Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার , ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১ পৌষ ১৪২৬, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

কোরআন মাজীদে লেনদেনে পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্বারোপ

মাওলানা আহমাদুল্লাহ বিন রুহুল আমীন | প্রকাশের সময় : ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

কোরআন-হাদীসে অতি গুরুত্বের সাথে লেনদেনে পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিভিন্নভাবে ও নানা আঙ্গিকে এ ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। এখানে তার কিছু নমুনা পেশ করা হল। সূরা মুতাফ্ফিফীনের শুরুতেই আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের নিকট থেকে যখন মেপে নেয়, পূর্ণমাত্রায় নেয়। আর যখন অন্যকে মেপে বা ওজন করে দেয় তখন কমিয়ে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না, তাদেরকে এক মহাদিবসে জীবিত করে ওঠানো হবে? যেদিন সমস্ত মানুষ রাব্বুল আলামীনের সামনে দাঁড়াবে।’ (সূরা মুতাফ্ফিফীন : ১-৬)।

ইয়াতিমদের সম্পদ সম্পর্কে সতর্ক করতে গিয়ে কোরআন মাজীদে লেনদেনের অনেক বড় মূলনীতি বলে দেয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘ইয়াতিমদেরকে তাদের সম্পদ দিয়ে দাও। আর ভালো মালকে মন্দ মাল দ্বারা পরিবর্তন করো না। তাদের (ইয়াতিমদের) সম্পদকে নিজেদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে খেয়ো না। নিশ্চয়ই তা মহাপাপ।’ (সূরা নিসা : ২)

এক আয়াতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আল্লাহপাক ঘোষণা দিয়েছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা ইয়াতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করে; তারা নিজেদের পেটে কেবল আগুন ভর্তি করে। তারা অচিরেই এক জ¦লন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।’ (সূরা নিসা : ১০)

এক আয়াতে পরস্পর সন্তুষ্টির ভিত্তিতে বেচাকেনাকে বৈধতা দিয়ে সম্পদ উপার্জনের অন্য সব অন্যায় পদ্ধতিকে হারাম ঘোষণা করেছেন। বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা পরস্পরে একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। তবে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে কোনো ব্যবসা করা হলে (তা জায়েয)।’ (সূরা নিসা : ২৯)

কোনো সম্পদ শুধু বিচারকের কাছ থেকে নিজের নামে ফায়সালা করে নিলেই তা বৈধ হয়ে যায় না; বরং পন্থাও বৈধ হতে হয় এবং বাস্তবেই নিজে ঐ সম্পদের হকদার হতে হয়। এ বিষয়ে কোরআনের এক আয়াতে নির্দেশনা রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা পরস্পর একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না এবং বিচারকের কাছে সে সম্পর্কে এই উদ্দেশ্যে মামলা রুজু করো না যে, মানুষের সম্পদ থেকে কোনো অংশ জেনে-শুনে পাপের পথে গ্রাস করবে।’ (সূরা বাকারা : ১৮৮)

ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন সময় আমরা যে চুক্তি করি তা পূর্ণ করার ব্যাপারে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গিকার পুরা করো। অর্থাৎ লেনদেনের বিভিন্ন অঙ্গিকার ও অন্যান্য অঙ্গীকার।’ (সূরা মায়েদা : ১)

অনেকে আমাদের কাছে বিভিন্ন জিনিস আমানত রাখে। আবার বিভিন্ন সময় নানা প্রয়োজনে আমরাও অনেক কিছু ধার-কর্জ করি। অথবা যে কোনোভাবে অপরের কোনো জিনিস আমাদের কাছে থাকে; এ অবস্থায় পাওনাদারের জিনিস বিশ্বস্ততার সাথে তার কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে কোরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে, ‘(হে মুসলিমগণ!) নিশ্চয়ই আল্লাহপাক তোমাদেরকে আদেশ করছেন যে, তোমরা আমানত ও পাওনা তার হকদারকে আদায় করে দেবে। আর যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে; ইনসাফের সাথে বিচার করবে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে উপদেশ দেন তা কতই না উৎকৃষ্ট! নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।’ (সূরা নিসা : ৫৮)

খাঁটি মুুমিনদের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ পাক কোরআন মাজীদে দুই জায়গায় ইরশাদ করেছেন, ‘এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং যারা তাদের সাক্ষ্য যথাযথভাবে দান করে।’ (সূরা মাআরিজ : ৩২-৩৩; সূরা মুমিনূন : ৮)



 

Show all comments
  • মশিউর ইসলাম ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৫৩ এএম says : 0
    মৌখিক কিংবা অলিখিত লেনদেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে। লেনদেন পরবর্তী অনাকাংখিত পরিস্থিতি এড়াতে লেনদেন করার পূর্বে উপযুক্ত স্বাক্ষীর উপস্থিতে চুক্তিপত্র সম্পাদনের জন্য কোরআনে তাগিদ দেয়া হয়েছে।
    Total Reply(0) Reply
  • জোহেব শাহরিয়ার ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৫৪ এএম says : 0
    মানুষ মাত্রই লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। পণ্যদ্রব্য আমদানি-রপ্তানি, জমি-জমা ও ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়, নগদ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা, ব্যাংকে মেয়াদি হিসাব খোলা, ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া, দোকান পজিশন ভাড়া দেওয়া-নেওয়া, জমি বন্ধক রাখা, নগদ অর্থ হাওলাত দেওয়া, হজ পালন কিংবা বিদেশ গমনের জন্য টাকা দেওয়া ইত্যাদি।
    Total Reply(0) Reply
  • সাইফুল ইসলাম চঞ্চল ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৫৪ এএম says : 0
    লেনদেনকে নিয়ে সমাজে অনেক অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে। লেনদেনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির প্রেক্ষিতে পরস্পরে সৃষ্টি হয় শত্রুতা। কখনও লেনদেনকে কেন্দ্র করে খুন-খারাবির মতো ঘটনাও ঘটে। হয় মামলা-মোকাদ্দমা।
    Total Reply(0) Reply
  • নীল আকাশ ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৫৪ এএম says : 0
    মৌখিক কিংবা অলিখিত লেনদেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে। লেনদেন পরবর্তী অনাকাংখিত পরিস্থিতি এড়াতে লেনদেন করার পূর্বে উপযুক্ত স্বাক্ষীর উপস্থিতে চুক্তিপত্র সম্পাদনের জন্য কোরআনে তাগিদ দেয়া হয়েছে।
    Total Reply(0) Reply
  • মোহাম্মদ মোশাররফ ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৫৫ এএম says : 0
    মনে রাখা উচিত, কেউ যদি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে চুক্তিপত্রে আবদ্ধ হয় । তাহলে চুক্তির শর্তগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। চুক্তিপত্রের শর্ত মেনে চলার জন্যে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা হুকুম দিয়েছেন। কারণ চুক্তিপত্রের শর্ত মানার মাধ্যমে পারস্পরিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সর্ম্পক মজবুত হয়। ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। অনাকাংখিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
    Total Reply(0) Reply
  • কাজী হাফিজ ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৫৫ এএম says : 0
    আমাদের নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও পারস্পরিক সর্ম্পক অটুট রাখার জন্যে লেনদেন করার পূর্বে পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদন করা আবশ্যক। এ ছাড়া লিখিত চুক্তিপত্র থাকলে আইনের আশ্রয় নেওয়া যায়। যা মৌখিক কিংবা অলিখিত লেনদেনের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।
    Total Reply(0) Reply
  • নোমান ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ১০:৩৪ এএম says : 0
    লেখক মাওলানা আহমাদুল্লাহ বিন রুহুল আমীন সাহেবকে অসংখ্য মোবারকবাদ জানাচ্ছি এই সুন্দর লেখাটির জন্য
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন