Inqilab Logo

রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৫ মুহাররম ১৪৪৪

খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার সুযোগ আছে -ড. কামাল হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৬:৫৬ পিএম

উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার সুযোগ আছে বলে মন্তব্য করেছেন ড. কামাল হোসেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা তার কাছে প্রশ্ন রাখলে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আপীল বিভাগে খালেদা জিয়ার যে মামলার শুনানী চলছে, এরকম মামলায় তার জামিন পাওয়ার সুযোগ আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা সুপ্রিম কোর্টের প্রবীন এই আইনজীবী বলেন, সুযোগ অবশ্যই আছে। আমি বলছি, সুযোগ অবশ্যই আছে। এর থেকে পরিস্কার করে কী বলব।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ড.কামাল বলেন, মানবিক কারণে জামিন পাওয়ার যোগ্য। আমাদের আজকের সভার সিদ্ধান্তে সেটা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।
এর আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সভায় কারাবন্দি সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয় এবং উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আমরা জানি যে, তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে দীর্ঘ ৬৬৪দিন কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। যে মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বিশেষ করে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আমরা তার আশু মুক্তির দাবি করছি। সভায় আমাদের প্রধান দাবি এটাই। আমরা মনে করি এই দাবি মানবিক এবং তিনি জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন।
মান্না বলেন, যদি কোনো কারণে তার প্রতি সুবিচার না করা হয়, অবিচার করা হয়, জামিন দেয়া না হয়, মুক্তি দেয়া না হয়। তাহলে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে তার জন্য এই সরকার সর্বোতভাবে দায়ী থাকবেন- এ ব্যাপারে আমরা সরকারকে সর্তক করছি।

খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের বিষয় অগ্রগতি জানতে চাইলে জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, আমরা গত ২২ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে দেখা করেছিলাম। উনি অত্যন্ত সরল মনে আমাদেরকে বললেন, উনার (খালেদা জিয়া) আত্বীয়-স্বজনসহ পরিবারের সবাই দেখা করছেন। আপনারা কেনো পারবেন না। অবশ্যই দেখা করতে পারবেন। তার অর্থ নীতিগতভাবে উনি আমাদেরকে দেখা করার অনুমতি দিয়ে দিয়েছেন। বললেন যে, শুধু আ্ইজি প্রিজনের কাছে আমি দায়িত্বটা দিচ্ছি যাতে অফিসিয়াল ফরমালেটিজটা মেনটেইন করা হয়। এই পর্যন্ত আইজি প্রিজন সাহেব কোন উত্তর দিচ্ছেন না। আমি বহুবার ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়েছি, তারা আমাদেরকে সদত্তোর দিতে পারে নাই। তার অর্থ বুঝতে পারছি তারা আমাদেরকে খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করার সুযোগ দিচ্ছেন না।
বিকাল সাড়ে ৪টায় মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হয়। ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে রব ও মান্না ছাড়া বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারার অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, জেএসডির মো. সিরাজ মিয়া ও গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



 

Show all comments
  • ** মজলুম জনতা ** ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৮:১২ পিএম says : 0
    তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কে জামিন দেওয়া সমায়ের দাবী।দেশের সংবিধান প্রনেতা ডঃকামাল হোসেন তিনি ও বলেছেন জামিন পাওয়ার যোগ্য।এ ছাড়া মানবিক বিবেচনায় জামিন পাইতে পারেন।
    Total Reply(0) Reply
  • Ma Mamun ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১১:১৬ পিএম says : 0
    Ami akhon jabin chai
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ড. কামাল হোসেন


আরও
আরও পড়ুন

মার্শাল আর্টে দেশসেরা কুরআনে হাফেজ নাসির

img_img-1660499512

তিনি পবিত্র কোরআনের হাফেজ। হেফজ শেষ করে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসেন মাদরাসায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে। পড়াশোনার পাশাপাশি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হাফেজ মোহাম্মদ আলীমুজ্জামান নাসির আগ্রহী ছিলেন শরীরচর্চায়। মার্শাল আর্ট ভালো লাগত তাঁর। মাদরাসার ছাত্র হয়ে মার্শাল আর্ট পছন্দ করার কথা বলতে পারছিলেন না কাউকেই। সাহস করে একদিন বড় ভাইকে কথাটা জানালে ভাই তাকে সমর্থন দেন। বড় ভাইয়ের চেষ্টায় ২০১৭ সালের দিকে ঢাকায় মেজবাহ আর্ট একাডেমিতে ভর্তি হন নাসির। সেখানে এস এম মেজবাহ উদ্দীনের তত্ত্বাবধানে শুরু করেন কঠোর অনুশীলন। নাসিরের প্রতিভা দেখে মেজবাহ উদ্দীন তাঁকে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেন। সে ম্যাচটি হারেন নাসির। এরপর তাঁকে হারাতে পেরেছেন খুব কম খেলোয়াড়। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে এখন তিনি মার্শাল আর্টে দেশসেরা। গত ৫ থেকে ৮ আগস্ট চার দিনব্যাপী ঢাকার পুরানা পল্টনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনেসিয়ামে বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট ফেডারেশন শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল স্মৃতি জাতীয় মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। এতে গোপালগঞ্জ স্পোর্টি ক্লাব, ঢাকা ক্রীড়া সংস্থা, নরসিংদী ক্রীড়া সংস্থা, বরিশাল ক্রীড়া সংস্থা, নোয়াখালী ক্রীড়া সংস্থা, গাজীপুর ক্রীড়া সংস্থা ও রংপুর ক্রীড়া সংস্থার ৬০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। সবাইকে পেছনে ফেলে দেশসেরা হন নাসির। গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে চারটি সোনা, পাঁচটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালের কিশোরগঞ্জের নেহাল পার্কে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় কুংফু প্রতিযোগিতায় দেশের ১৮টি জেলার ৬৫ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে স্বর্ণপদক পান নাসির। এরপর গত মার্চে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় তাইচি কুংফু প্রতিযোগিতায় ১৮টি জেলার ২০০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম হন তিনি। নিজের সাফল্যের মূল কৃতিত্ব পরিবারকেই দিলেন নাসির। বললেন, এই কৃতিত্বের পেছনে আমার বাবার অবদান অনেক। বাবা সব সময় আমাকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমার বড় ভাইও আমাকে নানা ধরনের সহযোগিতা করেছেন। মেজবাহ স্যার নিজের ছেলের মতো আমাকে গড়ে তুলেছেন। তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। নাসির আরও বলেন, প্রতিটি মানুষের জন্য মার্শাল আর্ট শেখা খুবই জরুরি। শরীরকে সুস্থ রাখা, মনোবল বাড়ানো, আত্মরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এ জন্যই আমি মার্শাল আর্ট পছন্দ করতাম। কিন্তু জাতীয় প্রতিযোগিতায় এত বেশি পদক পাব, কখনো ভাবিনি। নাসিরের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কাশিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আলী খোকন। বলেন, ছেলেটা আমাদের খায়েরহাট গ্রাম আর পুরো গোপালগঞ্জ জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। এ জন্য আমি এবং আমার ইউনিয়নবাসী আনন্দিত ও গর্বিত। আমার বিশ্বাস, আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে কুরআনে হাফেজ নাসির।  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ