Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

আরেকটি লজ্জার হার বাংলাদেশের

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

মাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল হক বলেছিলেন, ‘জেতার চাপ নেই, নেই হারানোর ভয়ও’। তাই বলে নিদেন পক্ষে লড়াইটুকুও কি করতে পারতো না বাংলাদেশ? আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ শেষ হলো হতাশায়। ব্যাটে-বলে ভারতের সঙ্গে লড়াই করতেও পারল না দল। ইনিংস ও ১৩০ রানের জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত।

ভারতে প্রথম টেস্ট খেলতে ১৬ বছর দরকার হয়েছে বাংলাদেশের। দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে অত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়নি। দুই বছর পরই ভারতের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে গিয়েছে বাংলাদেশ দল। ফলাফল বিবেচনায় অবশ্য বলা যাচ্ছে না, এ বিরতিতে কোনো উন্নতি এসেছে। ২০১৭ সালে হায়দরাবাদ টেস্টে ২০৮ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। গতকাল ইন্দোরে শেষ হওয়া টেস্টে মুশফিকদের হারের ব্যবধান ইনিংস ও ১৩০ রানে। এই জয়ে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের ৬ ম্যাচে পুরো ৩০০ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে ভারত। বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ থেকে পেল না কোনো পয়েন্ট।

গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে দুই টেস্টই তিনদিনে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার আবার দেখা গেল তিন দিনে হারের দৃশ্য। লড়াইবিহীন, বিবর্ণ বাংলাদেশ দেখাল কতটা অপ্রস্তুত তারা। ১১৬তম টেস্ট ম্যাচে ৮৭ নম্বর হারের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। সাদা পোশাকে এটি তাদের ৪১তম ইনিংস ব্যবধানে হার, ভারতের বিপক্ষে চতুর্থ।

হলকার স্টেডিয়ামে টস জয়ের পর গোটা ম্যাচে আর প্রায় কিছুই ঠিকঠাক হয়নি বাংলাদেশের। গোটা ম্যাচেই অসাধারণ বোলিং করেছে ভারতের বোলিং আক্রমণ। ব্যাটে-বলে মিলিয়েই দাপুটে পারফরম্যান্সে জিতেছে বিরাট কোহলির দল। প্রথম সকালেই ব্যাটিং বিপর্যয় দিয়ে শুরু। প্রথম দিন ১৫০ রানে গুটিয়ে গিয়েই ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিং নেই উন্নতির ছাপ। কেবল খানিকটা লড়েছেন মুশফিকুর রহিম। ব্যাটিং করার জন্য সেরা দিনটিতেও ২১৩ রানেই গুটিয়ে গেছে দল। ম্যাচসেরা ভারতের মায়াঙ্ক আগারওয়াল নিজেই যেখানে তুলেছেন ২৪৩ রান।

স্কোরবোর্ডে তাকালে এ ম্যাচ থেকে ইতিবাচক কিছু পাওয়া কঠিন। ব্যাটিং বা বোলিং কোনো বিভাগেই কোচের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেনি দল। ফিল্ডিংয়েও ফসকেছে ক্যাচ। বাংলাদেশ তবু আশা হারাচ্ছে না, খুঁজে নিচ্ছে ইতিবাচক কিছু। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণীতে তবু অধিনায়ক মুমিনুল বলেছেন আশার কথা। দুই বছর আগে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মুশফিক। এবারও দুই ইনিংসেই দলের সর্বোচ্চ স্কোরার এই অভিজ্ঞ ব্যাটসমান। একমাত্র ইনিংসে ৪ উইকেট পেয়েছেন আবু জায়েদ রাহী। সিরিজের পরের ম্যাচের জন্য এ থেকেই সান্ত¡না খুঁজে নিচ্ছেন মুমিনুল, ‘আমি বেশ কিছু ইতিবাচক দিক পাচ্ছি। বিশেষ করে আবু জায়েদ, চার উইকেট পেয়েছে। মুশফিকুর দুই ইনিংসেই (৪৩ ও ৬৪) দারুণ খেলেছে। লিটনও ভালো করেছে। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের খুব ভালো লাইন আপের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে, এটা একটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের ১৫-২০ ওভার টেকার চেষ্টা করতে হবে।’

বাংলাদেশি বোলাররা দাগ কাটতে না পারলেও ভারতীয় পেসাররা ছিলেন ভয়ংকর। দুই ইনিংসে ১৪ উইকেট পেয়েছেন উমেশ যাদব, মোহাম্মদ শামি ও ইশান্ত শর্মা। ফলে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন দ্বিধান্বিত মনে হচ্ছে অধিনায়ককে, ‘ম্যাচের ফলে টস প্রভাব ফেলেছে। এটা বেশ কঠিন ছিল। আমরা জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছিলাম। সিদ্ধান্তটা আসলেই কঠিন ছিল।’

ভারতের মাটিতে ভারত আগে ব্যাটিং করলে কী হয় সেটা দক্ষিণ আফ্রিকা কদিন আগেই দেখেছে। আবার প্রতিপক্ষ আগে ব্যাট করলে পেসাররা পরীক্ষা নিচ্ছেন। ফলে টস জেতার পর কী করা উচিত সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকবেই। আপাতত তাই সেটা ভুলে ২২ নভেম্বরের কলকাতায় দিবারাত্রির টেস্টের করণীয় নিয়ে ভাবছেন অধিনায়ক, ‘দিবারাত্রির টেস্ট খেলার কোনো অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। আমরা সে ম্যাচটা উপভোগ করার চেষ্টা করব।’
এই সিরিজের পরের টেস্ট কোলকাতায়, শুক্রবার থেকে। দুই দলের জন্যই সেটি হবে দিবা-রাত্রির প্রথম টেস্ট।

স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ-ভারত, ১ম টেস্ট ৩য় দিন
টস : বাংলাদেশ, ইন্দোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস ৫৮.৩ ওভারে ১৫০
ভারত ১ম ইনিংস ১১৪ ওভারে ৪৯৩/৬ ডিক্লে.
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস রান বল ৪ ৬
সাদমান বোল্ড ইশান্ত ৬ ২৪ ০ ০
ইমরুল বোল্ড যাদব ৬ ১৩ ১ ০
মুমিনুল এলবি ব শামি ৭ ২০ ১ ০
মিঠুন ক আগারওয়াল ব শামি ১৮ ২৬ ৪ ০
মুশফিক ক পুজারা ব অশি^ন ৬৪ ১৫০ ৭ ০
মাহমুদউল্লাহ ক রোহিত ব শামি ১৫ ৩৫ ২ ০
লিটন ক এন্ড ব অশি^ন ৩৫ ৩৯ ৬ ০
মিরাজ বোল্ড যাদব ৩৮ ৫৫ ৫ ১
তাইজুল ক ঋদ্ধিমান ব শামি ৬ ৪৩ ১ ০
রাহী অপরাজিত ৪ ৯ ১ ০
এবাদত ক যাদব ব অশি^ন ১ ৩ ০ ০
অতিরিক্ত (বা ২, লেবা ৯, নো ১, ও ১) ১৩
মোট (অলআউট, ৬৯.২ ওভারে) ২১৩
উইকেট পতন : ১-১০ (ইমরুল), ২-১৬ (সাদমান), ৩-৩৭ (মুমিনুল), ৪-৪৪ (মিঠুন), ৫-৭২ (মাহমুদউল্লাহ), ৬-১৩৫ (লিটন), ৭-১৯৪ (মিরাজ), ৮-২০৮ (তাইজুল), ৯-২০৮ (মুশফিক), ১০-২১৩ (এবাদত)।
বোলিং : ইশান্ত ১১-৩-৩১-১, যাদব ১৪-১-৫১-২, শামি ১৬-৭-৩১-৪, জাদেজা ১৪-২-৪৭-০, অশি^ন ১৪.২-৬-৪২-৩।
ফল : বাংলাদেশ ইনিংস ও ১৩০ রানে পরাজিত।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মায়াঙ্ক আগারওয়াল (ভারত)।
সিরিজ : ২ ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ