Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সউদী রাজকন্যা বাসমাহ বিনতে সৌদ ‘নিখোঁজ’

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ নভেম্বর, ২০১৯, ৩:১৬ পিএম | আপডেট : ৩:১৮ পিএম, ২০ নভেম্বর, ২০১৯

প্রায় আট মাস ধরে সউদী রাজকন্যা বাসমাহ বিনতে সৌদের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তিনি গৃহবন্দি হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত সউদী রাজকন্যা বাসমাহ। বেশ কিছুদিন ধরে তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো রকমের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাকে রিয়াদে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজকন্যার ঘনিষ্ঠ একজন জানিয়েছেন, বাসমাহ চাইলেও তার বক্তব্য প্রকাশ করতে পারছেন না, কেননা তার সমস্ত যোগাযোগের উপর নজর রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঐ ব্যক্তি নাম প্রকাশ করতে চাননি।

বাসমাহ দীর্ঘদিন ধরে সউদী আরবের সাংবাধিনিক সংস্কার এবং মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে আসছেন। তার মতো দেশটির রাজতন্ত্রের সমালোচকরা ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্রোধের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজপরিবারের অনেককেই এজন্য হত্যা, গুম, কারাবন্দি ও হুমকির শিকার হতে হয়েছে। বাসমাহর বিষয়ে সউদী কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়ে কোনো মন্তব্য পায়নি ডয়চে ভেলে।
সূত্র অনুযায়ী, কন্যাকে নিয়ে বিদেশ পালিয়ে যেতে পারেন এমন সন্দেহে চলতি বছরের মার্চে বাসমাহকে বন্দি করা হয়। চিকিৎসার জন্য তার সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার কথা ছিল। সুইস ডাক্তারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ১৮ ডিসেম্বর বাসমাহ কন্যাসহ জেদ্দা ত্যাগের ছাড়পত্র পান। কিন্তু ভ্রমণের দিনই দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় এবং উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে আনা হয় বলে জানান তার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনজীবী লিওনার্ড বেনেট।
বেনেট জানান, কয়েক দফা ফোন কল করার পর তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হলেও তিনি তেমন কিছু বলেননি। বাসমাহর কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বাসমাহর গন্তব্য সুইজারল্যান্ডের জেনেভা হলেও, যাওয়ার কথা ছিল তুরস্ক হয়ে। অঙ্কারার সঙ্গে শত্রুতামূলক সম্পর্ক থাকায় রিয়াদ বিষয়টিকে দেখেছে সন্দেহের চোখে।
বাসমাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রটি জানিয়েছে, ‘(পালিয়ে যাওয়ার) অভিযোগ সত্য কিনা তারা (কর্তৃপক্ষ) সেই তদন্ত শেষ করেছে। তারপরও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বাসমাহর বিরুদ্ধে দেয়া তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু কেন এখনো তাকে আটকে রাখা হয়েছে সেটি তাদের জানা নেই।
কে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে তা পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছে এই সূত্র। রাজকন্যার নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাসমাহর এক বন্ধু এবং ব্যবসায়িক সহকর্মী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, শাসক পরিবার ঠিকই জানে বাসমাহ কোথায় আছেন।

রাজপরিবারের সরব সদস্য
৫ সন্তানের জননী বাসমাহ ২০০৬ সাল থেকে সউদী গণমাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি করেন। কিন্ত তার ব্যবসায়িক কর্মকান্ড ও জনগণের হয়ে কথা বলার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি দেশটির শাসকরা।
বিবাহ বিচ্ছেদের পর ২০১০-২০১১-র দিকে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। পরিচিতি পান গণমাধ্যমে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আরব অঞ্চলের দুর্নীতি, মানবাধিকার এবং সম্পদের বৈষম্য নিয়ে কথা বলে ব্যাপক আলোচনায় আসেন বাসমাহ। সউদী আরবে ধর্মীয় পুলিশের ক্ষমতা হ্রাস, নারীদের অধিকারসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্কারের দাবিও জানান তিনি। প্রশাসনের সমালোচনা করলেও রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে অবশ্য কখনো সরাসরি কোনো কথা তাকে বলতে শোনা যায়নি।
২০১৫ সালের দিকে সউদী আরবে ফিরে আসেন বাসমাহ। লন্ডনের বেশ কিছু ব্যবসা তিনি গুটিয়ে ফেলেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বিবিসি অ্যারাবিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়েমেন যুদ্ধের ইতি টানতে সউদী আরবের প্রতি আহবান জানান। এরপর থেকে তাকে আর গণমাধ্যমে দেখা যায়নি।

রাজপরিবারের রাজনীতি
বাসমাহ সাবেক সউদী রাজার ১১৫ সন্তানের একজন। এই পরিবারের একটি অংশকে বর্তমান রাজা সালমান ও তার পুত্রের সম্ভাব্য প্রতিদ্ব›দ্বী বলে মনে করা হতো। বর্তমান সউদী রাজপরিবারের মোট ১৪ হাজার সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে ক্ষমতা বিস্তারের জন্য বেশ কয়েকটি বিভাজন রয়েছে।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের সউদী রাজনীতি ও রাজপরিবার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাদাওয়ি আল-রাশিদ বলেন, রাজা আবদুল্লাহর শাসনকালে রাজকন্যারা সব ধরনের আলোচনায় অংশ নিতে পারতেন। এটা অনেকটা জনসংযোগের মতো ছিল। ললোয়াহ বিনতে ফয়সাল আল সৌদ ছিলেন তেমনই একজন। তিনি বাইরের জনসংযোগমূলক কর্মকান্ডের জন্য সউদী রাজ পরিবারের নারীদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ছিলেন। রাশিদ বলেন, এখন এই নারী পুরোপুরি নীরব হয়ে গেছেন।
সালমান ও তার সন্তান ক্ষমতার বাইরে থাকা এইসব নারীকে একে একে নীরব করে দিতে চাইলে তা অবাক করার মতো কিছু হবে না বলেই মনে করেন তিনি। ডয়চে ভেলে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সউদী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ