Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

মুখ থুবড়ে পড়েছে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

চলতি মাসের শুরুর দিকে ব্যাংককে ১৬টি দেশ যখন এক হয়ে রিজিওনাল ক¤িপ্রহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করছিল, তখন একমাত্র দেশ হিসেবে ভারত সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে।

২০১২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া আরসিইপি আলোচনার মধ্যে আসিয়ানের ১০টি দেশ ছাড়া এ অঞ্চলে অন্য ছয়টি দেশ – চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারত চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় তাকে বাদ দিয়েই বাকি সদস্যদের মধ্যে ২০২০ সালে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বাকি ১৫টি দেশ তাদের আলোচনায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

২০১৪ সালের মে মাসে ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নব্বই দশক থেকে অনুসৃত ‘লুক ইস্ট’ নীতি বদলে ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি গ্রহণ করেন। তিনি দাবি করেন যে, তার নীতি আরও বেশি প্রগতিশীল এবং এটা ভারতকে এশিয়া প্রশান্ত অঞ্চলে আরও সমন্বিত করবে।

পাঁচ বছর পরও ভারত তাদের উচ্চাকাক্সক্ষার সাথে মিলিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে পারেনি। অ্যাক্ট ইস্ট নীতি প্রত্যাশার অনেক পিছনে পড়ে আছে, এবং আবারও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে ভারত।
অ্যাক্ট ইস্ট নীতির পেছনে

অ্যাক্ট ইস্ট নীতির সহযোগিতার জন্য ভারত ২০১৫ সালে নতুন ম্যারিটাইম সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি (আইএমএসএস-২০১৫) গ্রহণ করে। এই কৌশলে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে সংযোগকারী আন্দামান সাগরকে ‘ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলকে ভারতের ক‚টনীতিক ও ভ‚-রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের তালিকায় উঁচু স্থান দেয়া হয়েছে।

সা¤প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বেড়েছে। ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ভারতের মোট বাণিজ্যের ৪৯ শতাংশ হয়েছে এশিয়ার দেশগুলোর সাথে, এবং এর মধ্যে ২৩ শতাংশ হয়েছে প‚র্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে। অন্যভাবে বললে প‚র্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে ভারতের আমদানি ও রফতানি এরই মধ্যে তাদের সার্বিক বৈদেশিক বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশ দখল করেছে।
প‚র্ব এশিয়াতে ভারতের ক‚টনৈতিক অগ্রাধিকার দেয়ার কারণ হলো ম‚লত অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং এটা শুধু নৌ বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।


অ্যাক্ট ইস্ট নীতির সীমাবদ্ধতা
২০১৫ সাল থেকে ভারত ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো আসিয়ান দেশগুলোর সাথে যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নিয়ে আসছে। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে ১৬টি দেশকে নিয়ে নৌ সামরিক মহড়ার আয়োজনও করেছে তারা। প‚র্ব এশিয়াতে, জাপানের সাথে নৌ নিরাপত্তা সহযোগিতার সম্পর্কও স্থাপন করেছে ভারত। ২০১৬ সালে ভারত জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রকে মালাবার নৌ মহড়ায় অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানায়। সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে অ্যাক্ট ইস্ট নীতি মোটামুটি ফলপ্রসু হয়েছে বলা যায়।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার সাফল্যের বিপরীতে ভারত আর প‚র্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক চুক্তিগুলোর অগ্রগতি খুবই দুর্বল। এ পর্যন্ত শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সমুদ্র ও মৎস্য সম্পদ নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ভারত। দুই পক্ষ তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলেছে যে, তারা আরও নৌ সহযোগিতাকে উৎসাহিত করবে এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পে অংশীদারিত্ব আরও গভীর করবে। এটা বলা যেতে পারে যে, ভারত তাদরের অ্যাক্ট ইস্ট নীতি বাস্তবায়তে দ্বিধাগ্রস্ত রয়েছে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিনিময় ও কৌশলগত সমন্বয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

সহযোগিতা, সঙ্ঘাত নয়
এটা বলা যেতে পারে যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির পেছনে আগ্রাসী অ্যাক্ট ইস্ট নীতি নিয়ে ভারতের লেগে থাকার বিষয়টি অনেকটাই বোধগম্য। কিন্তু এই নীতির যে সীমাবদ্ধতা ও সঙ্ঘাতের দিক রয়েছে, সেগুলো তাদের অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা আরও স্পষ্ট হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতের জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের ২৯০০ রকমেরও বেশি পণ্য এখন আর কোন শুল্ক ছাড় সুবিধা পাচ্ছে না।
অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে অচলাবস্থার সাথে সাথে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ৬% এর নিচে নেমে এসেছে। এই অবস্থা থেকে ভারত যদি বেরিয়ে আসতে চায়, তাহলে তাদেরকে আরও রূপান্তরযোগ্য ও আন্তরিক সহযোগিতা নীতি এগিয়ে আসতে হবে। সূত্র : এসএএম।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন