Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২ যাজকের ৪০ বছরের জেল

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৩০ পিএম

আর্জেন্টিনার মেনডোজা প্রদেশের একটি চার্চের স্কুলে বধির শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সে দেশের একটি আদালত রোমান ক্যাথলিক দু’জন যাজককে কমপক্ষে ৪০ বছরের জেল দিয়েছে। তারা হলো হোরাসিও করবাচো এবং নিকোলা কারাডি। একই সঙ্গে জেল হয়েছে ওই স্কুলের একজন মালির। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মেনডোজা প্রদেশের একটি স্কুলে শিশুদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৫ নভেম্বর) তাদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার সময় নির্যাতনের শিকার অনেক শিশুরাও আদালতে উপস্থিত ছিল। এমন একটি ঘটনা পোপ ফ্রাঁসিসের নিজের দেশ আর্জেন্টিনাকে চরমভাবে হতাশায় ডুবিয়েছে। অভিযোগ আছে, এই নির্যাতনের বিষয়টি চার্চ খুব ধীরগতিতে তদন্ত করেছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ সব অভিযোগের মুখে ক্যাথোলিক চার্চ।

গতকাল সোমবার মেনডোজা প্রদেশের রাজধানী মেনডোজায় একটি আদালত অভিযুক্ত আজেন্টিনার যাজক করবাচোকে ৪৫ বছরের জেল দিয়েছে। করবাচোর বয়স ৫৯ বছর। লুজান ডি সিউয়ো শহরে ইন্সটিটিউটো অ্যান্টোনিও প্রোভোলো ডি মেনডোজায় শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের জন্য অভিযুক্ত করা হয় করবাচোকে। অন্যদিকে ৪২ বছরের জেল দেয়া হয়েছে কারাডিকে। ৮৩ বছর বয়সী এই যাজক ইতালির নাগরিক। ইতালির ভেরোনায় একই ইন্সটিটিউটে’র স্কুলে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে তার বিরুদ্ধ। একই মামলায় ১৮ বছরের জেল হয়েছে লুজান ডি কিউয়ো স্কুলের মালি আরমান্ডো গোমেজের। এই শাস্তির বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না।
আদালত রায় ঘোষণার পর বিবাদীদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয় নি। তবে আদালতে নির্যাতিত শিশুদের অনেক মাকে দেখা গেছে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। অন্যদিকে রায়ের কথা শুনে আদালতের বাইরে উল্লাস করতে থাকেন তরুণ তরুণীরা। নির্যাতিত শিশুদের একজনের পিতা অ্যারিয়েল লিজারাগা। তিনি একটি কারখানায় কাজ করেন। তার মন্তব্য, এই বিচার আমাদের জন্য, সারা বিশ্বের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেই ধারণা আপনাদের নেই। নির্যাতনের এসব অভিযোগ গোপন করার চেষ্টা করছিল চার্চ। কিন্তু এই যাজকরা তো আমাদের শিশুদের ধর্ষণ করেছে। যৌন নির্যাতন করেছে। আমাদের শিশুরা বধির! এই রায়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত যাজকদের অপরাধের সমাপ্তি হলো।
বিবিসির ক্যান্ডাসে পিটি লিখেছেন, বিশ্বজুড়ে রোমান ক্যাথলিক চার্চে যৌন নির্যাতনের যেসব অভিযোগ আছে তাতে যুক্ত হলো এই রায়। এই ঘটনায় আর্জেন্টিনার মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত। এখানেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যাথলিক চার্চে বহু ডজন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। মেনডোজায় যেসব শিশু নির্যাতিত হয়েছে তাদেরকে প্রতীকী চিহ্ন ব্যবহার করে কি ঘটেছে তা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার না করতে বলা হয়। আদালত শুনানি করেছে কিভাবে ওইসব শিশু ধর্ষিত হয়েছিল। এখন আর্জেন্টিনার অধিবাসীরা জানতে চাইছেন, ওই স্কুলটি কেন ক্যাথলিক চার্চ থেকে বন্ধ করা হয় নি। কেন তা পুলিশ বা আইন ব্যবস্থাকে বন্ধ করতে হলো। কেন ধর্ষকদের বিচার থেকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছিল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আর্জেন্টিনা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ