Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

আপনাদের জিজ্ঞসার জবাব

| প্রকাশের সময় : ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

প্রশ্ন ঃ ঈদ শব্দের সঠিক ব্যাখ্যা কি?

উত্তর ঃ ঈদ শব্দটি আরবী। শাব্দিক অর্থ আনন্দ, খুশি ও বার বার ফিরে আসা। কোন প্রকার মতভেদ ছাড়া আমরা বছরে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আদ্বহা নামে দুটি ঈদ পালন করে থাকি। সম্প্রতি কিছু লেখনি ও বক্তব্যে শুনা যাচ্ছে যে, এ দুটি ঈদ ছাড়া ইসলামের শরীয়তে আর কোন ঈদ নেই। আর কোন ঈদ পালন করলে তা হবে ইসলাম বিরোধী ও বেদাত। অন্যদিকে অপর পক্ষ এ দুটি ঈদ ছাড়া আর ঈদ আছে যা ইসলাম ধর্মে সমর্থন করে বলে যাচ্ছেন। এব্যাপারে আমরা নি¤েœ আলোকপাত করছি।
দুটি ঈদ ছাড়া আর কোন ঈদ নেই-এ আপত্তিটা প্রথম উত্তাপিত হয় ‘ঈদে মীলাদুন্নবী (সা:)’র সাথে ‘ঈদ’ শব্দ সংযোজন করাকে কেন্দ্র করে। মূলত: যারা মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা:)-এর মোবারক জন্ম দিবস মীলাদুন্নবী’র মাহফিলের বিরোধীতা করেন তারাই বছরে দুটি ঈদ ছাড়া আর কোন দিন বা দিবসকে ঈদ হিসেবে মেনে নিতে চান না।
মানুষ স্বভাবগতভাবে দুঃখজনক ও অকল্যানকর কাজে ব্যথিত হয়। যখন দুঃখের জীবন থেকে বেরিয়ে আসে, অশান্তির জীবন থেকে যখন শান্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তখনই স্বগোত্রীয় বা ধর্মীয় লোকদের নিয়ে খুশি উদযাপন করে, আনন্দ অনুষ্ঠান করে। এ অনুষ্ঠানকে কুরআনের ভাষায় বলা হয় ঈদ। যা কুরআনের সুরা মায়েদার ১১৪ নং আয়াতে রয়েছে।
ঈদ সম্পর্কে বিখ্যাত অভিধান সমূহে বলা হয়েছে-
১. ‘আল ইযহার’ অভিধানে বলা হয়েছে, “আনন্দপূর্ণ সকল সমাবেশকে আরব জাতির কাছে ঈদ নামে আখ্যায়িত। কেননা এর প্রত্যাবর্তনে আনন্দের প্রত্যাবর্তন ঘটে।”
২. ‘মুজামুল ওয়াছিত’ অভিধানে বলা হয়েছে-“কোন চিন্তা বা রোগ অথবা আনন্দ- আগ্রহ ইত্যাদির কারণে সস্মরণীয় অবস্থায় কোন সম্মানীত প্রিয় ব্যক্তিত্বের আলোচনার মাহফিলে করা হয়।”
৩. ‘মিছবাহুল লুগাত’ অভিধানে বলা হয়েছে-“ঈদ ঐ সকল দিন, যা কোন মার্যাদাশীল ব্যক্তি বা কোন ঐতিহ্যবাহী ঘটনার স্মরণে হয়।”
৪. ‘ফিরুজুল লুগাত’ অভিধানে বলা হয়েছে- “ইসলামের নবীর জন্ম দিবসকে ‘ঈদে মীলাদ বলা হয়।” অনুরূপভাবে আরো অসংখ্য অভিধানে বর্ণনা করা হয়েছে।
ঈদ শব্দ শরিয়তে কোন নির্দিষ্ট দিবসের নাম নেই। আবু দাউদ ও মিশকাশ শরীফের বর্ণণায় পাওয়া যায়, ইসলামি শরীয়তে ঈদের যে দুটি দিন রয়েছে তা জাহিলিয়াতের যুগে “নওরোজ” ও “মেহেরজান” নামে ছিল। মহানবী (সা:) মদিনায় গমন করে এ দুটি নামের পরিবর্তে ঈদুল আদহা ও ঈদুল ফিতর নামে পালন করেন।
ঈদ শব্দ দ্বারা কোন নির্দিষ্ট ঈদকেই বুঝানো হয়নি। ঈদ শব্দ দ্বারা শরীয়তের কোন দিবসের নাম রাখা হয়নি। বরং ঈদের সাথে আদহা, ফিতর যুক্ত করা হয়েছে। ঈদ শব্দের সাথে সম্বন্ধ (ইদাফত) করে ব্যবহার করার মধ্যে কোন বিধি-নিষেধ নেই। কোন সম্প্রদায় যে দিন পরাধীনতা থেকে স্বাধীনতা লাভ করে সে দিনকে ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলা হয়। স্বাধীনতা দিবসকে আরবীতে বলা “ঈদুল ইসতেকলাল’। ১৮ জিলহজ্ব তারিখ শিয়া সম্প্রদায়ের নিকট ‘ঈদে গাদির’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ইরানী বছরের ১ম দিবসকে ‘ঈদে নওরোজ’ নামে পালন করা হয়। এটাকে নাজায়েয বা বিদাত বলার অবকাশ নেই। কেননা এটা (ঈদ) হচ্ছে একটি বিশেষ পরিভাষা। ইসলামি শরীয়তের সাথে এর কোন সংঘর্ষ নেই এবং তা ইসলামের শরীয়তে আবশ্যকীয়ও মনে করা হয় না।
কুরআন শরীফে বলা হয়েছে- “হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ) বললেন: হে আল্লাহ, আমাদের পালনকর্তা! আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা অবতীর্ণ করুন। তা আমাদের জন্য তথা আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্য ঈদ (আনন্দ) উৎসব এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদেরকে রুজি দিন। আপনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।” (সুরা মায়েদা, আয়াত-১১৪)।
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রাহ.) কর্তৃক উর্দু ‘তরজমাকৃত কুরআন মাজীদের’ হাশিয়ায় লিখেন- “এ থেকে জানা গেল যে, আল্লাহ তাআলার খাছ রহমত প্রদানের দিবসকে ঈদের দিবস বানানো, আনন্দিত হওয়া, ইবাদত করাও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা নেককরাদের তরিকা। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, জগতের সর্দার হুজুর (সা:)’র আগমন আল্লাহর সর্ববৃহৎ নিয়ামত ও সবচেয়ে মহিমাম্বিত রহমত। এ জন্য হুজুর (সা:)’র মুবারক জন্ম দিবসকে ‘ঈদ’ হিসেবে পালন, মীলাদ শরীফ পড়ে শুকরিয়া জ্ঞাপন ও আনন্দ এবং খুশি উদযাপন করা উত্তম ও প্রশংসনীয় এবং আল্লাহর মকবুল বান্দাগণের তরিকা।”
উত্তর দিচ্ছেন ঃ মো: আবুল কালাম আজাদ



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ