Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দিতে ভারতে বিল পাস

বাংলায় কোনোদিন এসব হতে দেবো না : মমতা উত্তর-পূর্বে বিক্ষোভের আগুন, ২ দিন বন্ধ আসামে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ভারতের লোকসভায় পাস হয়ে গেল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। প্রত্যাশামতোই পেশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিল ঘিরে তুমুল হইচই হয় লোকসভায়। গতকাল আলোচনার জন্য বিলটি পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিলের একাধিক অংশ নিয়ে আপত্তি তোলে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা। বিলটি ‘অসাংবিধানিক’ বলে সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেসও। বিল ঘিরে হইচইয়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘হিটলারে’র সঙ্গে তুলনা করেন হায়দরাবাদের সাংসদ আসাউদ্দিন ওয়েইসি। পালটা হইচই জুড়ে দেন বিজেপি সাংসদরাও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের অবশ্য দাবি, ‘নাগরিকত্ব বিল মুসলিম বিরোধী নয়।’ তবে তুমুল হইহট্টগোলের জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপে বাধ্য হন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
গতকাল লোকসভায় বিলটি পেশের পরই শুরু হয় আলোচনা। কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘এই বিলটি সংখ্যালঘু স্বার্থবিরোধী’। যদিও জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ‘.০০১% এর জন্যও কোনও সংখ্যালঘুর বিরোধী নয় এই বিল।’ বিরোধীদের উদ্দেশে তার পালটা চ্যালেঞ্জ, ‘আমি এই বিল নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেব। তবে আপনাদের ওয়াকআউট করা চলবে না।’ বিলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় তৃণমূল কংগ্রেসও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ‘সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে এই বিল।’ সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সংবিধানের রচয়িতা আম্বেদকরের আদর্শের বিরোধী এই বিল!
এই প্রসঙ্গে বলতে উঠে এআইএমআইএম সাংসদ ওয়েইসি বলেন, ‘স্পিকার স্যারের কাছে আর্জি, এমন আইনের হাত থেকে দেশকে ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রক্ষা করুন। নয়ত ডেভিড বেন গুরিয়ন ও হিটলারের সঙ্গে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামও উচ্চারিত হবে।’ ওয়েইসির মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায় ট্রেজারি বেঞ্চের তরফে। তবে কার্যবিবরণী থেকে ওয়েইসির মন্তব্য বাদ দেয়ার নির্দেশের পাশাপাশি সাংসদদের সতর্ক করেন স্পিকার।
বিরোধীদের হইহট্টগোলের মধ্যেই বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। বলেন, ‘মুসলিমদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তা সর্বতই ভুল। ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বিলে সংশোধনী করা হয়নি।’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশের কোনও মুসলিম নাগরিক আমাদের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্বের আবেদন করলে আমরা তা বিবেচনা করব।’ একইসঙ্গে ওই দেশগুলিতে যে ‘হিন্দু, শিখ বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পার্সি ও জৈন’দের প্রতি ‘বৈষম্য’ করা হয়েছে, লোকসভায় দাঁড়িয়ে তাও বলেন অমিত শাহ। এমন ‘শরণার্থীদের নাগরকিত্ব দেয়া হবে’ বলেও জোর গলায় জানান তিনি।
গোটা সময়ে হইচই করতে থাকা কংগ্রেস সাংসদদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘আপনারা প্রশ্ন করছেন এই বিলের প্রয়োজনীয়তা কেন? স্বাধীনতার পর কংগ্রেস যদি ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ না করত, আজ আমাদের এই বিলের প্রয়োজন হত না।’
কয়েক দিন আগেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট। আজ স্পিকারের নির্দেশমতো, বিলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেন সাংসদরা। ২৯৩ জন যেখানে পক্ষে ভোট দিয়েছেন, সেখানে বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৮২টি।
বাংলায় কোনোদিন এসব হতে দেব না : মমতা
লোকসভায় সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল পাসের দিনই বাংলার মানুষকে অভয় দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খড়গপুরের এক সভায় এদিন তিনি বলেন, ‘এনআরসি আর সিএবি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।’
সোমবার খড়গপুরে সভার দিনই লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে তৃণমূল বিরোধিতা করে। বক্তব্য পেশ করেন সাংসদ সৌগত রায়।
এর আগেও একইভাবে এনআরসি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন মমতা। মুর্শিদাবাদে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘কিছু লোক বদমায়েশি করে এনআরসির নাম করে নানা ভাবে উত্যক্ত করছে আপনাদের। একটা কথা মনে রাখবেন, বাইরের আমদানি করা কোনও নেতার কথা বিশ্বাস করবেন না। সে হিন্দুই হোক, মুসলমানই হোক। বিশ্বাস করবেন আমরা যারা মাটিতে থেকে লড়াই করি, তারা আপনাদের পাশে আছি। বাংলায় এনআরসি হবে না। চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। আপনারা প্রত্যেকে এ দেশের নাগরিক। একটা লোককেও এখান থেকে বিতাড়িত করতে দেব না’।
মমতা আরও বলেছিলেন, ‘মনে রাখবেন আগুন যখন লাগে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, তফসিলি, আদিবাসী কেউ রেহাই পায় না। দাঙ্গা লাগলে সবার ঘরে আগুন লাগবে। বলেছিল একটা হিন্দুরও নাম বাদ যাবে না। আসামে দেখুন ১৯ লাখের মধ্যে ১৪ লাখ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ হয়েছে। মুসলমান, পাহাড়ি, রাজবংশী, বিহারিদের নাম বাদ পড়েছে। তারা সবাই অস্থায়ী জেলে রয়েছেন। বাংলায় এসব হয় না, হবে না। বাংলা আপনাদের জায়গা, মানবিকতার জায়গা, মানুষের জায়গা, মা-মাটি-মানুষের জায়গা, সভ্যতা, সংস্কৃতির জায়গা। ভয় পাবেন না’।
উত্তর-পূর্বে বিক্ষোভের আগুন, ২ দিন বন্ধ অসমে
নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল উত্তর-প‚র্বের রাজ্যগুলো। আসামসহ বিভিন্ন এলাকায় দু দিনের বন্ধের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। রাস্তায় নেমে চলছে সেøাগান, মিছিল। বিক্ষোভে সরব ছাত্রছাত্রীরা। ছাত্রদের সংগঠন নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে গোটা উত্তর-প‚র্বে বন্ধের ডাক দিয়েছে। সোমবার আসামে বন্ধের ডাক দেয় অল কোচ রাজবংশী স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, অল আসাম চুটিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এবং অল মোরান স্টুডেন্টস ইউনিয়ন।
একেআরএসইউ-র সাধারণ সম্পাদক গোকুল বর্মন জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে এবং দীর্ঘদিনের দাবি মেটানোর দাবিতে তাদের লড়াই। আসামের ৬ ওবিসি স¤প্রদায়ের মানুষকে এসটি তকমা দেয়ার দাবিতে দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। বর্মনের কথায়, ‘আমরা নাগরিকত্ব বিল চাই না। বিজেপির সরকার এই সা¤প্রদায়িক ও অসাংবিধানিক বিল পাশে এতটা তৎপর, অথচ আমাদের এসটি তকমা দেওয়ার প্রতিশ্রæতি রক্ষার ব্যাপারে তারা গড়িমসি করছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে সতর্ক করতেই এই বন্ধ। তারা বুঝুক দাবি না-মানলে আরও কত কঠিন দিন তাদের দেখতে হবে।’
অপরদিকে, গোটা উত্তর-প‚র্ব জুড়ে ডাকা বন্ধ আরও জোরদার হতে চলেছে মঙ্গলবার থেকে। কারণ এই বন্ধে প‚র্ণ সমর্থন দিয়েছে ৩০টি স্বশাসিত সংগঠন। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া ও কোলকাতা২৪।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন