Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

আসামিরা বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রশাসন আবরার হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৬ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আরো ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক ও বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনের সদস্য সচিব প্রফেসর মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আবরার হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে বুয়েটের বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন এই সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন কি না সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি আন্দোলনকারীরা। তবে তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে বাকি ২ দফা দাবি মেনে নিলে ক্লাস পরীক্ষায় অংশ নেবেন তারা।
বহিষ্কৃতরা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সমাজসেবা বিষয়ক উপ-সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, সাবেক সহ-সভাপতি এস এম মাহমুদ সেতু এবং সদস্য ও কর্মী মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মুনতাসির আল জেমি, মুজাহিদুর রহমান, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, শামীম বিল্লাহ, মাজেদুর রহমান, আকাশ হোসেন, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম (তানভীর), মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান জিসান, মোয়াজ আবু হোরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত ও মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম। এদের মধ্যে আশিকুল ইসলাম বিটু ছাড়া বাকি সবার নাম পুলিশের অভিযোগপত্রে রয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- শেরে বাংলা হলের ছাত্র আবু নওশাদ সাকিব, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ গালিব, মো. শাওন মিয়া, সাখাওয়াত ইকবাল অভি ও মো. ইসমাইল। আবরার হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থাকাসহ কয়েকটি অভিযোগে তাদের শাস্তি দেয়া হয়।
চলতি বছরের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েট শেরে বাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৗশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এরপর হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিশ^বিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের সাথে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনতে ছাত্র আন্দোলনের মুখে কার্যত অচল রয়েছে বুয়েট ক্যাম্পাস। হত্যার ঘটনায় আবরারের বাবার করা মামলায় গত ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের বাকি ২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অতীতে বিভিন্ন হলে র‌্যাগিংয়ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ও বুয়েট অধ্যাদেশে দলীয় ছাত্র রাজনীতি বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন