Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৭ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

রেলওয়ের কুমিল্লা অঞ্চল এক ডজন স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ

কমে গেছে কয়েকটি রুটে ট্রেন চলাচল

সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে : | প্রকাশের সময় : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

 প্রায় একযুগ ধরে রেলওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের এক ডজন স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ। পাশাপাশি এ অঞ্চলের দুইটি রুটে কয়েকটি ট্রেনের চলাচলও কমে গেছে। এ অবস্থার কারণে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি স্টেশন ঘিরে গড়ে ওঠা ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের জীবন জীবিকার চাকা থমকে গেছে। আর যাত্রী সাধারণের সমাগম না থাকায় বন্ধ হওয়া স্টেশনগুলো মাদকসেবী ও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এসব স্টেশনে কার্যক্রম না থাকায় বিনা টিকেটেই ট্রেন ভ্রমণ করছেন যাত্রীরা। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হাতছাড়া হচ্ছে সরকারের। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, ইঞ্জিন ও বগি এবং রেলে জনবলসহ নানা সঙ্কটের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

রেলওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের লাকসাম-নোয়াখালী, লাকসাম-চট্টগ্রাম, লাকসাম-আখাউড়া, লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের অন্তত ১২টি স্টেশনের সার্বিক কার্যক্রম প্রায় ১২ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে বন্ধ রয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশনগুলো হচ্ছে, লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের দৌলতগঞ্জ, খিলা, বিপুলাসার, বজরা। লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথের নাওটি। লাকসাম-আখাউড়া রেলপথের আলীশহর, ময়নামতি ও রাজাপুর। লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের শাহতলী, মৈশাদী, বলাখাল ও শাহরাস্তি। বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব স্টেশনে ট্রেনের টিকেট বিক্রি এবং মালামাল পরিবহনের বুকিং কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। এক সময় এসব স্টেশন যাত্রী সাধারণ, হকার, আশপাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাকডাকে সরগরম ছিল। এখন স্টেশনগুলোর বেশিরভাগ জায়গায়ই বেদখল হচ্ছে। স্টেশনের প্লাটফর্ম স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গোডাউন করে রেখেছেন। কোথাও গরু ছাগল চড়ছে। অনেক প্লাটফর্মে ধান শুকানো ও মাড়াইয়ের কাজও হয়। রাতের বেলায় মাদকসেবীদের আড্ডা আর যৌনকর্মীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এসব স্টেশন।

কেবল স্টেশনের কার্যক্রমই বন্ধ হয়নি, হয়েছে ট্রেন চলাচলও। লাকসাম-চাঁদপুর রুটে ১২টি ট্রেন চলাচল করত। বছর দুয়েক আগে এ রুটে দুইটি এবং ছয় মাস আগে আরো দুইটি ট্রেনের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আবার লাকসাম-নোয়াখালী রুটে ১২টি ট্রেনের মধ্যে বর্তমানে আটটি চলাচল করছে। এগুলোর বেশিরভাগই চলছে রাতের বেলায়। অন্যদিকে লাকসাম-চাঁদপুর রুটে এবং লাকসাম-নোয়াখালী রুটে ডেমু কমিউটারের দুইটি করে ও নোয়াখালী-লাকসাম রুটে নোয়াখালী লোকাল ট্রেন দুইটি বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রীরা অনেকেই জানান, এসব রুটে মানুষ ট্রেনে বেশি চলাচল করে। এখন ট্রেন কমে গেছে। বেশিরভাগ স্টেশনের কার্যক্রম না থাকায় যাত্রীরা সবদিক থেকে সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে। স্টেশন বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিনা টিকিটে ভ্রমণ করছে। এতে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।
রেলওয়ে কুমিল্লার ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) লিয়াকত আলী মজুমদার জানান, ইঞ্জিন ও বগি সঙ্কটের কারণে কয়েকটি রুটে ট্রেন কমে গেছে। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, স্টেশন মাস্টার, বুকিং সহকারী, পয়েন্টসম্যানসহ জনবল সঙ্কটের কারণে স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) বোরহান উদ্দিন জানান, আইনি জটিলতার কারণে অনেকগুলো নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় স্টেশনগুলোর কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ট্রেন চলাচল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ