Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

অনুমতি ছাড়াই চলছে ইটভাটা

কমছে কৃষি জমি : বাড়ছে পরিবেশ দূষণ

মো. নজরুর ইসলাম, রাজবাড়ী থেকে | প্রকাশের সময় : ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম


রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে উঠছে ইটভাটা। সুলতানপুর বাজারস্থ জেএসআর ইটভাটায় চলছে ইট প্রস্তুতের কাজ ও শাইলকাঠি গ্রামে তিন ফসলি কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে কেআরডি ব্রিকস নামে ইটভাটার নির্মাণ কাজ। ইটভাটা বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলে আবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত করে ভাটার সকল কাজ বন্ধের নোটিশ প্রদান করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

ভাটা সূত্রে জানা যায়, কেআরডি ব্রিকস নির্মাণাধীন ইটভাটা নিয়ে এলাকাবাসী রাজবাড়ী সদর থানায় ১টি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু এলাকাবাসী গত ১১ এপ্রিল সর্ব সাধারণের সম্মতিক্রমে নিজদের মাঝে আপোষ মিমাংসা করে আপোষ নামায় স্বাক্ষর করে ইটভাটা বন্ধের আবেদন প্রত্যাহার করেন।

জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে জনসম্মুখে রাস্তা ধারেই গড়ে উঠেছে জেএসআর নামক ইটভাটা। চলছে পুরোদমে ইট বানিয়ে রোদে শুকানোর কাজ। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে জ্বলবে ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ। অপর দিকে শাইলকাঠি গ্রামের কেআরডি ব্রিকস ইটভাটার নির্মাণধীন কাজ বন্ধ রয়েছে। ভাটার আশে পাশে কৃষি জমি রয়েছে। যেখানে এখন ফসল চাষাবাদ চলছে।

জেএসআর ইটভাটার মালিক পক্ষ এবং সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. রাজ্জাক বলেন, ইটভাটা নির্মাণ কাজ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আমরা টাকা জমা দিয়েছি। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর আমাদের ছাড় পত্র দিচ্ছেন না। অপর দিকে শাইলকাঠি গ্রামের ফসলি জমিতে কেআরডি ব্রিকস নির্মাণাধীন ইটভাটা নির্মাণ কাজে অভিযোগের কারণে বন্ধ হয়ে রয়েছে।
কেআরডি ব্রিকস ইট ভাটার মালিক বলছেন, ইটভাটা নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে প্রাপ্ত লাইন্সেস ফরমে সূত্রে জানা গেছে। নির্মাণধীন ইটভাটা হইতে কমপক্ষে ১ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বিশেষ কোনো স্থাপনা, রেলপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বা অনুরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান থাকবে না। ইটভাটা নির্মাণের জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে প্রাপ্ত লাইন্সেস ফরমে উল্লেখিত শর্তাবলী মেনেই তৈরি করা হচ্ছে কেআরডি ব্রিকস।

এ ব্যাপারে শাইলকাঠি গ্রামে নির্মাণধীন ইট ভাটা নির্মাণ স্থানটি অনাবাদি জমির পাশবর্তী কিছু জমি ২ ফসলের এবং ভাটার পাশে কিছু ৩ ফসলের জমি রয়েছে এমনটাই বলছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. বাহাউদ্দিন শেখ।
ভাটার মূল উদ্যোক্তা জিয়াউর রহমানের বলেন, এটি একটি জিগজাগ ইটভাটা হবে। এতে অনেক অর্থ খরচ করে ২.০৩ একর জমি নেয়া হয়েছে। আরও ৬ একর জমি তারা স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে লীজ নিয়েছে। তিনি বলেন, গত ১৭ জুন ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক তুহিন সরদার কেআরডি ব্রিকস ইটভাটা নির্মাণধীন স্থানটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পরিদর্শন মানচিত্রে উক্ত ইটভাটা স্থাপনা থেকে ১.২ কি.মি দূরত্বে রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১.১ কি.মি দূরত্বে শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং স্থাপনার ৩টি দিকে প্রায় ফাঁকা জমি দেখিয়ে মানচিত্র স্বাক্ষর দেখিয়েছেন।
ভাটার একাধিক মালিকের পক্ষের জিয়াউর রহমান বলেন, মেসার্স কেআরডি ব্রিকস (জিগজ্যাগ) ইটভাটা নির্মাণ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাবার জন্য গত ২৮ মার্চ আবেদন জমা দিয়েছি। ছাড়পত্রের আবেদন পত্রে উল্লিখিত রয়েছে যে, প্রস্তাবিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ শুরুর সম্ভাব্য অক্টোবর ২০১৯ এবং সমাপ্ত ডিসেম্বর ২০১৯ সালে। আর উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলক উৎপান চালু সম্ভাব্য জানুয়ারি ২০২০ সাল। ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত করা হবে কয়লা। গত ২৫ মার্চ ২০১৯ সালে ছাড়পত্রের ফি বাবদ ব্যাংক ড্রাফ ইটভাটার মালিক গং মো. জিয়াউর রহমান ২৫ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ফরিদপুর জেলা শাখায় জমা দিয়েছেন। টাকা জমা দিলেও মেলেনি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।

পরিবেশ অধিদপ্তর ফরিদপুর জেলার পরিদর্শক তুহিন আলম জানান, কেআরডি ব্রিকস ইটভাটা তৈরি জন্য একটি আবেদন করেছিলো। ভাটা নির্মাণের বিপক্ষে এলাকাবাসী কৃষি জমি দেখিয়ে ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই প্রেক্ষিতে নির্মাণধীন ভাটার স্থানটি গত ১৭ জুন ২০১৯ তারিখে ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তর পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাটা মালিক পক্ষের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশ পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক লৎফর রহমাননে দপ্তরে একাধিক যেয়েও না পেয়ে বার বার ফোন দিলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পরিবেশ দূষণ

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন