Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ২:৫৪ পিএম

বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মিছিল অংশগ্রহণ করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন, ছাত্রদল ঢাকা পশ্চিমের সভাপতি জুয়েল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক কাউসার, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রনি, পল্টন থানা যুবদল নেতা নজরুল ইসলামসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
মিছিল শেষে এক পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে পুরোদমে টালবাহানা চলছে। ২৯ ডিসেম্বরের রাতের ভোটের সরকার সকল অবৈধ ক্ষমতার জোরে বেগম জিয়াকে বন্দী করে রেখেছে। গুরুতর অসুস্থ নেত্রীর জামিনে বাধা দেয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে অরাজকতা, অনাচার, দুরাচার ঢাকতেই বেগম জিয়াকে এখনও মুক্তি দেয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন,  বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় বন্দী করার মূল কারণই ছিল মধ্যরাতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা। বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে ভোট ডাকাতির কলঙ্কিত নির্বাচন কখনো সম্ভব ছিল না। কারণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জনগণের নিকট একজন জনপ্রিয় নেত্রীর নাম। তিনি জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রতীক, সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক। এইজন্যই তাঁর ওপর চলছে নির্যাতনের বিভিষিকা। রিজভী বলেন, চারিদিকে এখন  দুর্ভিক্ষের প্রতিধ্বণি, দেশজুড়ে হাহাকার চলছে। চুয়াত্তরের চেয়েও খারাপ অবস্থা বিদ্যমান। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের একেক মন্ত্রী দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ে একেক কথা বললেও বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। মন্ত্রীদের কথা এখন চরম রসিকতায় পরিণত হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্যের দাম জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। সরকারের কোথাও কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। নিজেদের এই সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধী দল ও মতকে দমন করা হচ্ছে।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, কোনভাবেই জড়িত না থাকলেও সাজানো অভিযোগ ও মামলায় সুপরিকল্পিতভাবে বেগম জিয়াকে সাজা দিয়ে বন্দী করে রেখেছে সরকার। এদেশে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর আমলে যারা সত্যবাদী ও প্রতিবাদী কন্ঠস্বর তাদের জায়গা হয় কারাগারে। আর গণতন্ত্র হত্যাকারীরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রাখে। যারা এখন নিজেদেরকে সরকার বলে দাবি করছে তারা অবৈধ ও ভোট সন্ত্রাসী। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরে পেতে দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোন বিকল্প নেই। আর জনগণের মিলিত আন্দোলনেই কেবলমাত্র দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্ত হবেন এবং গণতন্ত্রের বিজয় সুনিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, আমরা এই মূহুর্তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি চাই।” বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এর নেতৃত্বে মিছিল শুরু হলে মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ‘গণতন্ত্রের মা’ এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে সোচ্চার কন্ঠে শ্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলেন।


 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন