Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৮ জানুয়ারী ২০২০, ০৪ মাঘ ১৪২৬, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাটিনোরা কেন চার্চ ছেড়ে ইসলামের দিকে আসছে-১

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৩:৪৫ পিএম

পুত্রকে নিয়ে ইউনিয়ন সিটির জনাকীর্ণ প্রার্থনা হলের সামনের দিকে হাঁটতে গিয়ে লুইস লোপেজ নার্ভের সাথে লড়াই করেছিলেন। ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য তারা একসাথে আরবীতে কলেমা শাহাদাত পড়েছিলেন। ‘আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ঈশ্বর নেই, এবং মুহাম্মদ (সা:) আল্লাহর রাসূল,’ তারা একসাথে মসজিদে ঘোষণা করেছিলেন, যেটি একসময় একটি কিউবান কমিউনিটি সেন্টার ছিল।

চার মাস আগে মুসলমান হিসেবে রূপান্তর ও ইসলামকে আলিঙ্গন লোপেজের জন্য শান্তির অনুভূতি নিয়ে আসে এবং প্রায় ২২ বছর আগে দলবদ্ধ সহিংসতায় শেষ হতে যাওয়া জীবন থেকে তিনি কতটা দূরে সরে এসেছেন তার স্বীকৃতি এনে দেয়। উত্তর বারজেনের ট্রাক চালক এবং প্রাক্তন পেশাদার বক্সার, ৪১ বছরের লোপেজ বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছিল মসজিদে আসুন, আপনি স্বাগত বোধ করবেন।’

তাদের ধর্মীয় যাত্রার মধ্য দিয়ে লোপেজ এবং তার ২১ বছরের ছেলে ল্যাটিনো জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান অংশে যোগ দিয়েছিল যারা খ্রিস্টধর্ম ছেড়ে ইসলামে যোগ দিচ্ছিল। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সমস্ত আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের মধ্যে প্রায় ৮% ল্যাটিনো, ২০১১ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় এক তৃতীয়াংশ বেড়েছে।

সাক্ষাৎকারে ধর্মান্তরিত ল্যাটিনোরা বলেছেন, তারা আল্লাহুর প্রতি নিবিড় নিষ্ঠা, সরল বিশ্বাস এবং সম্প্রদায়ের প্রতি মনোনিবেশ করার কারণে তারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন, যা তারা তাদের পূর্বের বিশ্বাসে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তবে তাদের ধর্মান্তরিত হওয়া প্রায়শই সহজ নয়, কারণ তাদেরকে পরিবার এবং তাদের খ্রিস্টান স্বজনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয়।

তারা এমন সময় ইসলামকে বেছে নিচ্ছে যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বক্তৃতা দিয়ে এবং অভিবাসন বন্ধ করতে ক্রমবর্ধমান হারে যেভাবে চাপ বাড়াচ্ছেন, তার দ্বারা ল্যাটিনো এবং মুসলমানরা উভয়েই নিজেদেরকে এর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বোধ করে। বিদ্বেষমূলক অপরাধ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তবুও কারও কারও মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংখ্যালঘু হয়ে বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা খুবই আকর্ষণীয়।

ছোটবেলায় পুয়ের্তো রিকো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসা লোপেজ বক্সিংয়ের সময় মুসলমানদের সাথে পরিচিত হয়েছিলেন। অনেকেই তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়েছিলেন। দু’টি ঘটনা তাকে তার জীবন পরিবর্তনের জন্য প্ররোচিত করেছিল, ১৯৯৭ সালে একটি গোষ্ঠীগত সংঘর্ষে ছুরির আঘাতে আহত হওয়া এবং এক বছর পরে তার ছেলের জন্ম। তার বন্ধুদের অনুরোধে তিনি একটি মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং ইসলাম সম্পর্কে পড়া শুরু করেন। তবে কয়েক বছর পরে তার ছেলেই ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে যা তাকেও শেষ পর্যন্ত প্ররোচিত করেছিল।

লোপেজের পুত্র, কলেজ ছাত্র লুইস, ক্যাথলিক চার্চে ব্যাপটাইজড হয়েছিলেন, যখন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের বিশ্বাস থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলেন। তিনি আধ্যাত্মিক জীবনের প্রতি টান অনুভব করেছিলেন। তিনি জানান, ইসলাম তার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছিল কারণ এটি কেবল এক ঈশ্বররের কাছে প্রার্থনা করতে বলে, যিশু বা কোন সেইন্টকে নয়।

জাতি, বর্ণ ও ধর্ম জার্নালের ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬০ জন ল্যাটিনো মুসলমানদের মধ্যে ধর্মান্তরের কারণ সমীক্ষায় শতকরা ৯৪ শতাংশ ল্যাটিনো মুসলমান জানান, ঈশ্বরের কাছে আরও প্রত্যক্ষ, আরও ব্যক্তিগত নিবেদনের কারণেই তারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন।

‘সেই প্রথম দিন থেকেই, মুসলমানরা যখন আমাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করতে দেখল, তারা খুবই আনন্দিত হয়েছিল। ধর্মান্তরিতদের জন্য তারা সত্যিই মন থেকে আনন্দ অনুভব করে।’, লোপেজ ছেলে বলেছিলেন।

তারা এমন এক সময় ইসলাম গ্রহণ করেছে যখন এর বিরুদ্ধে পক্ষপাত, বৈষম্য এবং ঘৃণ্য অপরাধ উদ্বেগে বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। পিতা এবং পুত্র উভয়ই বলেছিলেন যে মুসলমানদের ব্যাপকভাবে চরমপন্থী বা সন্ত্রাসবাদী হিসাবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা তারা বিশ্বাস করেননি।

২১ বছর বয়সী লুইস বলেছিলেন, ‘তারা যা চায় তা তারা বলতে পারে, কিন্তু আপনি সঠিক কাজ করছেন বলে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।’ (চলবে)

সূত্র: ইউএসএ টুডে

 



 

Show all comments
  • jack ali ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৭:০৬ পিএম says : 0
    May Allah [SWT] accept them and put them in Jannatul Ferdous inshaaAllah..Ameen
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাষ্ট্র

১৬ জানুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ