Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৪ মাঘ ১৪২৭, ০৪ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ৩:১০ পিএম | আপডেট : ৩:১১ পিএম, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯

প্রায় দুই মাস ধরে চলমান সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে চার শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল-মাহদি। গতকাল শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) লিখিত এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে জুমার নামাজকালে দেশটির জ্যেষ্ঠ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলী আল সিস্তানি গণবিক্ষোভ বন্ধ করতে সংসদ সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব আনার আহ্বান জানান। এর আগেও তিনি এ আহ্বান জানিয়েছিলেন। ধর্মীয় নেতার ওই ইচ্ছা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদেল আব্দুল-মাহদি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যেতে যতো দ্রæত সম্ভব আমি সংসদকে আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণের অনুরোধ জানাবো।
কবে নাগাদ আদেল আব্দুল-মাহদি পদত্যাগ করবেন, বিবৃতিতে তার উল্লেখ নেই। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী রোববার জরুরি ভিত্তিতে সংসদ বসবে বলে জানা গেছে।

এদিকে শুক্রবার আরেকটি রক্তক্ষয়ী দিন পার করেছে ইরাক। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে রাজধানী বাগদাদ এবং দক্ষিণাঞ্চলে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে অক্টোবরের প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সরকার পরিবর্তন না হলে এই পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধে রূপ নেবে বলে খুতবায় সতর্ক করে দেন সিসতানি।

৭৭ বছর বয়স্ক আব্দুল-মাহদি ২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। ক্ষমতায় আসার এক বছরের মাথায়ই বেকারত্ব, দুর্নীতি ও সরকারি সেবার দুরবস্থার কারণে জনঅসন্তোষে পড়তে হয় তার সরকারকে। দেশজুড়ে শুরু হয় সরকারবিরোধী আন্দোলন, যা পরে সহিংসতায় রূপ নেয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের এ ঘোষণাকে নাচ-গান ও উল্লাসের মাধ্যমে স্বাগত জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। তারা এটিকে বিক্ষোভকালে শহীদদের ও গণমানুষের বিজয় বলে অভিহিত করে।

চলতি বছরের ১ অক্টোবর কর্মসংস্থানের সুযোগ, দুর্নীতির অবসান ও উন্নত সেবার দাবিতে ইরাকে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে এ পর্যন্ত চার শতাধিক নিহত ও প্রায় ১৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। প্রথম দিকে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরবর্তীকালে ব্যাপক সহিংস হয়ে ওঠে এ বিক্ষোভ। এরই সূত্রে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষ হতে থাকে। এএফপি, এপি রয়টার্স।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইরাক


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ