Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

মহাকাশে ‘চিনি’র সন্ধান!

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ নভেম্বর, ২০১৯, ৪:১৯ পিএম

মহাকাশে পাওয়া গেল প্রাণের আরও এক উৎস। এই প্রথম উল্কাখণ্ডে চিনির অস্তিত্ব খুঁজে পেল নাসার মহাকাশযান। ফলে এই ধারণা আরও জোরালো হলো যে, প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীতে উল্কাখণ্ডের আঘাতেই সৃষ্টি হয়েছিল জীবনের স্পন্দন।

‘প্রোসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’ পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণার প্রধান ইয়োশিহিরো ফুরুকাওয়া জানিয়েছেন, ‘এর আগে উল্কাখণ্ড থেকে প্রাণ সৃষ্টি হওয়ার বেশ কিছু উপাদান পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড এবং নিউক্লিওবেস। কিন্তু প্রাণ উৎপত্তির অন্যতম উপাদান শর্করা বা চিনির অস্তিত্ব কখনও পাওয়া যায়নি।’ ফুরুকাওয়া জানিয়েছেন, এই প্রথম মহাকাশে রাইবোজ-এর প্রত্যক্ষ নমুনা পাওয়া গিয়েছে। তার মতে, ‘মহাকাশের এই শর্করা প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীতে হয়তো আরএনএ নির্মাণে সাহায্য করেছিল এবং তার থেকেই ক্রমে প্রাণ সৃষ্টি হয়েছিল।’

জানা গিয়েছে, রাইবোজ-এর পাশাপাশি দু’টি পৃথক উল্কাখণ্ডে অ্যারাবিনোজ ও জাইলোজ-এর মতো জৈব-অপরিহার্য শর্করার সন্ধানও পেয়েছেন গবেষকরা। স্বভাবতই নমুনাগুলি এনডাব্লিউএ-৮০১ ও মার্চিসন-এর মতো কার্বন উপাদানে সমৃদ্ধ। আরএনএ (রাইবোনিউক্লিইক অ্যাসিড) গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রাইবোজ। আধুনিক বিশ্বে বার্তাবাহক অণু হিসেবে কাজ করে আরএনএ, যা ডিএনএ অণুর থেকে পাওয়া নির্দেশ কোষের ভিতরে উপস্থিত রাইবোজোম নামক আণবিক কারখানায় বয়ে নিয়ে যায়। এই বার্তা পড়েই জীবন প্রক্রিয়ার জন্য জরুরি নির্দিষ্ট প্রোটিন সমষ্টি সৃষ্টি করে রাইবোজোম।

আমেরিকার মেরিল্যান্ডে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গবেষক জেসন ডোয়ারকিন মনে করেন, ‘এমন অতি-প্রাচীন উপাদানে রাইবোজ-এর মতো ভঙ্গুর অণুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই আশ্চর্যের।’ সূত্র: ইকোনমিক টাইমস।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাকাশ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ