Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

কুড়িগ্রামে লবণের দাম বেশী রাখায় ১৩জনের জরিমানা

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৯:৩৯ পিএম | আপডেট : ১০:০৫ পিএম, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরীতে লবণের দাম বেশী রাখায় ১৩ জনের জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। সন্ধায় অভিযান চালিয়ে এ ১৩ ব্যাবসায়ীকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমান আদালত তাদের জরিমানা করা হয়। 

ভূরুঙ্গামরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ভূরুঙ্গামারী সদরের ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেনকে ৫০হাজার এবং পাটেশ্বরী বাজারের আনোয়ার হোসেনকে ৫হাজার টাকা জরিমানা করেন। এদিকে নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন বাজার থেকে ১১জন খুচরা বিক্রেতাকে আটক করে প্রত্যেকের ৫শ টাকা করে জরিমানা করেন উপজেলা নির্ববাহী কর্মকর্তা নুর আহম্মেদ মাছুম।
এদিকে গুজব ঠেকাতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। বাজরে বাজারে মনিটরিং এবং মাইকিং করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের তৎপর ভূমিকার ফলে লবনের মূল্য স্বল্প সময়ে স্বাভাবিকে নেমে আসেলেও গ্রামাঞ্চলে মনিটরিং না থাকায় সেখানে এখনো চড়ামূল্যে লবন বিক্রি হচ্ছে বলে গুজব রয়েছে। নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহম্মেদ মাছুম জানান, গুজবে বিরুদ্ধে পুলিশ মাঠে নেমেছে এবং বণিক সমিতির পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে আশা করছি অল্প সময়ে সব ঠিক হয়ে যাবে।
কুড়িগ্রাম বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম জানান, দেশে লবনের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষ মেট্রিকটন। সেখানে মজুদ রয়েছে ১৮ লক্ষ মেট্রিকটন। আয়োডিনযুক্ত প্যাকেটজাত লবন সরকার বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। কোন খোলা লবন বিক্রি বা খাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। খোলা লবন শুধুমাত্র চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে লবন বিক্রি হচ্ছে বলে এই কর্মকর্তা জানান। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম জানান, গুজব সৃষ্টি করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী প্রতারণামূলক বাজার সৃষ্টি করেন। এ ব্যাপারে সকলকে সচেতন হতে হবে। গুজবে কান না দিয়ে যেসব ব্যবসায়ী চড়ামূল্যে লবন বিক্রি করছে তাদের সম্পর্কে তথ্য দিন আমরা ব্যবস্থা নিব।
সন্ধায় জেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে সবাই ছুটছে লবণের দোকানে। এই সুযোগে ব্যবসায়ী এবং খুচরা দোকনদাররা খোলা লবণে কেজি প্রতি ১০ টাকা এবং প্যাকেট লবণে কেজিপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়িয়েছে। ব্যাবসায়ীরা ৫০০টাকার বস্তা বিক্রি করছে ৭০০ টাকা। ঘন্টায় ঘন্টায় দাম বেড়েই চলছে। এরপরও লবণ লবণ বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা হিমসিম খাচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন লবণের দাম ১০০ টাকা হওয়ার কথা শুনে আমরা সাধ্যমত কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। যে যেভাবে পাচ্ছেন লবণ সংগ্রহ করছেন। লবন থাকা সত্বেও কিছু দোকনদার সংকট দেখাচ্ছেন। সরেজমিনে নাগেশ্বরী বেশকিছু হাটে ও দোকানে গিয়ে দেখা গেছে কেউ মাথায় কেউ ঘোড়ার গাড়িতে কেউবা মটর সাইকেলে লবণের বস্তা নিয়ে যাচ্ছেন। মহিলারা নিত্যান্ত দুই কেজি লবণ প্যাকেটে সংগ্রহ করছেন। নাগেশ্বরী উপজেলার সুবল পাড় বাজারে গিয়ে দেখা যায় দোকনে মানুষের ভির পড়েছে এখানে দোকানদার শহিদুল, লিটন জানান, খোলা লবণ ২০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতারা লাইনে দাড়িয়েও লবণ পাচ্ছে না বলে জানান ক্রেতারা। কেদারের আরেকজন পাইকারী বিক্রেতা মান্নান মিয়ার দোকানে গিয়ে দেখা যায় পর্যাপ্ত লবণ মজুদ রয়েছে তারপরেও ৫০০টাকার বস্তা ৭০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। তবে সংবাদ কর্মির উপস্থিতি টের পেয়ে বেচাকোনা বন্ধ করে দেন। তিনি জানান, তার কাছে আর লবন নেই। তবে গুদামে ২০০ অধিক বস্তা দেখা যায়। একজন ক্রেতা বলেন বিকালে এখান থেকে ৬০০ টাকা বস্তা কিনলেও সন্ধায় ৭০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ