Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৭ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

যেকোন অপরাধের পেছনে আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট নেতাকর্মীরা জড়িত -ব্যারিস্টার মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৮:৩৮ পিএম

দেশের যে কোন অপরাধের পেছনে আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট নেতাকর্মীরা জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, নারী, শিশু ধর্ষণ, বাজার প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে তাদের সিন্ডিকেট জড়িত। সরকার তাদের দমন করতে পারে না। সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মানুষের জীবনে শান্তি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য তাদের পদত্যাগ করা উচিত এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনের ব্যবস্থা করা উচিত।

রোববার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচিত নয় বলে তাদের জবাবদিহিতা নেই। এজন্য নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক অর্থিৈনতক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবনতি ঘটেছে মূল্যবোধের অভাবে। সরকার জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয় না। সরকারের আমলে নির্বাচিত নয় বলে জবাবদিহিতা নাই বলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, সংসদ অকার্যকর। দেশে কুশাসন, দুঃশাসন দুর্নীতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। সরকার এই দুর্নীতির গর্ত থেকে বের হতে পারবে না যতই অভিযান করুক।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতারা চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, ক্যাসিনোর জন্য এদের বাইরে শত শত নেতাকর্মী আছে যারা এর সাথে জড়িত তাদের ধরবে না। আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের নেতারা পর্যন্ত অসম্ভব সম্পদশালী হয়ে গেছে। একদিকে মানুষ দরিদ্র, নিঃশ্ব, অন্যদিকে কিছু সংখ্যক মানুষের হাতে সম্পদ চলে গেছে। এজন্য সমাজে বৈষম্য দেখা দিয়েছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা নাই, হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। হলমার্ক, ডেসটিনি বিসমিল্লাহ গ্রুপ, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির বিচার এখনো হয়নি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিএনপির এই প্রবীণ আইনজীবী বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিচারকরা মুক্ত মনে বিচার করতে পারেন না। এজন্য খালেদা জিয়া এখনো জেলখানায় রয়েছেন। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, এখনো করছি জামিনে মুক্তি লাভের জন্য। কিন্তু সরকারের প্রভাবের কারণে বিলম্বিত হয়েছে সেটা হবে বলেও আমরা বিশ্বাস করি না। এজন্য আন্দোলনের প্রয়োজন। আন্দোলনের কর্মসূচি শিগগিরই দিয়ে, রাজপথে নামতে হবে, বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। চালের তো অভাব নাই তাহলে চালের দাম বাড়ছে কেন? কারা বাড়াচ্ছে তাদের লোকজন।

মহানগর দক্ষিন বিএনপিসাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম ও মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল্লাহ হাসানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, নাজিমউদ্দিন আলম, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সপু।

বিএনপির অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বজলুল বাসিত আনজু, নবী উল্লাহ নবী, সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, আনোয়ার হোসেন, সুলতানা আহমেদ, হাসান জাফির তুহিন, হেলেন জেরিন খান, আবদুর রহিম, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, রফিকুল আলম মজনু, শফিকুল আলম মিল্টন, এস এম জিলানী, ফখরুল ইসলাম রবিন বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে বিএনপির সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শিরিন সুলতানা, শাম্মী আখতার, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, এবিএম মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুল হক নান্নু, শামীমুর রহমান শামীম,আবদুল আউয়াল খান, আনিসুর রহমান তালুকদার, মামুন বিন আব্দুল মান্নানসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ব্যারিস্টার মওদুদ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ