Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, ২২ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

ঈদ ঘিরে জমে উঠেছে ইলেকট্রনিক্স বাজার মার্সেল ফ্রিজ ও এলইডি টিভিতে ক্রেতাদের আগ্রহ

প্রকাশের সময় : ২২ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ঃ ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে নতুন প্রবণতা। এবারের ঈদ সামনে রেখে দেশীয় ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রেতা আগ্রহ বেশি। গ্রাহকরা দেশে তৈরি ফ্রিজ, টিভি, এয়ারকন্ডিশনারসহ হোম এ্যাপ্লায়েন্স বেশি কিনছেন। বিগত বছরগুলোর তুলনায় দেশী ব্র্যান্ডের কদর এবার বেশি। আর এ অবস্থায় বাজারে খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে দেশী ব্র্যান্ড মার্সেলের পণ্যসামগ্রী। বিশেষ করে ঈদ সামনে রেখে মার্সেলের ফ্রিজ এবং এলইডি টিভি’র চাহিদা বেড়েছে। মার্সেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বাংলাদেশে তৈরি পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে। তাদের দাবি- দেশী পণ্যের উচ্চমান, সাশ্রয়ী মূল্য এবং উত্তম বিক্রয়োত্তর সেবার কারণে গ্রাহকরা বিদেশী পণ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
যে কারণে মার্সেলসহ অন্যান্য দেশীয় ব্র্যান্ডের পণ্য এবার তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে। জানা গেছে, রোজা, ঈদ এবং গরম বেশি পড়ায় এবার আগে ভাগেই জমে উঠেছে ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের বাজার। প্রতিদিনিই বাড়ছে ক্রেতাসমাগম। শোরুমগুলোও সাজানো হয়েছে নতুন নতুন মডেলের পণ্য দিয়ে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, রোজায় ফ্রিজ, এসি, এয়ার কুলার ও রিচার্জেবল ফ্যানের চাহিদা ও বিক্রি ব্যাপক বেড়েছে। এই বাড়তি চাহিদাকে মোকাবেলায় আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল মার্সেল। এবারের রমজানে গতবারের চেয়ে ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল মার্সেল। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত মজুদও গড়ে তোলা হয়েছিল। বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে বিক্রয় প্রতিনিধিদের দেয়া হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশনা। একারণেই দেশব্যাপী মার্সেল পণ্যের, বিশেষ করে ফ্রিজ ও এলইডি টিভির চাহিদা ও বিক্রি ব্যাপক বেড়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মার্সেল নিয়ে এসেছে নতুন মডেলের ফ্রিজ, এলইডি টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, ব্লেন্ডার, রাইস কুকার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইলেকট্রিক কেটলিসহ অন্যান্য হোম ও কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সেস। এর মধ্যে মার্সেল ব্র্যান্ডের ৪০ ও ৩২ ইঞ্চির দুটি নতুন মডেলের এলইডি টিভি বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মার্সেলের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (উত্তর) মোশারফ হোসেন রাজীব বলেন, সাশ্রয়ী মূল্য এবং পণ্যের উচ্চমানের কারণে মার্সেল গ্রাহকপ্রিয়তা পেয়েছে। তিনি বলেন, এবার ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের পছন্দে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিদেশী বিভিন্ন নামি-দামী ব্র্যান্ডের তুলনায় সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের দেশীয় ব্র্যান্ডের পণ্যের প্রতিই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।  
উৎপাদনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পণ্যের উচ্চমান, সাশ্রয়ী মূল্য, আকর্ষণীয় ডিজাইন ও বৈচিত্র্যময় কালার, সহজ কিস্তি সুবিধা, আইএসও স্ট্যান্ডার্ড দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা, দেশব্যাপী বিস্তৃত সেলস ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং সর্বোপরি দেশেই তৈরি বিধায় মার্সেল ব্রান্ডের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বেড়েই চলেছে।
মার্সেলের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (দক্ষিণ) শামীম আল মামুন বলেন, ইলেকট্রনিক্স পণ্যের সিংহভাগ বাজার দখলে নিতে কয়েকমাস আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্সেল।
এবছর রোজার মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
মার্সেলের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার শাহ শহীদ চৌধুরী বলেন, মার্সেলের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে। এটা দেশীয় শিল্প এবং উদ্যোক্তাদের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে মার্সেল বিশ্বাস করে, উচ্চমানের পণ্য এবং সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিয়ে আমরা দেশবাসীর মন জয় করব।
তিনি জানান, দেশব্যাপী বিস্তৃত আইএসও স্ট্যান্ডার্ড সার্ভিস পয়েন্টের মাধ্যমে গ্রাহকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। মার্সেল শুধু পণ্য নয়; সেবা বিক্রি করছে। উল্লেখ্য, মার্সেল আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দেড় শতাধিক মডেলের ২৫টি পণ্য বাজারজাত করছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ