Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১১ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

সারিয়াকান্দিতে গৃহহীন শতাধিক পরিবার : ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন

প্রকাশের সময় : ২৩ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মহসিন রাজু, বগুড়া থেকে : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর চলতি মৌসুমে অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কমপক্ষে শতাধিক পরিবার গৃহহীন ও শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। নদীভাঙনে দিশেহারা লোকজনেরা এখন তাদের ভাগ্যকে দুষছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চলতি বছরেও যমুনা নদীর ভাঙন অব্যাহত আছে, যদিও ভাঙন প্রতিরোধ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করছে। এত টাকা ব্যয় করার পরেও সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের মথুরাপাড়া বাজারের দক্ষিণ পাশ থেকে শুরু করে উপজেলা শেষ সীমানা কামালপুর ইউনিয়নে দড়িপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কি.মি. এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অব্যাহত ভাঙনে ফসলি জমি, বিভিন্ন স্কুল ও বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে ধলিরকান্দি, কর্ণিবাড়ী মরচা, বয়রাকান্দি, ঘুঘুমারি, শেখপাড়া, রৌহাদহ, ইছামারা ও দড়িপাড়া এলাকায়। এসব এলাকা থেকে প্রতিদিন ফসলি জমি, বসতভিটা নদী গ্রাস করছে। এছাড়া নদীভাঙনের কারণে নিজচন্দনবাইশা সরকাররি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নওখিলা পিএন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দনবাইশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর চন্দনবাইশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আয়েশা ওসমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রতিষ্ঠান গুলো এরই মধ্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও ঘুঘুমারি দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রৌহাদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীভাঙনের কারণে হুমকী মুখে পড়েছে।  অন্যদিতে ভাঙন ঠেকানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বালিভর্তি জিও বস্তা ফেলে যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ধলিরকান্দি থেকে শুরু করে রৌহাদহ-দড়িপাড়া পর্যন্ত ভাঙন ঠেকানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩ বছর মেয়াদী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এছাড়াও ৯টি প্যাকেজে একই উদ্দেশ্যে প্রায় ১২৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এই ৯টি প্যাকেজের কাজ চলতি বছরেই শেষ হচ্ছে। এরইমধ্য চলতি বছর থেকে একই উদ্দেশ্যে ২৬৩ কোটি টাকা প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। আগামী ৩ বছরের মধ্য এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য এসব প্যাকেজ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হলে উল্লেখিত এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধ ৯৫ ভাগ থেকে শুরু করে একেবারে শূন্য পয়েন্টে আনা সম্ভব। এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ৩ বছরে সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা, কুতুবপুর, কামালপুর ও বোহাইল ইউনিয়ন এলাকায় যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙনে কমপক্ষে ২-৩ কি.মি. এলাকা লোকালয়ের দিকে এগিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা এখনও নদী ভাঙনের অজানা আতঙ্কে ভুগছেন। চন্দনবাইশা এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ সাদত, ইকবাল কবির গামা, সমাজসেবক কুদরত-ই-খুদা চান ও আয়েশা বেগম জানান, নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য সরকার তো আমাদের এলাকায় বছর বছর কম টাকা খরচ করে না। বরাদ্দকৃত টাকার বস্তা যদি যমুনা নদীর ভাঙনের জন্য ফেলা হতো তবে নদীভাঙন অব্যশই বন্ধ হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের টাকা খরচ করার পরও নদী ভাঙন থামছে না। যার জন্য এলাকা মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষেত্রে নেমে এসেছে চরম দুর্বিষহ অবস্থা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মো. আবু সাঈদ জানান, যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন প্রতিরোধ একটি জটিল সমস্যা। তবে ৩ বছর মেয়াদী ২৬৩ কোটি টাকা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপজেলার ৫.৯ কি.মি. ভাঙন প্রবণ এলাকার নদীভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ