Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৭ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সায়টিকার ব্যথা

আফতাব চৌধুরী | প্রকাশের সময় : ২৮ নভেম্বর, ২০১৯, ৮:৫২ পিএম

কোমরের নিচে দুদিকে দুটি সায়টিক নার্ভ থাকলেও ব্যথা শুরু হয় একদিকে। কোমরের পেছন দিক থেকে ব্যথা শুরু হয়ে নিচের পেছন দিকে নেমে যায়। হাঁচি কাশি হলে ব্যথা বেড়ে যায়। অনেক সময় চেয়ারে বা অন্য কিছুতে বসলেও ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আবার অনেক সময় ব্যথার বদলে পায়ের নিচের দিক অসাড় হয়ে যায়। হাঁটা চলা করতে অসুবিধা হয়। আচমকাই এই উপসর্গ শুরু হয় এবং অনেক সময় ব্যথা থেকেই যায়, উত্তরোত্তর ব্যথা বেড়ে চলে। কখনও ব্যথা সপ্তাহ খানেকের মধ্যে চলেও যেতে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি ৫০ জনের মধ্যে ১ জনের জীবনের কোনও না কোনও সময় সায়টিকার ব্যথার ভোগান্তি হয়। তাঁদের মধ্যে আবার এক চতুর্থাংশের ব্যথা ছয় সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে থাকে।

ওজন বেশি হলেও সায়টিকার ঝুঁকি বেশী হয়। মোটাসোটা চেহারার মানুষরা নাকি রোগের ডিপো হয়, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বারে বারেই এই সাবধানবাণী শোনায়। কিন্তু জানেন কি মোটা মানিব্যাগ সায়টিকার ব্যথা ডেকে আনে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এই সাবধানবাণী শুনিয়েছেন। ভারি ওয়ালেট হিপ পকেটে রাখলে সায়টিক নার্ভে চাপ পড়ে ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। সুতরাং মানি ব্যাগ থাকুক স্লিম অ্যান্ডট্রিম। নইলে বুক পকেট অথবা সামনের দিকের পকেটে ঠাই দিন একে।
সামনে ঝুঁকে ভারি জিনিস তুলবেন না। সায়টিকার ব্যথার প্রধান কারণ নার্ভে চাপ লাগা। সামনে ঝুঁকে ভারি জিনিস তুললে কশেরুকার মাঝখানের ডিস্ক স্লিপ করার ঝুঁকি বাড়ে। মুড়ে বসে জিনিস তুলুন। এছাড়া চোট লেগে অথবা মেরুদন্ডে টিউমার হলে, বা কোনও সংক্রমণ হলেও সায়টিকার ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে। ৯০ শতাংশ সায়টিকার ব্যথা সেরে যায় । সায়টিকার চিকিৎসা হিসাবে অনেক সময় সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সায়টিকার ব্যথা প্রচলিত চিকিৎসা আর সঙ্গে কিছু স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করে সারানো যায়। বাকিদের জন্যে আছে ইন্টারভেনশনাল পেন ম্যানেজমেন্ট। তবে তার আগে চিকিৎসক কয়েকটি পরীক্ষা করে দেখে নেন অসুখটি সত্যিই সায়টিকা কিনা। লেগ ড্রাইভিং, স্কোয়াট, গোড়ালি ও আঙ্গুলে ভর দিয়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দরকার হলে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করাতে হতে পারে। এরপর ইন্টারভেনশনাল পেন ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজনীয় পদ্ধতির সাহয্যে সায়টিকার ব্যথা সারানো হয়। এই চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর মধ্যে আছে ওজোন নিউক্লিওলাইসিস, সিলেকটিভ নার্ভ রুট ব্লক, পারকিউটেনিয়াস মাইক্রোডিসেক্টমি, রেডিওফ্রিকোয়েন্সি নিউরোটমি সহ নানান পদ্ধতি। কোন রোগীর জন্য কি চিকিৎসা প্রয়োজন তা নির্ভর করে রোগীর সামগ্রিক অবস্থার ওপর। এগুলোর কোনটিই কিন্তু সার্জারি নয়। তবে সঙ্গে কিছু এক্সারসাইজ করতেই হবে। সায়টিকা নার্ভ সুস্থ রাখার জন্যে ছোট থেকেই স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করলে সুস্থ থাকবেন।

সাংবাদিক-কলামিস্ট

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ