Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার , ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

নেহেরুর রূপরেখা ও বৈষম্য

ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মুসলমানরা আতঙ্কে-১

সিএনএন | প্রকাশের সময় : ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

ভারতের স্বাধীনতার উষালগ্নে, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে সবার জন্য একটি আকাক্সিক্ষত ও নির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন জাওহরলাল নেহেরু। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট সংসদে দাড়িয়ে, জোরালো কন্ঠে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ভারত এমন একটি দেশ হবে যেখানে সকল ধর্মের লোকের সমান অধিকার, সুযোগ-সুবিধা এবং দায়িত্ব থাকবে। ৭০ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরে, এখন যেসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে জাতির জন্য ভারতের যে রূপরেখা নেহেরু তুলে ধরেছিলেন, সেটি ভেঙে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কিছুদিন আগে, নভেম্বরের ৯ তারিখে, হিন্দু এবং মুসলমান উভয়ের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় শতাব্দী প্রাচীন বিতর্কিত জায়গায় হিন্দুদেরকে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে ভারতের শীর্ষ আদালত। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু একটি ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের যে রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার পরিপন্থী।

হিন্দুরা বিশ্বাস করে, যে জায়গাটি হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রধান দেবতা রামের জন্মস্থান। তবে, মুসলমানরাও কয়েক শতাব্দী ধরে সেখানে প্রার্থনা করেছেন। অযোধ্যার এই বিতর্কিত জায়গাটি নিয়ে দেয়া রায়টি মুসলমানদের জন্য একটি ধাক্কা হিসাবে দেখা গেছে। এমন এক সময়ও এই রায় দেয়া হল যখন ধর্মনিরপেক্ষ থেকে ক্রমাগত হিন্দু দেশে পরিণত হতে থাকা ভারতে মুসলমানরা নিজেদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে রুপান্তরিত হতে দেখছে।

ভারতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, তবে বিগত কয়েক বছরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক ঘৃণ্য অপরাধের সংখ্যা ভয়ানকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৩০ কোটি জনসংখ্যার ভারতে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। গত আগস্টে, কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা কেড়ে নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে, এই অঞ্চলের উপরে নয়াদিল্লির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

একই মাসে, ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য আসামে বিতর্কিত নতুন জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনে বাদ পড়ে প্রায় ২০ লাখ নাগরিক। সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, রাজ্যটিতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য ও তাদের বিরুদ্ধে হওয়া ধর্মীয় বৈষম্যকে ন্যায্যতা দিতে এই আইনের প্রয়োগ করা হতে পারে। এসব সিদ্ধান্তের সবই দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নেয়া হয়েছে, যিনি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে বারবার কথা বলেছেন এবং একজন স্ব-ঘোষিত হিন্দু জাতীয়তাবাদী।

মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মূল ধারাটি এসেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) থেকে। ‘আরএসএস’ হচ্ছে হিন্দু জাতিয়তাবাদ প্রচারের জন্য ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ডানপন্থী সংগঠন। এ কারণে, চলতি বছরের মে মাসে যখন বিজেপি পুনর্র্নিবাচিত হয়, ভারতীয় মুসলমানদের আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হয় যে, সমাজের ধারায় পরিবর্তন আসছে। যদিও মোদি তাদের আশঙ্কাকে ‘কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু তার দ্বিতীয় মেয়াদে ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতের মুসলমানদের পক্ষে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছে। (চলবে)

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন