Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৮ জানুয়ারী ২০২০, ০৪ মাঘ ১৪২৬, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

পর্যটনে সুদিন কক্সবাজারে সৈকতে লাখো পর্যটক

শামসুল হক শারেক, কক্সবাজার থেকে | প্রকাশের সময় : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৩:৫০ পিএম

সারা দেশে প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ। এখনই বেড়ানোর সময়। পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার থাকে বরাবরই পর্যটকে ভরপুর। এবারো বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে এখন ভীড় করছে লাখো পর্যটক। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে চলতি পর্যটন মৌসুমেও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত থাকায় চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে কমপক্ষে ১০ লাখ পর্যটকের ঢল নামতে পারে।

এদিকে পর্যটকদের বরণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ও টুরিস্ট পুলিশ, হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস রেস্টহাউজ কর্তৃপক্ষ এবং ট্যুর অপারেটররা মৌসুমের শুরু থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। দেখা গেছে বিভিন্ন তারকা হোটেলগুলো সহ মাঝারি মানের হোটেল গুলোতে ও সাজগোজের কাজ শেষ করেছেন অনেক আগেই। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটক বরণে সাজানো হয়েছে বর্ণিল ছাতা চেয়ার ও রকমারি স্টল।
সৈকতের লাবনী পয়েন্ট, সীইন পয়েন্ট ও কলাতলীর ডলপিন পয়েন্ট ঘুরে দেখাগেছে হরেক রকম পর্যটকের উচ্ছাস ও মুক্ত ঘুরাফেরা। দেখাগেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক নজরদারী।

এমনিতেই মহান আল্লাহর অপরূপ সৃষ্টি কক্সবাজার। এর উপর বর্তমান শেখ হাসিনার সরকারের ২২ টি মেগা প্রকল্পে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে বদলে যাচ্ছে কক্সবাজারের চিত্র। এখন বাংলাদেশের সবচাইতে বেশি উন্নত এলাকায় পরিণত হতে যাচ্ছে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার। বলাযায় পর্যটন নগরী কক্সবাজার এখন দেশের পূর্বকোণে যেন আরেক সিঙ্গাপুর।

কক্সবাজারে আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, সাগরের অথৈ নীল জলরাশি আর সবুজ পাহাড় শৃঙ্গের মাঝখান দিয়ে দীর্ঘ ৮০ কিমি মেরিন ড্রাইভ সড়ক, সাগর বক্ষে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া, পাথুরে সৈকত ইনানী, হিমছড়ির ঝর্ণা ও পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। শহরের ঝাউতলা এলাকায় স্থাপিত পর্যটক আকর্ষণে সাগর তলের রহস্য নামে রেডিয়েন্ট ওয়ার্ল্ড ফিসে পর্যটকরা আঠার মত লেগে থাকেন সারা বছর। এছাড়াও হিমছড়ি এলাকায় স্থাপিত দেশের একমাত্র আধুনিক সামুদ্রিক মাৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট সব শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয় ও আকর্ষণীয়
স্থাপনা।
মহেশখালীর মাতারবাড়িতে স্থাপিত হতে যাচ্ছে গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজারে যুক্ত হচ্ছে রেললাইন। সম্প্রসারিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামছে আন্ততর্জাতিক রুটের বড় বড় বিমান। রামুতে আছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আকর্ষনীয় বৌদ্ধ মন্দির ও বিস্তীর্ণ রাবার বাগান। মহেশখালীতে আছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাচীন আদিনাথ মন্দির। এমনিতেই দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়া ভ্রমণ পিয়াসুদের জন্য খুবই আকর্ষণীয়। এছাড়াও সম্প্রতি উখিয়া-টেকনাফে অবস্থান রত ১৫ লাখের মত রোহিঙ্গাদের শিবির এখন পর্যটন স্থানে পরিণত হয়েছে।

কক্সবাজার শহরের সৌন্দর্য বর্ধনে ঐতিহ্যবাহী লালদিঘী, গোলদিঘী ও বাজারঘাটা পুকুর সংস্কার করে দৃষ্টি নন্দন করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ২৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের হলিডে মোড়-বাজারঘাটা, বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ২.৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারও প্রশস্ত করণ কাজ হাতে নিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

শত শত উন্নত মানের লাইট লাগিয়ে আলো ঝলমল করা হয়েছে পর্যটন শহর কক্সবাজার। মেরিন ড্রাইভ দিয়ে দরিয়া নগর হয়ে হিমছড়ি পর্যন্ত লাগানো হয়েছে শতাধিক উন্নত মানের লাইট এবং ৪ টি ভাষ্কর্য নির্মাণ ইতোমধ্যেই শেষ করেছে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি সড়ক ও জনপদ বিভাগ ২ শত ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের প্রবেশ দ্বার লিংক রোড থেকে সৈকতের লাবনী পয়েন্ট হয়ে ডায়াবেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত ৯.৬৪ কিমি সড়ক চার লেন করার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছে।

কক্সবাজারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবসময়ই স্থিতিশীল। তাই এখানে পর্যটন স্পটগুলোতে দেশী-বিদেশী পর্যটকরা নির্বিঘ্নে বিচরণ করতে কোন সমস্যা হয়না। নিরাপত্তা নিয়ে কাউকে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় না।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান জানান, কক্সবাজারের পর্যটন এলাকাগুলোতে টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধান ও আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে পুলিশের কোন প্রকার চেষ্টার কোন কমতি নেই। তাই কক্সবাজারে পর্যটকরা আসতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন এবং নিরাপদ বোধ করেন।

এদিকে কক্সবাজারের অর্ধডজন তারকা হোটেলসহ দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি পর্যটন মৌসুমে তাদের ভালোই বুকিং হয়েছে। বেশ আগে থেকেই হোটেল বুকিং শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে হোটেল ৫ তারকা হোটেল সীগালের সিইউ ইমরুল হাসান রুমী বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকায় এবারে পর্যটক আগমনের স্রোতটা ভালোই মনে হচ্ছে। আগে থেকেই বুকিং শুরু হয়েছে।

অপর পাঁচ তারকা হোটেল সায়মান বীচ রিসোর্ট এর ফ্রন্টডেক্স ম্যানেজার কামরুল হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, পর্যটক আগমনের স্রোত শুরু হয়েছে। তিনি গত বছরের চেয়েও চলতি পর্যটন মৌসুমে আরো বেশি পর্যটক আসবেন বলেই আশা করছেন। তবে রাস্তাঘাট আরো উন্নত হলে পর্যটকরা কক্সবাজার আসতে কমর্ফোট বা আনন্দ উপভোগ করবেন বলে আশা করেন।

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির নেতা আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন খুব ভালো। তাই এই পর্যটন মৌসুমে তিনি কক্সবাজারে দশ লক্ষাধিক পর্যটক আগমন ঘটবে বলে আশা করেন। তিনি আরো বলেন, সরকারের পাশাপাশি হোটেল-মোটেল রেস্টুরেন্ট মালিকরা এই বিশাল সংখ্যক পর্যটকের সেবা দেওয়ার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

পাশাপাশি ট্যুর অপারেটরদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার এবং আশপাশের পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই তারা বুকিং পেয়েছেন, বিশেষ করে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ও সোনাদিয়া ভ্রমণের জন্য তারা বেশ আগে থেকেই বুকিং পেয়েছেন।

এদিকে কক্সবাজারের লাখ লাখ পর্যটক আগমনকে ঘিরে কক্সবাজারের অর্থনীতিতে সৃষ্টি হচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্য। পর্যটন মৌসুমে এখানে বিভিন্ন খাতে
টার্ন ওভার হবে হাজার হাজার কোটি টাকা। এতে করে চাঙ্গা হয়ে উঠছে কক্সবাজারের সামগ্রীক অর্থনীতি।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, কক্সবাজারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এজন্য পর্যটকরা কক্সবাজার ভ্রমণে আনন্দ ও নিরাপদ বোধ করেন। জেলা প্রশাসন পুলিশ প্রশাসনসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকলেই পর্যটকদের সেবায় প্রস্তুত রয়েছেন বলে তিনি জানান।

কক্সবাজার সদরের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল এ প্রসঙ্গে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারকে বিশ্বের একটি অন্যতম উন্নত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এজন্য এখানে লাখ লাখ কোটি টাকা ব্যয় করে মহান আল্লাহতালার সৃষ্টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কক্সবাজারকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে চান বিশ্ববাসীর কাছে। তিনি দেশী বিদেশী পর্যটকদের নির্বিঘ্নে কক্সবাজার ভ্রমনের আহবান জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ