Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৬, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

ধর্ষিত-অগ্নিদগ্ধ ভারতের সেই নারীর মৃত্যু

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ধর্ষণ মামলার শুনানিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে অভিযুক্তদের দেওয়া আগুনের সঙ্গে ২ দিনের লড়াই শেষ হলো উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলার সেই নারীর। গত শুক্রবার রাত ১১টা ৪০ নাগাদ দিল্লির সফদরজং হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তার। একদিন আগে বৃহস্পতিবার আদালতে যাওয়ার পথে তাকে পুড়িয়ে মারা চেষ্টা করে ধর্ষণ মামলার অভিযুক্তরা। সে সময় চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের ৯০ শতাংশই পুড়ে গেছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, উন্নাও জেলার ওই নারী (২৩) চলতি বছরের মার্চে তার গ্রামের দুই পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছিলেন। শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার আদালতে যাচ্ছিলেন তিনি। বাড়ি থেকে বের হয়ে একটি ট্রেন স্টেশনে পৌঁছালে অভিযুক্ত শিবম ত্রিবেদীওসহ পাঁচজন তাকে জোর করে একটি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানেই তারা তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর পাঁচ দিন আগে শিবম জামিনে মুক্ত হয়। ধর্ষণের আরেক অভিযুক্ত শুভম ত্রিবেদীও ওই হামলাকারীদের মধ্যে ছিল বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লক্ষ্ণৌয়ের ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। পরে তাকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সফদরজং হাসপাতালের বার্নস অ্যান্ড প্লাস্টিক বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শলভ কুমার বলেন, ‘তিনি রাত ১১ টা ১০ নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং আমরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, তবে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে মারা যান তিনি।’

এর প্রতিবাদে সারা ভারতের সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন মহল। গতকাল সকালেই ভিকটিমের বাড়িতে ছুটে যান কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া তনয়া প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। তিনি বলেন, ভারত বিশ্বে ধর্ষণের রাজধানীতে পরিণত হয়েছে। উন্নাও নিয়ে সকালেই যোগী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘ন্যায় ও নিরাপত্তার জন্য লড়াই করতে করতে আরও এক মেয়ের মৃত্যু হল।’ দুপুরে কেরালার ওয়ানাডে জনসভায় কংগ্রেস সাংসদের নিশানায় ছিল কেন্দ্রীয় সরকার, ‘বিশ্বের কাছে ধর্ষণের রাজধানী ভারত। টুইট করে মমতা বলেন, ‘আক্ষেপ! নৃশংসতার কোনও সীমা থাকল না!’ প্রতিবাদ জানান। স্থানীয় সংসদ সদস্য যোগী আদিত্যনাথের দিকে সব ধরনের ক্ষোভের তীর। এই উন্নাওয়ে জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করে নভেম্বর অবধি মোট ৮৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুধু ১০০-র কাছাকাছি ধর্ষণ নয়, ২০০-র কাছাকাছি যৌন হেনস্থাও ঘটেছে এই এক বছরে।

ভারতে প্রায়শই যৌন সহিংসতার শিকার হয় নারীরা। ২০১৮ সালে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের এক জরিপ অনুযায়ী, নারীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ এটি। অ্যাকটিভিস্টরা বলছেন, নারীর বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। গত সপ্তাহে দেশটিতে বেশ কয়েকটি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। ঝাড়খÐে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন এক নারী আইনজীবী। রাজস্থানে ছয় বছরের এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদে ২৭ বছর বয়সী এক পশু চিকিৎসককে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। সূত্র : এনডিটিভি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ধর্ষণ

২২ জানুয়ারি, ২০২০
১৮ জানুয়ারি, ২০২০
১৭ জানুয়ারি, ২০২০
১৬ জানুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন