Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জনসনকে টেক্কা দিয়ে হারানো জমি ফিরে পেলেন করবিন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ৬:০৪ পিএম

আগাম নির্বাচনের আগে প্রথম টেলিভিশন বিতর্কের পর প্রধানমন্ত্রী জনসন ও বিরোধী নেতা করবিন প্রায় সমান জনসমর্থন পেয়েছেন৷ ব্রেক্সিটের প্রশ্নে দুই নেতা ভিন্ন গতিপথ তুলে ধরেন৷

ব্রিটেনের কোনো নির্বাচন সম্পর্কে পূর্বাভাষ যে কতটা ভুল হতে পারে, গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার তা প্রমাণ হয়ে গেছে৷ তাই জনমত সমীক্ষায় বিরোধী লেবার দলের তুলনায় যথেষ্ট এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও টোরি দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখছেন না৷ অন্যদিকে করবিন ব্রেক্সিট-সহ একাধিক বিষয়ে তার দলের বিকল্প গতিপথ তুলে ধরলেন৷

মঙ্গলবার রাতে লেবার নেতা জেরেমি করবিনের সঙ্গে প্রথম টেলিভিশন বিতর্কে জনসন দাবি করলেন যে, একমাত্র তিনিই ব্রিটেনকে দ্রুত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনতে পারবেন এবং ২০২০ সালের শেষে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করবেন৷ জনসন মনে করিয়ে দেন, যে তিনিই ইইউ-র সঙ্গে বিচ্ছেদ চুক্তি প্রস্তুত করেছেন৷ ক্ষমতায় ফিরেই সংসদে সেটি অনুমোদন করিয়ে তিনি ৩১শে জানুয়ারি ব্রেক্সিট কার্যকর করবেন৷ অন্যদিকে করবিন ক্ষমতায় এলে নতুন করে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি করে দ্বিতীয় গণভোটের মাধ্যমে ভোটারদের রায় নেবার যে অঙ্গীকার করেছেন, তার ফলে ব্রেক্সিটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে জনসন সতর্ক করে দেন৷ লেবার দল আদৌ ব্রেক্সিটের পক্ষে অবস্থান নেবে কিনা, তিনি করবিনের দিকে সেই চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন৷ করবিন সেই প্রশ্নে জনগণের রায় মেনে নেবার অঙ্গীকার করেন৷

করবিন নিজেকে জনসনের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেন৷ তার দাবি, ৬ মাসের মধ্যে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত গণভোট আয়োজন করে তিনিই ব্রিটেনের মানুষকে তাদের ভবিষ্যৎ বেছে নেবার প্রকৃত সুযোগ দিতে পারেন৷ করবিন বলেন, জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তি মোটেই জানুয়ারি মাসের মধ্যে কার্যকর করা যাবে না৷ তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে ১২ই ডিসেম্বর ‘ভোট ফর হোপ’ বা আশার প্রতি ভোট দেবার আহ্বান করেন৷ জনসন ক্ষমতায় ফিরলে শুধু ধনীদের জন্য করের ক্ষেত্রে ছাড়ের ব্যবস্থা করবেন বলে করবিন অভিযোগ করেন৷

প্রায় এক ঘণ্টার টেলিভিশন বিতর্কের পর চালানো জনমত সমীক্ষায় দুই নেতাই প্রায় সমান ফল করেছেন৷ জনসন ৫১ শতাংশ, করবিন ৪৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন৷ এতকাল পিছিয়ে থাকার পর করবিনের জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত উৎসাহজনক৷ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ভালো ফল করেছেন তিনি৷ তবে ব্যালট বাক্সের উপর এই বাড়তি সমর্থনের কতটা প্রতিফলন দেখা যাবে, সে বিষয়ে কোনো পূর্বাভাষ পাওয়া সম্ভব নয়৷

ব্রিটেনের দুই দলীয় রাজনৈতিক কাঠামোয় অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলি টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেবার সুযোগ পায় না৷ উদারপন্থি লিবডেম ও স্কটল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী এসএনপি পার্টি অনেক চেষ্টা চালিয়েও মঙ্গলবারের বিতর্কে অংশ নেবার সুযোগ পায় নি৷ এমনকি আদালতও সেই আবেদন খারিজ করেছে৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাজ্য


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ