Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে চায় তুরস্ক : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার জন্য নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে চায় তুরস্ক। তিনি বলেন, কারিগরি সহায়তা বা উৎপাদিত দ্রব্য থেকে অথবা অবকাঠামো তৈরী করা, বিভিন্ন খাতে জাপানের জাইকা, জেত্রো, কোরিয়ার কোইকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যালয় স্থাপন করে যেভাবে তাদের উৎপাদিত দ্রব্য বাজারজাত করে ঠিক সেভাবে তুরস্কও বাংলাদেশে তাদের কার্যালয় স্থাপন করে কর্মপরিচালনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ সম্পর্কে তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতের বলেছেন, যেহেতু বাংলাদেশে তাদের বাজার রয়েছে এবং তারা যেহেতু ইউরোপসহ অন্যান্য দেশের প্রবেশদার, তাই বিশ্বে তাদের একটি অন্যরকম গুরুত্ব রয়েছে। এ ধরনের কার্যালয় স্থাপন করে কর্মপরিচালনা করলে বাণিজ্য সংক্রিয়ভাবেই অনেকগুন বেড়ে যাবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন। 

গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের আঙ্কারায় অর্থমন্ত্রী তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষকি ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে পারস্পারিক আলোচনা হয়। এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দিকী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. দাউদ আলী।
সূত্রমতে, তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ২০১০ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। তখন তুরস্কে বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য ছিল ৪০০ মিলিয়ন। তখন এ বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, এটিকে ৩ বিলিয়নে উন্নীত করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে বিশেষ করে, শুল্ক বাধার কারণে বাংলাদেশের রফতানি তেমন বাড়েনি, যা বর্তমানে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। এটাকে কিভাবে ৩ বিলিয়ন ডলার করা যায় সে বিষয়ের আলোচনায় তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতের বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের কূটনেতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমার একে অন্যের প্রতিযোগী না হয়ে ব্যবসা করতে হবে। যেসব দ্রব্য উৎপাদনে তুরস্ক নিজেই ভালো করছে সে সব দ্রব্য নয় বরং অন্য দ্রব্যসমূহ এবং যেগুলোর প্রতি তুরস্কের চাহিদা রয়েছে সেই দ্রব্যগুলো রফতানিতে বাংলাদেশ সুযোগ নিয়ে ভালো করতে পারে। আমরাও বাংলাদেশকে সে সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান করতে পারি। বাংলাদেশ কৃষি খাত, এগ্রো প্রসেসিং, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, ফ্রুট প্রসেসিং বিশেষ করে আম, লিচু, কাঁঠাল, আনারস প্রসেসিং এর মাধ্যমে বাণিজ্য বাড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে তুরস্কও সহায়তা প্রদান করতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গরু উৎপাদনে অগ্রগতির বিষয়টি উঠে এসেছে। এক্ষেত্রেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ গরু উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে এবং গুণগত দিক থেকে যেকোনো দেশের তুলনায় উৎকৃষ্ট মানের গোশত উৎপাদন করছে সেহেতু এগুলোও রফতানি বাণিজ্যের আওতায় আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে হালাল সার্টিফিকেশনের যে প্রয়োজনীয়তা সেক্ষেত্রে তুরস্ক বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান করতে পারে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুবিধাগুলো তুলে ধরলে তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের চামড়াজাত দ্রব্যের প্রতি অত্যধিক আগ্রহ ব্যক্ত করেন। আশিটি খাতে তুরস্ক যেহেতু অত্যন্ত সফল তাই এই দুটি খাতে বাংলাদেশ সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রেরণের অনুরোধ ব্যক্ত করেন।
পৃথিবীর অন্যতম প্রধান জনবসতি ঘনত্বপূর্ণ একটি ছোট দেশ বাংলাদেশ। এখানে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত বড় হুমকি যা বাংলাদেশর সা¤প্রদায়িক স¤প্রতি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। আর তাই বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবসনের কোনো বিকল্প নেই। তাই অর্থমন্ত্রী এ সমস্যাটি সমাধানে তুরস্কে সহায়তা কামনা করেন। তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে আরো বেশি আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সমস্যাটি সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার পাশাপশি যেহেতু বিতাড়িত এই অসহায় মানুষগুলো যেহেতু মুসলমান তাই বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলো ভাগাভাগি করে তাদেরকে আশ্রয় প্রদান করলে সমস্যা অনেকটাই সমাধান হতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট এ বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সালাম ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ করেন এবং তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরের জন্য সম্মতি জানান।



 

Show all comments
  • Hamim Mahdi ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ৫:১০ এএম says : 0
    ভালো, কোন অসুবিধা নেই। ভারত এমনটা চাইলে সমস্যা ছিল। ভয় লাগতো।
    Total Reply(0) Reply
  • Abir Islam ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ৫:০৯ এএম says : 0
    আমরাও চাই তুরস্ক আমাদের সাথে সম্পর্ক রাখুক
    Total Reply(0) Reply
  • Arfin Aryan Khan ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ৫:১০ এএম says : 0
    বেশ ভালো একটা ডিল আমার মত এটাকে গ্রহণ করা উচিত
    Total Reply(0) Reply
  • HM Masud Khan ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ৫:০৯ এএম says : 0
    Alhamdulillah
    Total Reply(0) Reply
  • Firoz Khan ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ৫:০৯ এএম says : 0
    All the best..
    Total Reply(0) Reply
  • Md Russell Hosayeen Rafee ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ৫:০৯ এএম says : 0
    yes we all bangladeshi want it
    Total Reply(0) Reply
  • Salman Khan Salman ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ৫:১০ এএম says : 0
    তুরস্কের মত পরাশক্তি র সাহায্য পেলে আমরা অনেক উন্নতি করবো
    Total Reply(0) Reply
  • Md. Haris Ali ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ৫:০৮ এএম says : 0
    Yes
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন