঝড়ে উপজেলার হরিহরকাঠি গ্রামের চান মিয়ার হাত ও ব্যাসকাঠি গ্রামের কবির শেখের পা ভেঙে যায়। গুরুতর আহত হয় বরছাকাঠি গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে হাসান ও মেয়ে মাহিমা, হরিহরকাঠি গ্রামের শাহরিয়া। এছাড়াও সুটিয়াকাঠি গ্রামের রিনা বেগম(৪৫) নামে আরো একজন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু জানান ঝড়ে আনুমানিক পাচশতকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনজন আহত হওয়া ছাড়া কোন আর কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, তাৎক্ষনিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য ১ লাখ টাকা ও ২৫ মে.টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা অপ্রতুল। তার পরেও জরুরী কাজ চালানো হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন