Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্যে প্রশংসা বিশ্বব্যাংকের

সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে রফতানি বাড়ানো সম্ভব

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক। তবে আগামীতে এই সাফল্য ধরে রাখা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে সংস্থার পক্ষ থেকে। অনেক কারণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির এই মডেল এখন চ্যালেঞ্জে পড়েছে। এত দিন রফতানি বাণিজ্যে প্রতিযোগী সক্ষমতার পেছনে ছিল তুলনামূলক কম মজুরি সুবিধা। এই সুবিধা এখন আর নেই। অন্যদিকে বিভিন্ন সেবা, রসদ ও অকাঠামো অপর্যাপ্ত এবং নিম্ন মানের। অথচ এসব সেবার পেছনে ব্যয় গুনতে হচ্ছে অনেক বেশি। এতে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। বিশ্ববাজারে রফতানি পণ্যের দর প্রতিযোগিতায় বাস্তবতায় উচ্চ উৎপাদন ব্যয়ের কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।

সেবা এবং সরবরাহ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই বাস্তবতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ‘বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া : সাফল্য অব্যাহত রাখতে সংযোগ এবং রসদ’ নামের এই প্রতিবেদন গতকাল ঢাকায় প্রকাশ করা হয়। রাজধানীর হোটেল রেডিসনে অনুষ্ঠিত এতে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেছেন, উন্নত সেবা সরবরাহের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনা গেলে প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ পোশাক রফতানি সম্ভব। প্রধান রফতানি পণ্য পোশাকের মোট রফতানির কম-বেশি ২০ শতাংশ যায় যুক্তরাষ্ট্রে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সেবা এবং অবকাঠামো দুর্বলতা এবং এ সংক্রান্ত উচ্চ ব্যয়ের কথা তিনিও স্বীকার করেছেন। মশিউর রহমান বলেন, নৌ ও রেল পথে পণ্য পরিবহন ব্যয় অন্য পথের তুলনায় এখনো কম। তবে উদ্যোক্তারা সময় সাশ্রয়ের জন্য ট্রাকে পণ্য পরিবহনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এতে ব্যয় বাড়ছে। পণ্য পরিহনে এক সময় ট্রেন-নির্ভরতা ছিল। নানা কারণে এখন আর সেটা নেই। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে দেশের শুল্ক আইনের সমালোচনা করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কোনো কারণে ক্রেতা পণ্য গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে সেই পণ্য দেশে ফিরিয়ে আনেন উদ্যোক্তারা। আমদানি পণ্যে যে রকম শুল্কারোপ আছে, পণ্য ফেরত আনার এরকম ঘটনার ক্ষেত্রেও একই হারে শুল্ক দিতে হয়। প্রশাসনিক কিছু কারণ এবং ঢাকাকেন্দ্রিক শিল্প স্থাপনের কারণেও উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এ কারণে ঢাকার বাইরে শিল্প স্থাপনে প্রণোদনা দেয়ার কথা চিন্তা করেছিল সরকার। তবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দেখা গেল, কারখানা ঢাকার বাইরে হলেও প্রতিষ্ঠানের হেড অফিস এবং বড় কর্মকর্তারা ঢাকার মধ্যেই আছেন। এ কারণে শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি। আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম এবং মংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করে নিজেদের বিভিন্ন রাজ্যে পণ্য পরিবহনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।

পণ্য পরিবহন দুর্বলতা প্রসঙ্গে বিশ^ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাফিক জ্যাম এবং অন্যান্য কারণে পণ্য পরিবহনে বিলম্বের ঘটনা বাংলাদেশেরই সর্বত্রই। সড়ক পথে সমুদ্র বন্দর কিংবা স্থল বন্দরে পণ্য পৌঁছাতে ব্যয় হচ্ছে স্বাভাবিকের দ্বিগুণ। ট্রাকের গতি ঘণ্টায় মাত্র ১৯ কিলোমিটার, যা স্বাভাবিকের অর্ধেক। শুধু এ কারণে সেবা ব্যয় অন্তত ৩৫ শতাংশ কমানো সম্ভব। বিলম্বে বন্দরে পণ্য পৌঁছানোর কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে রফতানি পণ্য কন্টেইনারকে গড়ে ৪ দিন অলস পড়ে থাকতে হয়। আমদানির ক্ষেত্রে এই সময় লাগছে ১১ দিন। এই অলস সময় কমিয়ে আনা গেলে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়।
বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদন সম্পর্কে সংস্থার সিনিয়র অর্থনীতিবিদ মাতিয়াস হিরেরা দাপ্প বলেন, সেবা খাতে সংস্কার, পরিবহন এবং অন্যান্য সেবায় বিনিয়োগ হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুবিধা এবং রফতানি প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়বে। তবে সেবায় বিনিয়োগ মানে আরো বেশি অর্থ ঢালা নয় বরং সেবায় দুর্বলতা শনাক্ত করে সুনির্দিষ্ট এবং মানসসম্পন্ন বিনিয়োগ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশি^ক রফতানি বাণিজ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধি, রফতানি আয় বাড়ানো ও পণ্য বহুমুখীকরণে প্রধান হাতিয়ার হতে পারে মানসম্মত সেবা। বিভিন্ন সেবায় দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ রফতানি প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে পারে। তৈরী পোশাক খাতের দ্বিতীয় রফতানিকারক দেশের মর্যাদা ধরে রাখা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ