Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার , ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সমষ্টিগত শাস্তির মতোই আমেরিকার আচরণ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাসনের মুখোমুখি-২

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

তবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সবকিছুই পাল্টে যায় যখন জনবহুল নিউইয়র্ক সিটির পাতাল রেলে বাড়িতে তৈরি পাইপ বোমা বিস্ফোরণের জন্য আহসানের ভাই আকায়েদকে গ্রেফতার করা হয়। নিস্ফল ওই হামলায় সেই ছিল আহত একমাত্র ব্যক্তি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশে উভয় পরিবারের সদস্যদেরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং তাদের কাউকেই ২৭ বছর বয়সী এই যুবকের সমর্থক বা কোন সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। আকায়েদকে ২০১৮ সালে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসবাদ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং ফেব্রæয়ারিতে তাকে সাজা দেয়া হবে।

৩০ বছর বয়সী আহসানের স্ত্রী শেরিন বলছিলেন, যেদিন আকায়েদকে গ্রেফতার করা হয় তার পুরে পরিবার তার কাজে হতবাক হয়ে গিয়েছিল। ‘কমপক্ষে তিন, চার মাস আমরা বিশ্বাসই করিনি, আমরা ভাবিনি যে, সে (আকায়েদ) এটা করতে সক্ষম’। আকায়েদকে গ্রেফতারের মুহূর্ত থেকে পরিবারের অন্য সদস্যরা বলছেন যে, আইন প্রয়োগকারীদের থেকে ছাড় পাওয়া সত্তে¡ও তারা পরিণতি দেখতে শুরু করেছেন।
আহসান তার ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে এবং এফবিআই তার ব্যবসায়িক লাইসেন্স আটকে রেখেছে বলে ব্যাংক থেকে একটি চিঠি পাওয়ার কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, উদ্বিগ্ন ক্লায়েন্টরা তাদের চুক্তি বাতিল করে। তার মা এবং ভাইবোনরা নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গাড়িগুলি নিয়মিত তাদের বিল্ডিংয়ের নিকটে এবং তাদের মসজিদসহ অন্যান্য জায়গাগুলিতে প্রায়শই পার্ক করতে দেখতে পেতেন, যা আগে কখনও দেখেছেন বলে মনে পড়ে না।

তারপর চলতি বছরের এপ্রিলে আহসান ডিএইচএসের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) থেকে নীল রঙের একটি চিঠি পান যাতে বলা হয় এজেন্সি তার মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করার পরিকল্পনা করছে এ কারণে যে, সেটি আইনানুগভাবে হয়নি।
আতঙ্কে, তার মা এবং ভাইবোনরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন, তবে শিগগিরই এমন খবর পেলেন যে, তাদের আবেদন কেবলমাত্র অস্বীকার করা হয়নি, বরং ডিএইচএস তাদের সবুজ কার্ড প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৬ নভেম্বর আহসান উল্লাহর মা এবং তার এক বোনকে দুই দিনের জন্য আটক করা হয়েছিল।
আটকাবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার দিন আহসানের ২২ বছর বয়সী বোন আইফা বলেছিলেন, ‘আমরা এই দেশের সাথে মানসিক ও শারীরিক বন্ধনে জড়িয়ে পড়েছি এবং এই দেশকে এত ভালবাসি। আপনি কীভাবে এমন একজনকে অস্বীকার করতে পারেন?’ পরিবারটি এখন এজেন্সির আদেশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা করছে।
গার্ডিয়ানের পর্যালোচনায় পরিবারকে দেয়া কাগজপত্রে ডিএইচএস দাবি করেছে যে, আহসান, তার মা এবং ভাইবোনদের চাচার সাথে কোনও আইনি বা জৈবিক সম্পর্ক নেই যার গ্রিন কার্ড লটারির মূল সাফল্য অন্যদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিল। পরিবারের পক্ষে আইনজীবিরা জানিয়েছেন যে, তারা তাদের সম্পর্ক প্রমাণের জন্য কাগজপত্র সংগ্রহ করছেন।

পরিবার এবং তাদের উকিলরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ সমষ্টিগত শাস্তির মতো। আহসান নিউ জার্সির হাডসন কাউন্টির আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার ঠিক আগে তার এক ফোনে বলেছিলেন, ‘সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির ডিএনএ ধারণ করায় এটিই প্রতিশোধ’।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমি শৈশব থেকে এখানে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে) আছি। আমার স্কুল এখানে, আমার কলেজ এখানে, আমার পরিবার এখানে, আমার ব্যবসা-বাণিজ্য, আমার বন্ধুরা এখানে, আমার ক্যারিয়ার এখানে, এখানেই আমার সব কিছু।’ ডিএইচএস পরিবারটির বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান। (চলবে)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাষ্ট্র


আরও
আরও পড়ুন