Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জনদুর্ভোগ ও আ. লীগ হাত ধরাধরি করে চলাফেরা করে

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

জনদুর্ভোগ ও আওয়ামী লীগ পরস্পর হাত ধরাধরি করে চলাফেরা করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই সরকার যে জনগণের সমস্যা বুঝতে পারে না, কিংবা বুঝতে পারছে না এর বড় প্রমাণ বর্তমানের পেঁয়াজ সঙ্কট। সরকারি দলের লোকজনের সিন্ডিকেটের কারসাজিতে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে বাড়ানো হচ্ছে এর দাম। আওয়ামী লীগের ভেল্কিবাজরা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ টাকা জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছে। শুধু পেঁয়াজ নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে চালসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম। পত্রিকার খবর অনুযায়ী গত দুই মাসে আট ধাপে সিন্ডিকেট লুটে নিয়েছে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গত আড়াই মাস ধরে পেঁয়াজের দাম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে ট্রিপল সেঞ্চুরিতে ছুঁই ছুঁই করে বিশ্ব রেকর্ড করেছে। ১৬ টাকার পেঁয়াজ এখন ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ-রসুনের এই কৃষিপ্রধান দেশে মানুষকে আজ মিডনাইট সরকারের বাজার সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে হালি দরে পেঁয়াজ কিনে খেতে হচ্ছে! সঙ্কট সমাধানের পথে না গিয়ে সরকার পেঁয়াজ সঙ্কট নিয়ে দেশ-বিদেশে রসিকতায় মেতেছে। গতকাল (রোববার) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারকে বশংবদ সরকার উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের ইতিহাসে তো বটেই পৃথিবীর ইতিহাসে এমন আত্মমর্যাদাহীন সরকার আর দ্বিতীয়টি নেই। এই আত্মমর্যাদাহীন সরকারের সঙ্গে একমাত্র মিল পাওয়া যায় স্বাধীনতা হারানো দেশগুলোর সরকারের। আমাদের বর্তমান সরকারটির অবস্থাও এখন তেমনি দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই খাদ্য উপাদান নিয়ে নিত্যনতুন রঙ-ঢঙের কথা বলেই যাচ্ছেন। গত ৪ অক্টোবর ভারত সফরে গিয়ে মনে হয় বাংলাই ভুলে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পেঁয়াজ সঙ্কট নিয়ে তিনি হিন্দি ভাষায় রসিকতা করে বলেছিলেন : ‘ম্যায়নে কুক কো বোল দিয়া, আব সে খানা মে পেঁয়াজ বান্দ কারদো....। হিন্দি বোলচাল দিয়ে সেই অনুষ্ঠানে ভারতীয়দের খুব হাততালিও পেলেন। তারপর আরো কয়েক দেশ ঘুরে দেশে ফিরে ২৯ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজ না খেলে কী হয়? পেঁয়াজ ছাড়া আমি রান্না করি। পেঁয়াজ নিয়ে এত অস্থির হওয়ার কী আছে, আমি জানি না। গত শনিবার শেখ হাসিনা বললেন, ‘পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি, গণভবনে আজ পেঁয়াজ ছাড়া সব রান্না হয়েছে।’ এই অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষ কষ্ট বা সঙ্কটে পড়লে সেটা হয় উনার রসিকতার উপাদান। দেশের জনগণ জানতে চায়, কোনো কিছুর দাম বাড়লেই যদি সরকারপ্রধান পরামর্শ দেয়, ‘ওটা ছাড়াই চলতে’, তবে ওষুধের দাম বেড়ে গেলে রোগীকে তার পরামর্শ কি হবে? পেঁয়াজ সঙ্কট সৃষ্টির জন্য এই সরকারের অদক্ষতা, অযোগ্যতা, অর্বাচীনতা, অবহেলা যা অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ফ্রান্সের রানীর কান্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তার মতোই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা। যেমন- রুটি নাই তো কি হয়েছে, কেক খাবে।
বিএনপির প্রতিবাদ সভা আজ : পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির উদ্যোগে আজ সোমবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া একই ইস্যুতে দেশব্যাপী মহানগর ও জেলা সদরে কর্মসূচি পালিত হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন