Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী

সীমান্তে বিজিবি সতর্কাবস্থায়, মহেশপুরে আরো ৪ জন আটক বাংলাভাষীদের ঠেলে পাঠাতে নানা কৌশলে বিএসএফ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৫ নভেম্বর, ২০১৯, ৬:১১ পিএম

ভারতের আসামে জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ (এনআরসি) চুড়ান্ত করায় বাংলাভাষী আটক অব্যাহত রয়েছে। সেখানে তল্লাশী চালিয়ে বাংলাভাষী নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক করা হচ্ছে। পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ সীমান্তে। ওপারের একাধিক সূত্র এই তথ্য দিয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তের ওপারে বাংলাভাষীদের ঠেলে পাঠাতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে বিএসএফ। রাতের আঁধারে কোন সীমান্ত দিয়ে কোন পন্থায় কীভাবে পাঠানো যায় সে ব্যাপারে ব্যাপক তৎপর রয়েছে। সোমবার ভোররাতেও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জলুলী সীমান্ত বিএসএফ ঠেলে পাঠিয়েছে। যা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিজিবি আটক করে মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করেছে। সূত্র জানায়, বেনাপোল, মহেশপুর, জীবননগরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপারে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বিএসএফ জড়ো করছে বাংলাভাষীদের।

সোমবার বিকালে ৪৯ বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল সেলিম রেজা দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, সীমান্তে ভারত থেকে অনুপ্রবেশরোধে বিজিবিকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। স্পেশাল অপারেশনেরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রাপ্তির ভিত্তিতে যখন যেখানে প্রয়োজন জরুরী ভিত্তিতে অপারেশন করা হবে। তিনি বলেন, সোমবার নতুন করে বেনাপোল সীমান্তপথে কাউকে ঠেলে দেয়নি বিএসএফ। বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মামুন খান জানান, বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে ২১ বিজিবর হাতে আটক ৩২জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে। বিজিবি সূত্র জানায়, বেনাপোল ও মহেশপুর সীমান্তে এ পর্যন্ত ৪৯বিজিবি, ২১ বিজিবি ও ৫৮ বিজিবি’র হাতে ৩শ’৩৫ জন অনুপ্রবেশকারী আটক হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে প্রবেশকালে আরো ৪ জনকে আটক করেছে বিজিবি। এদের মধ্যে দুই জন পুরুষ দুই জন নারী। এ নিয়ে ৫৮ ব্যাটালিয়ানের আওতায় ঝিনাইদহ সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের সময় মোট ২’শ ২৯ জনকে আটক করেছে বিজিবি। আটককৃতদের থানায় মামলার পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার ভোর রাতে উপজেলার জলুলী বিওপির মাঠপাড়া সীমান্ত থেকে তাদের আটক করা হয়। খালিশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়ানের পরিচালক লেঃ কর্নেল কামরুল আহসান জানান, গত রাতে জলুলী বিওপির মাঠপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ৪ জনকে আটক করা হয়। তাদেরকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে দীর্ঘদিন পর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাভাষী মুসলমানদের আসা নিয়ে তারা অনেকটাই উদ্বিগ্ন এবং অস্বস্তিতে আছেন। একজন চেয়ারম্যান জানান দশ/বার কিলোমিটার সীমান্তে কোন কাটা তারের বেড়া না থাকায় এবং নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে বিএসএফ দালাল চক্রের মাধ্যমে সুযোগমত তাদের বাংলাদেশের অভ্যান্তরে ঠেলে দিচ্ছে। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা গেছে, ভারতের মধুপুর, পুলিয়া, রাজপুল, রণঘাট, সোয়াদিয়া, হাবাসপুর, শালপাড়া, কুমারি, পাখিউড়া, সুতিপুর, ফতেপুর ও বাদুরঘাটাসহ বিভিন্ন বিএসএফ ক্যাম্পের আশেপাশে কমবেশি নারী, পুরুষকে জড়ো করা হচ্ছে যাদের অধিকাংশই দীর্ঘকাল ধরে ব্যাঙ্গালুর, আসাম,বম্বেসহ বিভিন্ন রাজ্যে বসবাস করতো।
খালিশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়ানের পরিচালক লেঃ কর্নেল কামরুল আহসান জানান, সীমান্তে বিজিবি তৎপর আছে। কোন প্রকারের অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সুযোগ নেই।
২১ দিন পর বাংলাদেশীর লাশ ফেরত দিল বিএসএফ
গুলি করে হত্যার ২১ দিন পর বাংলাদেশী আব্দুর রহিমের লাশ ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রোববার রাতে ৫৮ বিজিবির পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিবির পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার রাত ৯ টার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর বিওপির দায়িত্বপুর্ণ মেইন পিলারের নিকট থেকে বিজিবি ও বিএসএফ কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। পতাকা বৈঠক শেষে ভারতীয় পুলিশ মহেশপুর থানা পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। সেসময় স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বর, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ও নিহতের আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর মহেশপুর উপজেলার বাউলি গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুর রহিম ভারত অভ্যন্তরে গরু আনতে যায়। গরু নিয়ে ফেরার পথে ভারতের ৯৯ ব্যাটালিয়নের নারায়ণপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যদের সামনে পড়লে তারা আব্দুর রহিমকে গুলি করে হত্যা করে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন