Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

মোহামেডানের নবজাগরণ

জাহেদ খোকন | প্রকাশের সময় : ১৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১১:৪১ পিএম | আপডেট : ১২:২৪ এএম, ২০ নভেম্বর, ২০১৯

দীর্ঘদিন নানা কারণে সঙ্কটে থাকলেও নতুন ফুটবল মৌসুমকে ঘিরে যেন নবজাগরণ ঘটেছে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। তাই তো মতিঝিলস্থ ক্লাব প্রাঙ্গণে গতকাল বসেছিল সাবেক তারকা ফুটবলার ও সংগঠকদের মিলনমেলা। ঘরোয়া ফুটবলের দলবদল কার্যক্রমকে ঘিরেই এ মিলনমেলা রূপ নিয়েছিল উৎসবের আবহে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে যেন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে সাদা-কালো শিবিরে। এদিন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে, ডিজে সাউন্ড সিস্টেমের সূরের মূর্চ্ছ্বনায় ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে দলবদল কার্যক্রমে অংশ নিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে আসেন মোহামেডানের খেলোয়াড়রা। উৎসাহ-উদ্দীপনা আর উৎসবের আমেজেই খেলোয়াড়দের নিবন্ধন করান কর্মকর্তারা। এমন দৃশ্য চোখে পড়ত আশি বা নব্বইয়ের দশকে।

ক্লাবের রূপ, কর্মপরিধি বদলালেও মাঠের লড়াইয়ে দীর্ঘদিন বিবর্ণ মোহামেডান। বেশ অনেকদিন এখানকার পরিবেশও ছিল না ক্রীড়াবান্ধব। তবে আশার কথা হচ্ছে, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির ধাক্কা কাটিয়ে পরিবর্তনের সুবাতাস বইছে ক্লাবটিতে। পুরনো সদস্য, সাবেক খেলোয়াড়, সমর্থক ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা একাট্টা হয়েছেন সাদা-কালোদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে। মূলত ক্লাবের সাবেক তারকা ফুটবলার ও স্থায়ী সদস্য বাদল রায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠকদের একাট্টা করা সম্ভব হয়েছে। তিনি অসুস্থ থেকেও পুরনো সদস্য ও সাবেক খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে সবাইকে ক্লাবে ফিরিয়ে এনে অসাধ্য সাধন করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। মাত্র দুই মাস আগেও মোহামেডান ক্লাবে গেলে যাদের মাঝে দেখা যেত রাজ্যের হতাশা, এখন তাদের চোখে-মুখেই হাসির ঝিলিক, ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা। এ প্রত্যাশার মাত্রায় যোগ হয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসব। সাংগঠনিকভাবে বদলে যাওয়া মোহামেডান এখন উৎসবের রঙে রঙিন। ফুটবলের দলবদল কার্যক্রমকে উপলক্ষ্য করে যা ছাড়িয়েছে মাত্রা।

সাদা-কালোদের দলবদলে বর্তমান খেলোয়াড়দের বরণ করে নিতে কাল মোহামেডান ক্লাবে উপস্থিত হয়েছিলেন একঝাঁক সাবেক তারকা খেলোয়াড় ও সংগঠক। বাদল রায় ছাড়াও খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেনÑ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ও মোহামেডানের স্থায়ী সদস্য জাকারিয়া পিন্টু, সাবেক তারকা ফুটবলার জহিরুল হক, বশির আহমেদ, গোলাম সারোয়ার টিপু, প্রতাপ শংকর হাজরা, নওশেরুজ্জামান নওশের, মঈন উদ্দিন খান মঈন, মো: মালা, আবদুল গাফফার, হাসানুজ্জামান খান বাবলু, স্বপন দাস, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, কায়সার হামিদ, রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, জসিম উদ্দিন জোসি, ছাঈদ হাসান কানন, সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বির, ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব, নিজাম মজুমদার, সত্তর-আশির দশকে মোহামেডানের সাড়া জাগানো ক্রিকেটাদের মধ্যে ছিলেন আজহার হোসেন সান্টু, মাহমুদুল হাসান সাজু, সেলিম সাহেদ, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, হকির মাঠ মাতানো দলটির সাবেক তারকা সাজেদ এ এ আদেল, আরিফুল ইসলাম প্রিন্স, বাপ্পী, লিটু ও রাসেল মাহমুদ জিমিসহ আরো অনেকে। সংগঠকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑ মনিরুল হক চৌধুরী, মোস্তাকুর রহমান, রেজাউর রহমান সোহাগ, ফজলুর রহমান বাবুল, ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম ফজলুল হক খানের পুত্র ও ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সারওয়ার হোসেন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, মাহবুবুর রহমান, জিয়াউর রহমান তপু, আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স, টিটো ও নিপু। সবার গায়েই তখন শোভা পাচ্ছিল মোহামেডানের সত্তর দশকের ঐতিহ্যবাহী জার্সি সাদা-কালো কলারযুক্ত পলো-শার্ট।

বাদল রায়ের নেতৃত্বে দলবদলে অংশ নেয়ার আগে কেক কেটে, বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। শোভাযাত্রা শুরু আগে রেজাউর রহমান সোহাগের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মোহামেডানের আজীবন সদস্য ও বর্ষীয়ান ক্রীড়া সংগঠক মনিরুল হক চৌধুরী, মোজাম্মেল বাবু, বাদল রায় প্রমুখ। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানের পুনর্জাগরণের দিন আজ। যারা সব সাবেক খেলোয়াড় ও পুরনো সংগঠকদের একত্রিত করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। মনে হচ্ছে মোহামেডান ক্লাবে ফিরে এসেছে খেলাধুলার পরিবেশ। আমার বিশ্বাস, সবার চেষ্টায় সাদা-কালোরা ফিরে পাবে আগের গৌরব।’ স্থায়ী সদস্য বাদল রায় বলেন, ‘সবাইকে ধন্যবাদ আমাদের ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য। বিশেষ করে সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠকদের সঙ্গে মোহামেডানের সমর্থকরা যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ক্লাবের সম্মান ফিরিয়ে আনতে তা এক কথায় অসাধারণ। মোহামেডানের নবজাগরণের দিন আমি একটা কথাই বলতে চাইÑ ‘আমরা যে কোনো মূল্যে ক্লাবের সম্মান ফিরিয়ে আনব।’ মোজাম্মেল হক বাবু বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে মোহামেডানে প্রাণ ফিরে এসেছে। আজ মোহামেডানের নবজাগরণের দিন। এদিন সবাইকে একসঙ্গে পেয়ে আমরা আশাবাদী ক্লাবের সম্মান ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে। দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোকে কলুষমুক্ত করার জন্য আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি উদ্যোগ না নিলে ক্লাবগুলো কখনোই কলুষমুক্ত হতে পারত না। আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, আমি মনে করি বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মোহামেডান ফের জেগে উঠবে। অতীতের মতো আবার স্টেডিয়ামে দেখা যাবে দর্শকের ঢল।’

এরপরই বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বাফুফে ভবনের উদ্দেশে রওনা হন নতুন মৌসুমে মোহামেডানে যোগ দেয়া ফুটবলাররা। তাদের সঙ্গে ছিলেন দলের অস্ট্রেলিয়ান কোচ শন লেন। শোভাযাত্রার অগ্রভাগে ছিল ক্লাবের ক্রিকেট একাডেমির একঝাঁক কিশোর। তাদের পেছন পেছন পায়ে হেঁটে গন্তব্য বাফুফে ভবনে পৌঁছান মোহামেডানের সাবেক খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। বাফুফে ভবনে এসে ক্যাসিনো ঝড়ের পর সাদা-কালোদের নবজাগরণের কথাই বললেন কর্মকর্তারা। সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘মোহামেডানকে কখনোই নিঃশেষ হয়ে যেতে দেয়া যায় না। তাই সাবেক তারকা ফুটবলার ও কর্মকর্তারা একজোট হয়ে নতুনভাবে শুরু করলাম। আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল গড়তে পারিনি। তবে ফাইট দেবো বড় দলগুলোর সঙ্গে।’ ফুটবল সম্পাদক মঞ্জুর আলম মঞ্জুর কথায়, ‘সকলের সহযোগিতায় দুর্যোগ কাটিয়ে আবার আমরা একত্রিত হয়েছি ক্লাবের স্বার্থে।’ সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির বলেন, ‘দীর্ঘ দশ বছর পর আমি ফের ক্লাবের হয়ে দলবদল কার্যক্রমে এসেছি। ক্লাবের পুনর্জাগরণের জন্যই আমরা সাবেকরা একত্র হয়েছি।’ ভালোমানের পাঁচ বিদেশিসহ ৩০ জন ফুটবলারকে এবার নিবন্ধন করিয়েছে মোাহমেডান। নতুন জেগে ওঠা সাদা-কালোদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মোহামেডান সমর্থক দল ও মোহামেডান ফ্রেন্ডস।

 



 

Show all comments
  • Mohammed Reazul Alam sharif ২০ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৩৩ পিএম says : 0
    I am a big supporter of MOHAMEDAN SPORTING CLUB. It's a great news Mohamedan is back in track. What i believe to bring people back in football stadium we desperately need Mohamedan, Abahani, Wanderers, Warry, Victoria, Rahmatganj,BJMC,Dilkusha.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন