Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭, ১৪ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে ১০৬ নিহত : অ্যামনেস্টি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:২১ পিএম

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইরানে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর গত সপ্তাহে দেশটির ২১টি শহরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ চলাকালে কমপক্ষে ১০৬ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীদের জমায়েতে ভবনের ছাদ থেকে স্নাইপাররা গুলি চালিয়েছে, একটি ঘটনায় হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে। এদিন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানায় যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন নস্যাৎ করতে ‘অত্যাধিক এবং প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহার করছে। ২১ টি শহরে অন্তত ১০৬ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া সংস্থাটি আরো জানায়, নিহতের সংখ্যা ২০০ পর্যন্ত হতে পারে। সংস্থাটির মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানি সরকার সোমবার জানায়, কিছু ছোটখাটো ইস্যু থাকা সত্ত্বেও সবকিছু শান্ত আছে। এদিকে এই বিক্ষোভ অবসানের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কর্পস। এক বিবৃতিতে এই সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ইরানের শত্রুরা আরেকটি মতভেদের বীজ বুনতে চাচ্ছে। দেশে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এমন পদক্ষেপ শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে ইরান। এই বিক্ষোভ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও টুইটারে জানান, আপনাদের সঙ্গে আছে যুক্তরাষ্ট্র।এছাড়া বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তিপ্রয়োগ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার ঘটনায় নিন্দা জানায় হোয়াইট হাউস।
ইরান সরকার হঠাৎ পেট্রলের দাম বৃদ্ধি এবং সবার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পেট্রোল বরাদ্দ করার রেশন ব্যবস্থা কার্যকর করার ঘোষণা দেয়ার পর থেকে গত শুক্রবার থেকে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। পেট্রোল থেকে ভর্তুকি উঠিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর দেশটিতে পেট্রোলের দাম অন্তত শতকরা ৫০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, জনগনের স্বার্থেই পেট্রোলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখান থেকে পাওয়া অর্থ দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
১৫ নভেম্বর ইরানি কর্তৃপক্ষ সরকারি রেশনে দেওয়া পেট্রোলের দাম ৫০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিলে সেদিন থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত দুই জন নিহত হয়। রাস্তা অবরোধ ছাড়াও বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। রবিবার (১৭ নভেম্বর) বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ইরানের আধা সরকারি ফার্স নিউজ তিন দিনের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ১২ জন বলে দাবি করেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ২১টি শহরে বিক্ষোভের সময় অন্তত ১০৬ জন নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিশ্বাসযোগ্য খবর, নিশ্চিত হওয়া ভিডিও এবং মানবাধিকারকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই দাবি জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক সংস্থাটি। তাদের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কিছু কিছু খবরে নিহতের সংখ্যা ২০০ জনের মতো।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নিহতের সংখ্যা প্রমাণ করে ইরানের নিরাপত্তাবাহিনীর বেআইনি হত্যার প্রবণতা। তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অত্যাধিক ও প্রাণঘাতী শক্তিপ্রয়োগ করেছে। মানবাধিকার সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাবাহিনী নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি এবং কোনও স্বতন্ত্র ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত দাফন করতে বাধ্য করা হয়েছে।

গত সোমবার ইরানের সরকারি মুখপাত্র আলি রাইবেই দাবি করেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কেবলমাত্র ছোটখাটো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে আর আগামীকাল বা তার পরের দিন কোনও দাঙ্গা থাকবে না’। কয়েকটি শহর ও প্রদেশে জমায়েত থাকলেও আগের দিনের তুলনায় তা ৮০ শতাংশ কমে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, সোমবার রাতেও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ চলছিল এবং রাজপথে নিরাপত্তাবাহিনী বিরাজ করছে। এসব ভিডিওর সত্যতা রয়টার্সের পক্ষ থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিক্ষোভে ইরানি নাগরিকদের প্রাণহানির কথা স্বীকার করলেও ‘অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকান্ডের অপচেষ্টা’ চালানোর জন্য অভ্যন্তরীণ বিরোধী শক্তি ও ‘বিদেশি শত্রুদের’ দায়ী করেন তিনি। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাবি, এসব গোষ্ঠী ইরানকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইরান


আরও
আরও পড়ুন