Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জনগণের কষ্টার্জিত অর্থকে খেলাপি হতে দেবো না

সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল বলেছেন, গত জুন পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ১৪ হাজার ৯৭ কোটি টাকা। এসব ঋণের মধ্যে ব্যাংকের খেলাপি এক লাখ ৬ হাজার ৫৫ কোটি টাকা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৮ হাজার ৪২ কোটি টাকা। তবে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থকে আমরা খেলাপি হতে দেব না। খেলাপি ঋণ অবশ্যই আদায় করা হবে।

গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন বিএনপির সংসদ সদস্য বেগম রুমিন ফারহানা। জবাবে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা যখন থেকে চালু হয়েছে, তখন থেকেই এই ঋণ খেলাপি সংস্কৃতি। বিএনপি আমলে যে পরিমাণ ঋণ খেলাপি ছিল, তা থেকে আমরা অনেক কমিয়ে এনেছি। তবে কোনো ঋণ খেলাপি থাকা উচিত নয়। একই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান বিও অ্যাকাউন্টধারীদের মধ্যে সকল বিনিয়োগকারী একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে লেনদেন করে না। কিছু সংখ্যাক বিনিয়োগকারী প্রায়শই লেনদেন করেন, কিছুসংখ্যক বিনিয়োগকারী স্বল্প ও দীর্ঘ বিরতির পর লেনদেন করেন। তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারে সিকিউরিটিজের মূল্যের উখান-পতন একটি স্বাভাবিক ঘটনা, এর ফলে বিনিয়োগকারীগণ স্বাভাবিক নিয়মেই লাভ-লোকসান করতে পারে। বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩ প্রণয়ন করেছে। এ আইনের আলোকে খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ২০১৮ সালের পহেলা জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ১৬ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুল রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার রোধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিদেশ হতে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে অর্থ পাচার বিষয়ক ৪০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতে অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স অর্থ উদ্ধারে কাজ করছে।
সরকারি দলের মহিবুর রহমান মানিকের প্রশ্নের জবাবে লোটাস কামাল জানান, ব্যাংকসমূহে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাংক কোম্পানি আইন, সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং কর্মপরিধি সম্পর্কে দিক-নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের ঝুঁকি মোকাবেলায় ১২ ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তারা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনে অনলাইনে সরাসরি আবেদন করে থাকে। গত ৩ নভেম্বর-১৯ পর্যন্ত ২৪৬ জন সরকারি কর্মচারী ঋণের আবেদন করলেও ১৯০ জন এ সুবিধা পেয়েছেন। আবেদনে ত্রæটি থাকায় ৫৬ জনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন