Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

নেইমারহীন ব্রাজিলের আর্জেন্টিনা পরীক্ষা

‘অসময়ের বিশ্বকাপ’

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

শিরোনামেই আপত্তি করতে পারেন অনেক পাঠক। বিশ্বকাপ যে চার বছরে মাত্র একবারই আসে তা সবারই জানা। কিন্তু ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ যেসময়েই হোক তা অন্যরকম এক আবহ তৈরি করে। বিশ্বকাপে যেমন এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই না দেখলে আয়োজনই ফিকে মনে হয়। তেমনি বছরের যে কোনো সময বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে দুই লাতিন পরাশক্তির লড়াই মানেই ‘অসময়ের বিশ্বকাপ’।

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল লড়াই মানেই বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল রোমান্টিকদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা, রোমাঞ্চ ও বৈরিতা। লাখো চায়ের কাপে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ। একসময়ের পেলে-ম্যারাডোনা দ্বৈরথ এখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা লড়াইয়ের নতুন মাত্রা যোগ করেছেন হালের দুই তারকা মেসি-নেইমার। দু’দলের খেলোয়াড়রা কেউ কাউকে মাঠে যেমন ছাড় দিয়ে কথা বলে না তেমনি দর্শকরাও প্রতিপক্ষের সমর্থকদের দুয়োধ্বনি দিতে ভুল করে না। তেমনই এক বারুদে ঠাসা আরেকটি সুপার ক্লাসিকোর সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। ফুটবলের অন্যতম দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নিজেদের মধ্যকার ১১১তম ম্যাচে মাঠে নামছে আজ। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় সউদী আরবের কিং স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে দল দুটি।

১৯১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১০ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যান ঘুরে দেখা যায়, দু’দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার থেকে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে সেলেসাওরা। এ পর্যন্ত ৪৬ ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নেইমার-পেলে-রোনালদোরা। অন্যদিকে ম্যারাডোনা-বাতিস্তুতা-মেসিদের জয় ৩৯টি। ড্র হয়েছে ২৫টি ম্যাচ। ১৯১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ফ্রেন্ডলি ম্যাচের মাধ্যমে দুই দল প্রথম দেখায় ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। দুই দলের লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় জয়টাও আর্জেন্টাইনদের। ১৯৪০ সালে আকাশী নীল জার্সিধারীরা ব্রাজিলকে হারায় ৬-১ গোলের ব্যবধানে। অন্যদিকে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় জয় ৬-২ গোলের ব্যবধানে।

মোট জয়ে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার আধিপত্যই বেশি। কোপাতে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে সর্বমোট ৩৩ বার। আর্জেন্টিনার ১৬ জয়ের বিপরীতে ব্রাজিলের জয়ের সংখ্যা ১১। বাকি ৬ ম্যাচ ড্র হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে সর্বশেষ ম্যাচে জয় ব্রাজিলের। ২০১৯ সালের ২ জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সে ম্যাচে ব্রাজিল জয় পায় ২-০ গোলের ব্যবধানে।

অন্য দিকে শিরোপার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সর্বোচ্চ পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল, বিপরীতে আর্জেন্টিনার ঝুলিতে বিশ্বকাপ রয়েছে দুইটি। আর কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলের ৯ শিরোপার বিপরীতে আর্জেন্টিনার শিরোপা সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ, ১৪টি। কনফেডারেশন কাপের দিকে এগিয়ে ব্রাজিল। আর্জেন্টিনার এক শিরোপার বিপরীতে ব্রাজিলের শিরোপা ৪টি।

এতো গেল পরিসংখ্যানের পাতা। এবারের দ্বৈরথে বিশ্বকে পোড়াবে দুই বিশ্বসেরা ফুটবলারকে মুখোমুখি দেখার আক্ষেপ। তিন মাস পর নিষেদ্ধাজ্ঞা কাটিয়ে রিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা দলে ফিরে আসলেও ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে খেলতে পারছেন না ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। ব্রাজিল শিবিরে এছাড়া কোন দু:সংবাদ না থাকলেও আর্জেন্টিনা শিবির পাচ্ছে না ডিফেন্ডার মার্কোস রোহোকে। আরও হারিয়েছে মিডফিল্ডার রোবার্তো পেরেইরাকেও।
অবশ্য এই লড়াইয়ের যোদ্ধা কারা, তা নিয়ে মাথাব্যাথা নেই কোন দলেই। ব্রাজিল নেইমারকে ছাড়াই নিজেদের শতভাগ দিতে প্রস্তুত। একই মনোভাব দক্ষিণ আমেরিকায় তাদের প্রতিবেশি দেশটিরও। মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিলের লক্ষ্য হেড টু হেডে নিজেদের আরও এগিয়ে নেয়া। আর্জেন্টিনা চায় ব্যবধান কমাতে। দিন শেষে ম্যাচে জয়-পরাজয় থাকবেই। কেউ হারবে, কেউ জিতবে। প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সমতা থাকলে ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে শেষ হাসিটা যে সমর্থকেরাই হাসবে তাতে সন্দেহ নেই। সময়ের প্রীতি ম্যাচে ‘অসময়ের বিশ্বকাপ’ তাতেই পাবে পূর্ণতা।


মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ব্রাজিল ড্র
১১০ ৩৯ ৪৬ ২৫

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পরীক্ষা


আরও
আরও পড়ুন