Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

ছোট দলে বড় সঙ্কট

স্টালিন সরকার | প্রকাশের সময় : ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ৫:৪৮ এএম

দেশের একক কোনো দলের প্রতি মানুষের আস্থা না থাকায় ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠনের রেওয়াজ চালু হয়ে গেছে। এ সুযোগে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন দল। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হওয়ার সাংগঠনিক অবস্থা না থাকা সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়–য়া, জাসদের হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন মন্ত্রী হয়েছেন। তরীকতের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বার বার এমপি হচ্ছেন, বিএনএফের আবুল কালাম আজাদের মতো চালচুলোহীন নেতা রাজধানীর গুলশান-বারিধারা-বনানী-ক্যান্টনমেন্টের মতো আসনে এমপি হয়েছেন। ফলে এক সময়ের বঙ্গভবনে দাওয়াতপত্রের ‘লোভে’ প্যাডসর্বস্ব রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখন মন্ত্রী-এমপি হওয়ার স্বপ্ন ছুঁয়েছে। নীতি-নৈতিকতার বদলে শুধু কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা বেশি হওয়ায় ছোট দলগুলোতে বড় সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পান থেকে চুন খসার মতোই যখন-তখন ভাঙন।

দেশে ছোট ছোট দলগুলোতে অনেক বড় নেতাও রয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশগঠনে তাদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তবে আদর্শ-নীতি- নৈতিকতা-জনসেবা প্রসঙ্গে না গিয়েও বলা যায় বড় দলগুলোর মতোই একক ব্যক্তির ইমেজে ছোট দলগুলো পরিচালনার চেষ্টা হচ্ছে। বড় দলগুলোর মতোই একক ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছায় পরিচালিত হওয়ায় ছোট দলগুলোতে বড় সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কর্মী-সমর্থক হাতে গোনা; অথচ নেতায় নেতায় বিরোধে ভাঙনের কবলে পড়ছে ছোট দলগুলো।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৪৩টি। তবে অনিবন্ধিত দলের সংখ্যা দেড় শতাধিক। এসব দলের অধিকাংশই নিজস্ব কোনো অফিস নেই। প্যাডেই চলে দলগুলো। ইনকিলাবের পাঠকদের জন্য কয়েকটি দলের বিরোধের চিত্র তুলে ধরা হলো।

এলডিপি : ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ’ ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠিত হয় লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)। ওই সময় ৩২ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি এলডিপিতে যোগ দেন। দল গঠনের দুই বছরের মাথায় বি. চৌধুরী এলডিপি ত্যাগ করে বিকল্পধারায় ফিরে যান। তার সঙ্গে অনেকেই চলে যান। কয়েক বছরে মতভেদের কারণে অর্ধশতাধিক নেতা এলডিপি ছেড়েছেন। যারা রয়েছেন তারাও এখন দলকে দ্বিখ-িত করলেন। গত ১৮ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রথমে সম্মেলন করে সাবেক এমপি আবদুল করিম আব্বাসীকে আহ্বায়ক ও শাহাদত হোসেন সেলিমকে সদস্য সচিব করে এলডিপির ৭ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঘোষণা করা হয়। পরে কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম সংবাদ সম্মেলন করে নিজেই এলডিপির একমাত্র নেতা দাবি করেন। মূলত ‘জাতীয় মুক্তমঞ্চ’ গঠনকে কেন্দ্র করে দলটি ভাঙনের মুখে পড়ে। গত ৯ নভেম্বর কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে সভাপতি এবং ড. রেদোয়ান আহমেদকে মহাসচিব করে এলডিপির নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি থেকে বাদ পড়েন দলটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। তারপর থেকেই মূলত দলটির মধ্যে ভাঙনের সুর ওঠে। গত ১৮ নভেম্বর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা চূড়ান্ত রূপ নেয়।

বিকল্পধারা : রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট পদ হারানোর পর ২০০৪ সালে বিকল্পধারা গঠন করেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক বি. চৌধুরী। ২০০৬ সালে অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিকল্পধারা বিলুপ্ত করে কর্নেল (অব.) অলির সঙ্গে বিকল্পধারা গঠন করেন। সে সময় এ টি এম কামাল (বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক) বিকল্প ধারার সভাপতি হয়ে দলটিকে টিকিয়ে রাখেন। ওয়ান-ইলেভেনের পর বি. চৌধুরী এলডিপি ত্যাগ করে আবার বিকল্প ধারা প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ না দেয়া নিয়ে হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদল করেন বি. চৌধুরী। তিনি ২টি সংসদীয় আসনের বিনিময়ে বিকল্পধারা নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করেন। অতঃপর দলটির সভাপতি বি. চৌধুরী ও মহাসচিব আবদুল মান্নাককে ‘অব্যাহতি দিয়ে’ নতুন সভাপতি হন অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী। সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন অ্যাডভোকেট শাহ আহম্মেদ বাদল। জাতীয় প্রেসক্লাবে বেপারী-বাদল নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল।

সাম্যবাদী দল : দিলীপ বড়–য়ার বিরুদ্ধে সুবিধাবাদীর রাজনীতির অভিযোগ তুলে সাম্যবাদী দলকে খ-িত করে একটি অংশ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে গেছে। ব্র্যাকেটবন্দি সাম্যবাদী এই দলের নেতা হচ্ছেন সাঈদ আহমেদ। তার সঙ্গে রয়েছেন সিনিয়র নেতা আরিফুল হক সুমন, হানিফুল কবির, মেজবাহ উদ্দিন মন্টু, কাজী মোস্তফা কামাল। দিলীপ বড়–য়া এখন নিজেই নেতা নিজেই কর্মী।

ওয়ার্কার্স পার্টি : ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ২৮ অক্টোবরের কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচিত হলেও তিনি ‘ভালো’ নেই। আওয়ামী লীগ সরকারে মন্ত্রিত্ব না পাওয়ার বেদনা, ক্যাসিনো কা-ে নাম আসা এবং ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেয়ায় বিপদে; আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই ক্যাসিনো কা-ে তার গ্রেফতার দাবি করেছেন। তারপর নিজের ঘর হিসেবে পরিচিত দলও ভেঙে গেছে। তিনি দলে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছেন এমন অভিযোগে তাকে বর্জন করে পৃথক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ৬ জন সিনিয়র নেতা।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বক্তব্যের পর চাপে থাকা রাশেদ খান মেনন ১৪ দলকে সন্তুষ্ট করতে পারলেও নিজের দলে ভাঙন ঠেকাতে পারছেন না। তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন পলিটব্যুরো সদস্য নুরুল হাসান ও ইকবাল কবির জাহিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাকির হোসেন হবি, মোফাজ্জেল হোসেন মঞ্জু, অনিল বিশ্বাস, তুষার কান্তি দাস। এর আগে দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস দল ত্যাগ করেন। মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি সুবিধাবাদী এবং নিজের স্বার্থে দলীয় আদর্শ বিসর্জন দিয়ে রাজনীতি করেন। তিনি নিজের স্ত্রীকেও এমপি করেছেন দলের সিনিয়র নেত্রীদের বঞ্চিত করে। এর আগে বিভিন্ন সময় প্রখ্যাত বাম নেতা টিপু বিশ্বাস, শ্রমিক নেতা আবুল বাশার, সাইফুল হক পৃথক দল গঠন করেছেন। হায়দার আকবর খান রনো সিপিবিতে যোগদান করেছেন। প্রখ্যাত রাজনীতিক ভাষাসৈনিক মতিন (আবদুল মতিন) মৃত্যুর আগে মেননের বিরুদ্ধে ‘দালালির’ অভিযোগে দলত্যাগ করেছিলেন।

জেএসডি : আ স ম আবদুর রবের জাসদের অভ্যন্তরে আগুন জ্বলছে। তিনি দলের জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন ২৮ ডিসেম্বর। এর আগে তার বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্র, কোটারিতন্ত্র ও রাজনৈতিক আদর্শের বিচ্যুতির অভিযোগ তুলেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতনসহ ৮ সিনিয়র নেতা। মালেক রতন যে নতুন জাসদ গঠন করতে যাচ্ছেন তার সঙ্গে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি এম এ গোফরান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আতাউল করিম ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়া খোন্দকার, দেলওয়ার হোসেন, মোশাররফ হোসেন, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। আ স ম রব ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণার পর আবদুল মালেক রতন পাল্টা ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকায় জাতীয় কনভেনশনের তারিখ ঘোষণা করেছেন।

জাসদ : ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক হাসানুল হক ইনুর খ-িত জাসদ আবার দ্বিখ-িত হয়েছে। ২০১৬ সালে কাউন্সিলের আগে ইনুর বিরুদ্ধে আদর্শচ্যুতি এবং সুবিধাবাদী রাজনীতির অভিযোগ তোলেন দলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া। ওই সময় ইনু মন্ত্রী ছিলেন। কাউন্সিলে ইনু নতুন করে সভাপতি ও শিরিন আক্তার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেও পৃথক জাসদ গঠন করেন শরীফ নুরুল আম্বিয়া, মঈন উদ্দিন খান বাদল, নাজমুল হক প্রধান। কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দিন খান বাদল কয়েক দিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। দুই গ্রুপই এখন ১৪ দলীয় জোটের শরিক।

জাগপা : ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয় জাগপা। আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুর পর জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনৈতিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) দুই দফায় ভাঙনের মুখে পড়ল। ২০১৬ সালে মহিউদ্দিন বাবলু পৃথক জাগপা গঠন করেন। তার সঙ্গে নগর সেক্রেটারি সানাউল্লাহ সানু, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। ওই বছরের ১৫ অক্টোবর মহিউদ্দিন বাবলু সভাপতি হয়ে জাগপার কমিটি গঠন করেন।

চলতি বছর কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বে ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ গঠনের পর ওই মঞ্চে অংশগ্রহণ নিয়ে বিরোধে জাগপা নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়ে। দলের সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের জাতীয় মুক্তিমঞ্চে অংশগ্রহণ তার একান্ত ব্যক্তিগত বলে বিবৃতি দেন দলের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান। অতঃপর ৪ সেপ্টেম্বর খন্দকার লুৎফর রহমানকে দলকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে আসাদুর রহমান খানকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেয়া হয়। পাল্টা লুৎফর রহমান দলীয় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগে জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আসাদুর রহমান খানকে দল থেকে অব্যাহতি দেন। বর্তমানে দলটির একাংশের সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, অপর অংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার আবিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান।

গণফোরাম : কনসালটেন্সির লক্ষ্যে গঠিত ‘গণতান্ত্রিক ফোরাম’ থেকে রাজনৈতিক দল গণফোরাম গঠনের সময় সারাবিশ্বে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। গত ২৬-২৭ বছরে দলটি যে কত দফায় ভেঙেছে তার হিসাব নেই। সর্বশেষ ভাঙনের কবলে পড়ে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। বিরোধ শুরু হয় সভাপতি কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টুর মধ্যে। এ অবস্থায় গত ২৬ এপ্রিল গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল করা হয়। মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে বাদ দিয়ে গত ৫ মে দলটির নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করা হয় ড. রেজা কিবরিয়াকে। অতঃপর দুই নেতার বিরোধ চরমে। গত ২৬ মে একই দিনে ড. কামাল হোসেন ও মোস্তফা মোহসীন মন্টু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের দাওয়াত দিয়ে পৃথক পৃথকভাবে অনুষ্ঠান করেন। আবার দলের সিনিয়র নেতা রফিকুল ইসলাম পথিক সভাপতির বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ এবং নীতিহীনতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন। এখন ড. কামাল হোসেন ও মোস্তফা মোহসীন মন্টু বিপরীতমুখী।

লেবার পার্টি : বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ লেবার পার্টি দ্বিখ-িত হয়েছে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর। মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদীকে সরিয়ে ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত করায় দলটি ভেঙে যায়। বর্তমানে এক অংশের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। অপর অংশের চেয়রম্যান এমদাদুল হক চৌধুরী। জানা গেছে, দুই গ্রুপই ২০ দলীয় জোটে রয়েছেন।

এনপিপি : ২০০৭ সালের ১৯ জুলাই শেখ শওকত হোসেন নীলুর নেতৃত্বে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) গঠিত হয়। মহাসচিব হন ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। ২০১৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ১৮ দলীয় জোটে যোগ দেয়ার পর ২০১৫ সালে নীলু বিএনপি জোট থেকে বের হলে ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে একটি অংশ জোটে রয়েছে। শেখ শওকত হোসেন নীলুর মৃত্যুর পর এখন তার ছোট ভাই শেখ ছালাউদ্দিন ছালু মূল অংশের (নিবন্ধিত) চেয়ারম্যান। তিনি গঠন করেছেন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট।

এছাড়াও ২০০৭ সালের ২১ জুন ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা হয় প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) কিংস পার্টি হিসেবে পরিচিত দলটি প্রতিষ্ঠার পর ৫ম দফায় ভেঙেছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকার তৎকালীন চেয়ারম্যান কাজী ফারুক আহম্মদের ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। এই দলগুলোর কোনোটিই ভালো অবস্থানে নেই।

 



 

Show all comments
  • শাফায়েত ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ২:৪৯ এএম says : 0
    এরা বেশির ভাগই ওয়ান ম্যান আর্মি
    Total Reply(0) Reply
  • শান্তা আক্তার ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ২:৫১ এএম says : 0
    এসব দল নিয়ে লিখে আপনাদের মুল্যবান সময় নষ্ট না করলেই খুশি হতাম
    Total Reply(0) Reply
  • পারভেজ ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ২:৫২ এএম says : 0
    স্টালিন সরকার ভাই, সমসাময়িক বড় সমস্যাগুলো নিয়ে আপনার লেখা প্রত্যাশা করছি
    Total Reply(0) Reply
  • Yeasin Ahmed ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ২:৪৭ এএম says : 0
    এদের তো পান থেকে চুন খসার মতোই যখন-তখন ভাঙন
    Total Reply(0) Reply
  • জাহিদ ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ২:৪৮ এএম says : 0
    এসব ব্যক্তি কেন্দ্রিক স্বার্থান্বেসী দলগুলোর কারণেই আজকে দেশের এই করুণ অবস্থা
    Total Reply(0) Reply
  • প্রিয়তা ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ২:৪৯ এএম says : 0
    এদেরকে এত গুরুত্ব দেয়া তো কিছু নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • আলতাফ হোসাইন ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ২:৫৩ এএম says : 0
    এদের মধ্যে ১/২ জন ছাড়া বাকীরা মেম্বারী ইলেকশন করলেও জিতততে পারবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • Rafik Islam ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ২:০০ এএম says : 0
    ai sob dol banano e hoy bivinno sarthe . jokhon sartho aktu kom basi hoy tokhon e vege jay
    Total Reply(0) Reply
  • *মজলুম জনতা* ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ৮:০৪ এএম says : 0
    বাংলাদেশের রাজনিতির বাস্তব দৃশ্যপট আপনি তুলে ধরেছেন।ভাংগা গড়ার মধ্য দিয়ে রাজনিতি।আর্দশ্ নিতি নৈতিকতা বির্বজিত রাজনিতির বিচারন।স্বার্থন্বেসি রাজনিতিআজ প্রকট আকারধারন করেছে। রাজনিতি হওয়ার কথাছিল দেশের ও জনগনের জন্য,কিন্তু রাজনিতি আজ ব্যাক্তি স্বার্থের জন্য।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সঙ্কট

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ