Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, ২২ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

সমুদ্র স্নানে পশুপালনের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের সময় : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মন চায় পাখা মেলে উড়তে, নিজের বাধাধরা গ-ি থেকে বেরিয়ে প্রাকৃতিক প্রশান্তির মাঝে নিজেকে মেলে ধরতে। কিন্তু সেমিস্টার সিস্টেমে সময় বের করা বড়ই দুষ্কর। সারাদিন ক্লাস, প্রেকটিক্যাল, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেই যদি হঠাৎ করে একটা ঘোরাঘুরির ব্যবস্থা হয়ে যায় তাহলে কার না ভাল লাগে। আর তা যদি হয় সমুদ্রের দেশ, স্বপ্নের সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। ক্লাস টেস্টের প্রেসারে সবাই যেন ক্লান্ত হয়ে উঠেছে। এই ক্লান্তির অবসাদকে ধুয়ে ফেলার জন্য সমুদ্রের নীল জল যেন আমাদের ডাকছিল। আর আমরাও সেই ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম পশুপালন অনুুষদের লেভেল-১ সেমিস্টার-২ এর শিক্ষার্থীরা। জ্যু এন্ড ওয়াইল্ড লাইফ ম্যানেজমেন্ট কোর্সের আন্ডারে স্টাডি ট্যুরের আয়োজন করেছিল পশু বিজ্ঞান বিভাগ।
পশুপালন অনুুষদের লেভেল-১ সেমিস্টার-২ এর শিক্ষার্থী ইমরান, সাদিয়া ফারিন, পবিত্র, জাহিদ তাদের ট্যুরের কাহিনী বর্ণনা করছিল এভাবেই।
বিশ্ববিদ্যালয় লাাইফের প্রথম ট্যুর। ভাবতেই যেন মনের মধ্যে একটি শিহরণ খেলে যাচ্ছে। ট্যুরের বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই গ্রুপমেটদের সাথে কত প্ল্যান। সেখানে গিয়ে কি কি করব, কি নিয়ে যাব। আরও কত কি।
বন্ধুরা সব এক জায়গায়, নাচগান না হলে কি চলে। বাস ছাড়ার পর থেকেই শুরু হল নাচ, গান, কৌতুক। রাত গভীর হচ্ছে, কারও চোখে নেই ঘুমের আভাস, সবার চোখের ঘুম যেন নীলজলে খেলা করছিল। সকাল ৬টায় পৌঁছলাম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, চট্টগ্রাম। নতুন সকাল , নতুন শহর, অর সাফারি পার্কের নতুন নতুন প্রাণীগুলার সাথে নিশি জাগ্রত নিজেকেও যেন প্রাণী প্রাণী লাগছিল। যাই হোক সাফারি পার্কের প্রাণীগুলার সাথে সাক্ষাৎ শেষে রওনা দিলাম কক্সবাজারের দিকে। এরপর একটু বিশ্রামের পর বের হলাম পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকতের বুকে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউগুলা একের পর এক আছড়ে পড়ছে পায়ের কাছে। কিছুক্ষণের মাঝেই সমুদ্রের সাথে এক অদৃশ্য সখ্য গড়ে উঠল সবার। সন্ধ্যায় বার্মিজ মার্কেট ঘোরাঘুরি ও রাতের খাবার শেষ সখ্যর টানে আবারও ছুটে গেলাম রাতের সমুদ্রের কাছে।
পরদিন রওনা দিলাম ইনানি সমুদ্র সৈকতের দিকে। কক্সবাজারের রেস্টুরেন্টের সামুদ্রিক মাছ, হিমছড়ির ৩শ ফুট উঁচু পাহাড়, ইনানি সমুদ্র সৈকত থেকে সূর্যাস্ত উপভোগ করা ছিল মনে রাখার মত।
ইচ্ছা না থাকলেও, অনাবিল প্রশান্তির এই ভূখ- থেকে এবারে ফিরার পালা। রাত ৮টার দিকে রওনা দিলাম সেই চিরসবুজ ক্যাম্পাসের দিকে। তবে ট্যুরে অতিবাহিত সময়টুকু আজীবন বাধা থাকবে স্মৃতির মনি কোঠায়।
ষ মো. আব্দুল ওয়াহাব



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ