Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

ডিসেম্বরেই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ নভেম্বর, ২০১৯, ২:২৩ পিএম
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ‘ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস’-এ (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার শুনানি আগামী ডিসেম্বরেই শুরু হবে। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) আইসিজে ট্রাইব্যুনালের বরাতে এমন তথ্যই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। এক বিবৃতিকে আইসিজে জানায়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার এই মামলার গণশুনানি ১০-১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময়ে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে জরুরি ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা বা ইনজাংশন দিতে আইসিজের কাছে অনুরোধ জানাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আফ্রিকার ছোট্ট দেশ গাম্বিয়া। আইসিজেতে গাম্বিয়ার করা এ মামলায় অভিযোগ বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নৃশংসতা চালিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালের ইউএন জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে মিয়ানমার।
রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় দ্রæতই এ মামলায় রায় দিতে আইসিজেকে অনুরোধ করা হবে বলে জানিয়েছে গাম্বিয়া। এর আগে গত ১১ নভেম্বর দেশটির বিচারমন্ত্রী আবু বকর তামবাদুর বরাতে মামলা দায়েরের তথ্যটিও জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
এ বিষয়ে আইসিজে বিবৃতিতে বলেছে, ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে এ মামলার শুনানি করবে তারা। প্রজাতন্ত্রী গাম্বিয়া যেসব প্রবিধান বা ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়ে বা অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করেছে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে শুনানিতে। ৫৭ জাতির সংগঠন ওআইসির পক্ষে এ মামলা করেছে বলে জানিয়েছে গাম্বিয়া। সেসময় খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আদালতে ৪৬ পৃষ্ঠার এক অভিযোগপত্রে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, ধর্ষণ ও উচ্ছেদের অভিযোগ আনে গাম্বিয়া।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৬ সালের অক্টোবরে রোহিঙ্গা ‘নির্মূলে’ এক অভিযান চালায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এ অভিযানে তারা রোহিঙ্গা হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন যৌন নিপীড়ন চালায়। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আটকে রেখে পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
গাম্বিয়া ও মিয়ানমার দুটি দেশই আইসিজের সদস্য রাষ্ট্র। আইসিজের নীতি অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলো অবশ্যই গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধ থেকে বিরত থাকবে।
শুধু তাই নয়, অন্যদের মানবাধিকার লঙ্ঘনে বাধা দেওয়া বা এ ধরনের অপরাধে কোনো দেশকে বিচারের আওতায় আনতে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে সদস্যদের।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালায়। এতে বাধ্য হয়ে কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তাদের বিরুদ্ধে এই নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা। এর বিচার চেয়ে আইসিজের কাছে মামলা করেছে গাম্বিয়া। এ দেশটির আইনজীবীরা বলেছেন, গাম্বিয়া চায় রোহিঙ্গাদের যাতে আর কোনো ক্ষতি না হয় এ জন্য তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ ঘোষণা করা হোক।
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত করেছে তার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের জন্য এই মামলাটি হচ্ছে প্রথম আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘের বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর বিরোধ মিটিয়ে ফেলার লক্ষ্যে ১৯৪৬ সালে গঠন করা হয় আইসিজে। ওদিকে ২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত বা বিচার করতে হেগ-ভিত্তিক একটি আদালত গঠন করা হয়। এর নাম ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি)। বৃহস্পতিবার এই আদালতের প্রধান প্রসিকিউটরকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। ওদিকে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় মামলা করেছে। এতে আসামী করা হয়েছে মিয়ানমারের গণতন্ত্রের সাবেক আইকন হিসেবে পরিচিত অং সান সুচিকে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন