Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

ভারতের মুসলমানদের জন্য বাংলাদেশও উদ্বিগ্ন: পাক প্রেসিডেন্ট

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৩:৫৫ পিএম | আপডেট : ৩:৫৫ পিএম, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

ভারতীয় মুসলমানদের নিয়ে শুধু পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশও উদ্বিগ্ন বলে মত প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর আরিফ আলভি। ভারতের সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট ১৯৫৫ এর সাম্প্রতিক সংশোধনীর ফলে বৈষম্যের শিকার হয়েছে দেশটির মুসলমানরা।

শুক্রবার তিনি তার বাসভবনে সউদী আরবের শুরা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন মোহাম্মেদ বিন ইবরাহিম আল-শেখের নেতৃত্বে একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের সময় আরিফ আলভি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি ভারতের বিহার রাজ্যের মুসলিমদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ তার দেশে এসব অভিবাসীর ঢুকে পড়ার আশঙ্কা আছে।’

পাকিস্তানি প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি মিয়া জাহাঙ্গীর ইকবাল বলেন, আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে হাসিনার সঙ্গে কথা হয় আলভির। এসময় হাসিনা ভারতের সিটিজেনশিপ অ্যাক্টের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের কথোপকথনের সময় উপস্থিত থাকা একটি সূত্র জানায়, ভারতীয় সরকার বিহারের মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিলে তারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করবে বলে আশঙ্কা শেখ হাসিনার।

সরকারি এক বিবৃতি অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি বলেছেন, মুসলিম উম্মাহ যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে তাতে সব সময়ই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে সউদী আরব। ভারতের মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা তিনি জেরালোভাবে তুলে ধরতে সউদী আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এরই মধ্যে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, ৪ঠা ডিসেম্বর ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপরিষদ নাগরিকত্ব সংশোধন বিলে স্বাক্ষর করেছে। এর অধীনে মুসলিমদের বাদ রেখে কিছু ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে। সংশোধিত বিলে নাগরিকত্ব নির্ধারণে বেশ কিছু বিধি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মগত বিষয়, নিবন্ধনের মাধ্যমে, প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে অথবা বংশগতভাবে। এই বিলটি যদি পাস হয় তাহলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসীদের ক্যাটেগরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিবর্তন হবে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দুটি রাষ্ট্র এক সময় ১৯৩৫ সালের গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্টে অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল।

মিটিংয়ে প্রকাশ করা হয়েছে যে, কাশ্মীরের দুর্দশার বিষয়ে মুসলিম দেশগুলোর একটি সম্মেলন করতে উদগ্রীব হয়ে আছে সউদী কর্তৃপক্ষ। কাশ্মীরের মানুষ চার মাসেরও বেশি সময় কারফিউয়ের মধ্যে রয়েছেন। প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সউদী আরব সমর্থন করে- এ বিষয়টি আবারো তুলে ধরেছেন সউদী আরবের শুরা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।

এদিকে, সউদী আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা একটি বৈঠক হয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। এ সময় পাকিস্তান ও সউদী আরবের পার্লামেন্টের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশংসা করেছেন সউদী প্রতিনিধিরা। শুরা কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের কাছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের করুণ মানবাধিকার ও মানবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন ইমরান খান। অমানবিকভাবে সেখানে গত ৫ই আগস্ট থেকে মানুষজনকে অবরুদ্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। ইমরান খান বলেছেন, দখলীকৃত কাশ্মীরে ভারতের ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিশ্বকে অবশ্যই মনোযোগ দিতে হবে। কাশ্মীরি মানুষের দুর্দশা কমিয়ে আনতে আমাদের সবাইকে সব রকম প্রচেষ্টা চালাতে হবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুল্যুশন অনুযায়ী কাশ্মীর সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসতে হবে। সূত্র: ডন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পাকিস্তান


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ