Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

পেঁয়াজের ঝাঁজে মøান নবান্ন উৎসব

নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১৮ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম


 পহেলা অগ্রহায়ন মানে নবান্ন উৎসব। বাঙ্গালী সংস্কৃতিক অন্যতম একটি অংশ নবান্ন। শত বছর আগে থেকে চলে আসছে এই উৎসব। আমন মৌসুমের নতুন ধানের সাথে বাঙ্গালি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এ উৎসব। বিশেষ করে কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের মহা আনন্দের উৎসব এই নবান্ন। নবানক ঘিরে উপজেলার প্রতিটি ঘরেই নানা আয়োজন চললেও পেঁয়াজের ঝাঁজের কারণে অনেকটাই তা ম্লান হয়ে গেছে।

নবান্ন উৎসবে গ্রাম বাংলার ঘরে-ঘরে নতুন ধানের বিভিন্ন পিঠা, পায়েসসহ বাহারি খাবারের আয়োজন করা হয়। মেয়ে-জামাইসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের বাড়ি নিয়ে এসে বাহারী পিঠা, পায়েসসহ নানা সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হয়। গ্রামের কোথাও কোথাও এ উপলক্ষে আয়োজন করা গ্রামীণ মেলার।

তারই ধারাবাহিকতায় রাণীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে বর্তমানের নবান্নের আমেজ বিরাজ করছে। মাঠে মাঠে চলছে আমন ধানকাটার ধূম। কোথাও ধান কেটে ঘরে নিয়ে আসছে কৃষক ও শ্রমিকরা আবার কোথাও গ্রামের মেঠোপথে ধান পরিস্কার করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষানীরা। তাদের হাতে সময় খুবই কম। বাড়িতে মেয়ে-জামাই ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজন আসবে দ্রুত ধানের কাজ শেষ করতে মরিয়া কৃষক।

উপজেলার কাটরাশইন গ্রামের কৃষক রনজিত সাহা বলেন নবান্ন আমাদের বাঙ্গালীর প্রাণের একটি উৎসব। এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের ঝাঁজে আমরা আর কি উৎসব করবো। বর্তমান বাজারে ধানের যে দাম সেই দাম অব্যাহত থাকলে কৃষক অনেকটাই লাভবান হবেন। আর এবার কৃষকের নবান্ন উৎসবও ভালো হবে আশা করছি। নবান্ন মানেই শীতের আগমনী বার্তা। ধানের দাম ভালো থাকায় এবার নবান্ন উৎসব একটু ভিন্ন ভাবেই করার চিন্তা রয়েছে।

মিরাট গ্রামের কৃষক কলিম উদ্দিন বলেন কৃষকদের শক্তিই হচ্ছে ধানের দাম। কয়েক বছর যাবত ধানে লোকশান দেয়ায় আমার পরিবার থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে নাবান্নের আনন্দ। কিন্তু বর্তমানে পেঁয়াজের দাম আমাদের নবান্ন উৎসবকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। বাড়িতে মেয়ে-জামাই ও অন্য আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে আসবো। কিন্তু পেঁয়াজ কিনতে গেলে ফকির হতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বিভিন্ন জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে। মোট ১৮ হাজার ১শত ২৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমন ধান চাষ করা হয়েছিলো। এরমধ্য কাটারিভোগ ৪শত ২ হেক্টর, পায়জাম ১হাজার ২শত হেক্টর, স্বর্ণা ২হাজার ৯শত হেক্টর, বিনা-৭ ৯শত ১৫হেক্টর ও রেকর্ড পরিমাণ চিনিআতপ ১১হাজার ৩শত হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। তবে বিগত সময়ের চেয়ে চলতি মৌসুমে চিনিআতপ ধানের রেকর্ড পরিমাণ বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে, কৃষি অফিস জানায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন চলতি মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলছে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। বিঘা প্রতি ২০-২২মণ হারে ফলন পাচ্ছে কৃষক। বর্তমানে কৃষকের দম ফেলার ফুরসত নেই। তেমন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায়, পোকা-মাকড়ের তেমন কোন বড় ধরনের আক্রমণ না হওয়ায়, কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে ও কৃষি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে। তবে আগামীতে কোন সমস্যা না হলে আর অল্পকিছু দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে আমনধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ