Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

কাউন্সিলর রাজীব ফের চার দিনের রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ মামলায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে আবার চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। র‌্যাবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই আদেশ দেন। তারেকুজ্জামান রাজীবকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছিল র‌্যাব-২। মামলাটি তদন্ত করছেন র‌্যাব-২-এর এসআই প্রণয় কুমার প্রামাণিক।
আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে র‌্যাব বলেছে, তারেকুজ্জামান রাজীবের কাছে পাওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। রাজীব খুব চালাক প্রকৃতির লোক। তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, আসামি রাজীব ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা এলাকাসহ মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে অস্ত্র, গুলি ও মাদকের ব্যবসা করে আসছিলেন। পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলদারির মাধ্যমে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধ জগতের সুলতান হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। আবার কেন তারেকুজ্জামান রাজীবকে রিমান্ডে নেয়া দরকার, এ ব্যাপারে আদালতকে র‌্যাব বলেছে, তার সহযোগী অন্যান্য ভ‚মিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের শনাক্ত করার জন্য তাকে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। অস্ত্র ও গুলির উৎস সম্পর্কে জানার জন্য তাকে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।
তারেকুজ্জামান রাজীবের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে তাকে (তারেকুজ্জামান রাজীব) হয়রানি করা হচ্ছে। কোনো আলামত উদ্ধার হয়নি। তারেকুজ্জামান রাজীব অসুস্থ। তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। রিমান্ডে নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে আবার চার দিন রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দেন।
এর আগে ৪ নভেম্বর অস্ত্র ও মাদক মামলায় রিমান্ড শেষে কাউন্সিলর রাজীবকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। গত ২০ অক্টোবর রাজীবকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন ভাটারা থানার মাদক মামলায় ১০ দিন ও অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। রাতে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা মাদক মামলায় সাত দিন ও অস্ত্র মামলায় সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ দিন রাতে তাকে ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন র‌্যাব-১ এর ডিএডি মিজানুর রহমান। গত ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক বন্ধুর বাসায় আত্মগোপনে থাকা রাজীবকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ওই বাসা থেকে সাতটি বিদেশি মদের বোতল, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, নগদ ৩৩ হাজার টাকা ও একটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। পরে তাকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের বাসা ও কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় র‌্যাব। রাতভর অভিযানে ৫ কোটি টাকার চেক ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। আগে থেকেই সতর্ক থাকায় কাউন্সিলর রাজীব আর্থিক লেনদেনের আলামত সরিয়ে ফেলেছেন বলে র‌্যাবের ধারণা। ২০১৫ সালে ডিএনসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে দৃশ্যমান কোনো ব্যবসাই ছিল না মোহাম্মদপুরের তারেকুজ্জামান রাজীবের। বর্তমানেও কাউন্সিলর হিসেবে সরকারি সম্মানীর বাইরে কোনো আয়ের উৎস নেই। তবুও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন স্বঘোষিত ‘জনতার কাউন্সিলর’ রাজীব।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ