Inqilab Logo

রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা চলে আসছে: মাহবুব তালুকদার

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ নভেম্বর, ২০১৯, ৭:০৫ পিএম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার বিরুদ্ধে ইসি সচিবালয়ের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না করার অভিযোগ তুলেছেন চার কমিশনার। পাশাপাশি ইসির সিনিয়র সচিবের ওপরও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই ক্ষোভের কথা জানিয়ে রবিবার (২৪ নভেম্বর) তারা সিইসিকে একটি ইউনোট (আন-অফিসিয়াল নোট) দিয়েছেন।


এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ অনিয়মের কারণে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা চলে আসছে, যা সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ও নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালি বিধিমালা সমর্থন করে না। অনেক ক্ষেত্রে সচিবালয়ের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে প্রায় সব ক্ষেত্রেই দায় বহন করতে হয়। এই অনভিপ্রেত অবস্থার অবসানের জন্য নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয়ে সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ও নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালি বিধিমালা কঠোরভাবে পরিপালন করা আবশ্যক। নির্বাচন কমিশন ও সচিবালয়ের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে কোনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘কমিশন সচিবালয়ের সাম্প্রতিক কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ১৩৫ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কিন্তু কারও বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি চিঠি দিয়ে বিশদভাবে জানতে চাই, কিছু প্রশ্নের জবাব চাই। জবাবে জানানো হয়, হাতের লেখায় অমিল বা পরিচয়পত্রে অমিলের কারণে মৌখিক পরীক্ষার সময় ওই ১৩৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়। প্রতারণার দায়ে তাদের মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। কারও কারও কাছ থেকে লিখিত স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।’

নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদকে চার কোটি আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে এই কমিশনার বলেন, ‘এই অর্থ প্রধান নির্বাচন কমিশনার অনুমোদন করলেও কতজন পরীক্ষককে কীভাবে এই টাকা দেওয়া হয় তার কোনও হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। নিয়োগ কমিটির সদস্যও এ বিষয়ে অবহিত নন। কমিশন সচিবালয় পরীক্ষা সম্পর্কে কিছুই জানে না। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ধরনের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ।’ 

তিনি আরও জানান, ‘গত ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় কমিশন সচিবালয় ওই নিয়োগ পরীক্ষা ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে কমিশনকে কোনও পর্যায়েই অবহিত করেনি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনাররা জানতে চাইলে জবাবে কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব জানান, নিয়োগ বা এ সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার-বহির্ভূত। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও তার বক্তব্য সমর্থন করেন। স্বাভাবিক কারণেই নির্বাচন কমিশনাররা ২৪ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি ইউনোট পাঠিয়েছেন। তারা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কাজের বিষয়ে কমিশনের এখতিয়ার সম্পর্কে অবহিত হতে চেয়েছেন।’


 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ