Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

তন্দ্রা ও তমিস্রার কাব্য

বু ক ক র্ণা র

আলোচক : নিঃশব্দ আহামদ | প্রকাশের সময় : ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০৭ এএম

ইশিতা জেরীন

আত্মবিলাপ না এই স্বর,আত্মোপলদ্ধির৷স্মৃতি ও বিস্মৃত অনুভুতির গভীর মর্মস্পর্শী সংযোগ প্রতিটি কবিতা৷ঠিক কবিতা ও তন্দ্রার মাঝে যেমন তিনি দেখেন স্মৃতির দেয়াল৷তেমনি যেনো সেঁটে আছে দেয়ালময় জীবনের গুঢ় আলাপ,যা ভাবায়,আলোড়িত করে,উদ্দীপ্ত করে চেতনায়৷সদা জীবন্ত,প্রাণবন্ত এক আত্মা কিংবা জীবসত্তার উপ¯ি’তি কবিতায়৷

জীবনের প্রগাঢ় তন্দ্রা ভেঙে জেগে দেখি
আমার শরীরে এখনো সামুদ্রিক শ্যাওলা,মুক্তা—প্রবালের ঘ্রাণ৷
জীবন,কালে কালে যতোটা তন্দ্রার মতো যাক কেটে,তবু এতোটুকু জাগানিয়া,সম্বিৎ হতে থাকে -না,আমি ই আছি সর্বত্র৷ শুধু একটা তন্দ্রার ভেতর ছিলো অবসর৷আছে তাঁর কবিতায় গভীর জীবনবোধ, উপমিত সৌন্দর্য্য, চিন্তার বিস্তৃতি আছে মিথ আর কল্পনার সৌন্দর্য্য৷
একটি চিন্তা অপরাধের কারণে অভিযুক্ত করে
আমাকে দন্ডিত করা হয়েছিলো
অথচ চিন্তাটি কি ছিলো তা আমি আদৌ জানিনা৷
কবি ইশিতা জেরীন কবিতায় নিজেকে প্রকাশ করেছেন উদারতায়,তিনি আত্মোপলদ্ধিজাত চেতনার কিংবা ভাবনার যে দুঃখ তা বিন্যস্ত করেছেন সহজিয়া ভাষায় অথচ কি গভীর এবং শব্দের পরতে পুরে রেখে চিন্তার জগত৷চিন্তারও অপরাধ আছে,ভুল আছে৷কখনো তবু আমরা বিশ্বাস করি ফেলে আসা সময়ে থেমে নেই মস্তিষ্ক,তাই বিশ্বাস করি অপরাধ হতে নেই৷
একটি ক্রীতদাস নগরবাতির তির্যক আলো
ঢুকে পড়েছিলো আমার মস্তিষ্কে
বিষাক্ত শঙ্খচুড়ের মতো পাক খেতে খেতে
ফণা তুলেছিলো-ঠিক তখনই—
একটি চিন্তা ৷অজ্ঞ -পৃ-১১
বলা যায় আলোতে ই মুগ্ধতা৷কখনো আলোর ভেতর প্রবেশ করি,দূরীভূত করি আঁধার৷ঠিক তা না,যা মন যাচে আলোর কাছে,আলো যেনো ডাকে হাতছানিতে কখনো আলোর বিভ্রম ফণা রূপে,চিন্তার ভুল ঘটে৷যেনো সংঘটিত সেখানেই অপরাধ যা ভাবায় নিয়তকাল৷
আবার এসব ভুলের ভেতর আমাদের জাগে চোখ৷চোখের ভেতর সুড়ঙ্গপথ৷কবির শিঙা কবিতায় তাই যেনো এসেছে দৃশ্যত সত্যের মতোন৷
নিঃসন্দেহে কবি সমসাময়িক কাব্য ভাবনায় অগ্রবর্তী,তাঁর কবিতায় আছে স্বপ্ন ও বাস্তব যাপনের সাথে এক দ্বান্দিক সম্পর্ক৷ দৃশ্যত দৃশ্যের কাছে কি হ”েছ অথবা কিইবা হবার ছিলো,সময়ব্যাপি এক অমোঘ দ্বন্দ ৷ঠিক এমনো এক সময়ের কাছে মানুষ উপনীত হয়,যেমন চোখময় ঘনায় বিষন্ন মেঘরূপ তখন আড়ষ্ট হয়ে সমস্ত ইন্দ্রিয় আর তখনই স্মৃতি থেকে উঠে আসে দৃশ্য ৷কখনো ফিরে যাই শৈশবে কখনো বা যুদ্ধবিগ্রহে কিংবা স্মৃতি থেকে স্মৃতির ভেতর ডুব সাঁতারে৷তাবৎ পৃথিবী মনে হতে থাকে ছেয়ে গেছে নিমজ্জিত অদ্ভুত,গুঢ় অন্ধকারে৷তাঁর এমনও হৃদয় নাড়িয়ে দেওয়া চিত্রে ভাবনাকে জাগিয়ে তোলে তন্দ্রা ও তমিস্রার কাব্য কবিতাটিতে৷
অদ্ভুত জ্বর এক নেমেছে আমার পৃথিবীতে
জানালায় আবছায়া শার্সি ভেদ করে প্রবেশ করেছে
স্বপ্নজাগানিয়া মৎকুণের মতো এক ঝাঁক তরঙ্গিত জ্বর৷
প্রান্তর থেকে প্রান্তর পেরিয়ে,আরো দূর—সুদূর প্রান্তর
প্রাচীন পৃথিবীর আরণ্যক আলোতে-৷তন্দ্রা ও তমিস্রার কাব্য৷পৃ-৭৮৷
পুরোপৃথিবীটায় যেনো ধূমায়িত,ধোঁয়াশায়৷ যা কবিকে তাড়িত করে৷ অসাড়, অবসন্ন করে আয়ুহীন তন্দ্রা”ছন্নতায় স্বপ্নাহত করে৷
আর কবি ইশিতা জেরীন এসব ক্লান্তির ভেতর আঁকেন শৈশবের দৃশ্য৷বেড়ে উঠা সময় কাল৷কলকল ধ্বণী,ভাঙন নেশার গ্রাসী নদী৷জাগে চোখময়৷প্রত্যেক জীবনের সাথে,বৈচিত্রের সাথে আছে নদী ও তার সময় প্রবাহের নিবিড় সম্পর্ক৷
এমনো ৪৫টি কবিতার গৃষ্টি সম্ভারে কবিমানসের অনবদ্য গৃজন তন্দ্রাও তমিস্রার কাব্য”পুস্তকখানা নিঃসন্ধেহে সুখ পাঠ্য৷ ৮০ পৃষ্টার বইটি বাজারে এনেছে রোদেলা প্রকাশনী৷প্র”ছদ জান্নাতুল ফেরদৌস৷মূল্য ১৫০টাকা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন