Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার , ২৭ জানুয়ারী ২০২০, ১৩ মাঘ ১৪২৬, ০১ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

কায়রো থেকে রাজধানী সরাচ্ছে মিশর

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১:৪৭ পিএম

মিশর সরকার খুব শীঘ্রই কায়রো থেকে রাজধানী সরিয়ে নিচ্ছে। এখনকার রাজধানী কায়রো থেকে ৫০ কিলোমিটার পূর্বে লোহিত সাগরের পাড়ে নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপিটাল নামে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশাল প্রকল্পের এই নতুন রাজধানী। রাষ্ট্রীয় একটি কোম্পানি এই রাজধানী গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করছে।

২০২০ সালের মাঝামাঝি নতুন রাজধানী চালু হবে বলে আশা করছেন দেশটির কর্মকর্তারা। বার্তা সংস্থা এপি’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে কানাডার অনলাইন দ্য গেøাব অ্যান্ড মেইল। এতে বলা হয়, মরুভূমির মধ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে ওই নতুন শহর। তবে কোন মরুভূমি সেটার নাম রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়নি। তবে যে কোম্পানিটি তা নির্মাণের কাজ পেয়েছে তার শতকরা ৫১ ভাগের মালিকানা সেনাবাহিনীর, বাকি ৪৯ শতাংশের মালিক দেশটির গৃহায়ণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সরকার বলছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তারা রাজধানী নতুন ওই শহরে স্থানান্তরিত করতে চায়। আগামী বছরের মাঝামাঝি তা সম্ভব হতে পারে। এ জন্য ৫৮০০ কোটি ডলারের বিশাল এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু বেশ বড় রকমের অর্থ সঙ্কটের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে এ প্রকল্পকে। বেশ কিছু বিনিয়োগকারী নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ার ফলে দেখা দিয়েছে আরো চ্যালেঞ্জ। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপিটাল ফর আরবান ডেভেলপমেন্ট নামের রিয়েল এস্টেট খাতের প্রধান মাগদি আমিন বলেছেন, এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৪০ হাজার ফেদান (১৬৮ বর্গকিলোমিটার) এলাকা। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়ে গেছে ১৭৫০০ ফেদান। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে আরো ৬০০০ ফেদান আমরা বিক্রি করার পরিকল্পনা নিয়েছি। বেশির ভাগ জমি বিক্রি করা হয়েছে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের কাছে।
এখন ওই প্রকল্পটিকে নাম দেয়া হয়েছে নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপিটাল। সরকার আশা করছে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার পর এর আয়তন হবে ৭০০ বর্গকিলোমিটার, যা প্রায় সিঙ্গাপুরের আয়তনের সমান। এখানে প্রথম দফায় কাজ সম্পন্ন হচ্ছে মন্ত্রণালয়গুলো, সরকারি ভবন, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক এলাকা এবং আবাসিক এলাকায়।
নতুন এই রাজধানী বাস্তবায়নে হাজার হাজার কোটি ডলারের সহায়তা পাওয়া গেছে বলে সরকার বলছে। কুয়েত, সৌদি আরব আর সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অর্থ দিয়েছে।
মিশর থেকে সংবাদদাতারা বলছেন, কায়রোর ভিড়, আর পরিবেশের ওপর চাপ কমাতেই নতুন এই রাজধানী তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শহরটির পরিকল্পনার সাথে জড়িত আলাব্বর নামের একজন কর্মকর্তা বলছেন, নতুন শহরটি হবে অনেক বেশি জনবান্ধব। কায়রোর ঐহিত্য ও নকশার উপর ভিত্তি করেই নতুন শহরটি তৈরি করা হচ্ছে এবং সেখানে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধাই থাকবে।
এই শহরটি তৈরি হলে তা মিশরের অর্থনীতির জন্য সুবাতাস আনবে বলে কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। কারণ সেখানে চার হাজারের বেশি নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। শহরটিতে হিথরোর চেয়ে বড় একটি বিমানবন্দরও থাকবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিশর

২০ অক্টোবর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন